Thursday, November 30, 2023

মহাজাগতিক

ইদানীং মনে হয় খুব তাড়াতাড়ি জীবন কেটে গেলো 
বোঝার আগেই হাতের মুঠোর বালিটুকু পড়ে গেলো 
প্রথমটা বেশ স্বপ্নের অঞ্জলি, প্রত্যাশা,কিছু আশা
আর তারপর শূন্য, তারপর আবার। 
বড্ড তাড়াহুড়ো, বড্ড তাড়াতাড়ি 
ভাইগ্রা  খাওয়া মানে একটা সসম্পুর্ণ সঙ্গম 
ভালোবাসা মানেই একে অপরের বিশ্বাস, অঙ্গীকার
আর সংসার মানেই শান্তি। 
.
একটা কম্পলিট সিলেবাসের বাইরে থাকা প্রশ্ন সময় 
তারথেকেও একটা ক্রিটিকাল উত্তর জীবন
মাঝখানে ঝোলানো দিন, প্রতিদিন আবার দিন।
উল্লেখ্য ভালোবাসা ঠোঁটে লেগে থাকে প্রতি মুহুর্ত 
জন্মদাগ ভেবে গোপনে লুকোতে চাই 
অবাক হয় গড়িয়ে পড়ে চোখের জল, 
দোষের নয় মোটেও, জলের গড়িয়ে নামাটাই প্রশ্রয়
শুধু নাকে লেগে যায় সোঁদা গন্ধ। 
এখন আর ভয় করে না, 
বারবার, বারংবার ঠকে যাবার পরে ভাবতে ইছে হয়
কষ্টগুলো বেশ মিষ্টি, ভীষন জড়াতে ইচ্ছে করে তোমায়
এই মহাজাগতিক শূন্যতায়
অথচ এক হৃদয় বারংবার ভাঙা বা জোড়া যায় না
একলা থাকতে হয় 
অপেক্ষায়,,,,,,,,,,,৷ 
.
মহাজাগতিক 
.. ঋষি


Tuesday, November 28, 2023

একদিন ঠিক দেখা হবে

একদিন ঠিক দেখা হয়ে যাবে 
সেদিন সারা কলকাতায় সোয়েটার গায়ে মানুষের ঠান্ডা ঘর 
খবরের পাতায় ,বাড়ি ফেরত বাস ,অটো লাইনের তুমুল আলোচনা 
কফির শহরে একান্ত শক্তি বাবুর প্রেমের কবিতা থেমে যাবে ,
ছেলেটা নাকি মেয়েটাকে ভালোবেসে পাগল হয়ে গেছে 
অনেকে হাসবে ,নিন্দুকেরা বলবে ভীষণ বোকা  
কেউ কেউ পাগলটার গায়ে থুথু দিয়ে বলবে 
কি নোংরা  । 
.
ঠিক তখনই
হলুদ ল্যাম্পপোস্টের নিচে শীতার্ত শহরে হেরে যাওয়া মানুষে মাঝে 
তুমি এসে দাঁড়াবে আমার সামনে ,
বুকে পাড় ভাঙবে,মুখের আরে আবোলতাবোল আবার উচ্চারিত তুমি 
ঠিক চিনতে পারবে ,চিনতে পারবে তো ?
.
কেউ  ক্লান্ত আর কেউ বা  ব্যর্থ তার হিসেব মনে থাকবে না
কত গান, কত ঠোঁট, কত হাত পার হয়ে যাবে ততদিনে
কত না-বলা কথা ,কত আফসোস দীর্ঘশ্বাসে তোমার ,
ক্যালেন্ডার আর চোখের কোলে তারিখ ভুল হবে 
সময় হাসবে। হাসবে গোটা কলকাতা।
আর পাগলটা দুহাত দিয়ে তোমার গলাটা জড়িয়ে বলবে 
তুই এসেছিস ,তুই .. ?
.
সেদিন দু'জনেই জিতে যাবে
                  অথবা হেরে। একদিন দেখা তো হবেই..
.
একদিন ঠিক দেখা হবে 
... ঋষি

Saturday, November 25, 2023

শুভ জন্মদিন শক্তি স্যার

দুর্দান্ত রাক্ষস মুহুর্তে জন্ম আমার
তাই শুধু খিদে, খিদে,খিদে,  মন ভরে না কিছুতেই 
এর দোষ বোধহয় সবটাই কবিতার,
একটা কবিতার রাক্ষস আমার বুকের ভিতর পাথর খেতে  শিখিয়েছে
হজম করতে শিখিয়েছে নষ্ট পালস্থলীর গল্প,
অদ্ভুত সেই শব্দগুচ্ছ, কবিতার মনন 
"বুকের ভেতরে কিছু পাথর থাকা ভাল–ধ্বনি দিলে প্রতিধ্বনি পাওয়া যায় "।
.
এই রাক্ষসটার অত্যাচারে আমার বহুরাত খাওয়া নেই
তবুও সেই রাক্ষসটার খিদে পেটে,
ঘুম থাকে না,ছেঁড়া চাটাইয়ে শুয়ে স্বপ্ন দেখি শব্দদের, 
শব্দদের বুনি, বাংলা নেশায় ভাসি, 
রাক্ষসটার মত পাগলের মতো ঘুরে বেরায় সত্যি মানুষের খোঁজে ছেঁড়া জুতো পরে
পথে, ঘাটে বসে থাকি খালি পেটে 
ভীষন খিদে,,, কবিতা।
.
রাক্ষসটা ভীষন কথা বলে, চোখ দিয়ে গিলে খায় জীবনের মন্দ, ভালো অন্তরিত বাঁচা, 
মানুষে ঘরে উঁকি মারে,অবনীর ঘরে যায় 
তার দুহাতে কালি,তবু তার সন্তান, সুখ,তবু সে সম্পর্ক খোঁজে
কিছুতেই সে যেতে চায় না, সময়ের ওপারে,
মরে গিয়েও থেকে গেছে আমাদের মতো রাক্ষসদের  মাথার নিউরনে। 
আজ দিনটা সেই কবিতার রাক্ষসের জন্মানোর। 
আমার কাছে রাক্ষস,হয়তো কবিতার ঈশ্বর, কিংবা কবিতার মানুষ যেন একটা প্রশ্ন

"অদ্ভুত ঈশ্বর এসে দাঁড়িয়েছেন, মৃন্ময় উঠোনে
একদিকে শিউলির স্তূপ,
                  অন্যদিকে দ্বাররুদ্ধ; প্রাণ
কার জন্যে এসেছেন- "
    .                
আমি জানি উত্তর 
কত বিপন্ন দশক চলে গেছে কবিতার খোঁজে
অথচ সেই রাক্ষসটা থেকে গেছে কবিতার পাতায়, মরেও মরে নি সে কবিতার শব্দে
ভাবনার নিউরোনে, সময়ের মনে,
এক অসীম শক্তিশালী কবিতার কলম সেই রাক্ষসকে সেলাম 
আর প্রার্থনা যদি তোমার মতো সত্যি কবিতা চিবিয়ে খেতে পারি । 
.
শুভ জন্মদিন শক্তি স্যার
.. ঋষি

Thursday, November 23, 2023

অগোছালো

আমি যে এখনও মানুষ হতে পারি নি 
আমি একটা অগোছালো লোক, প্রেমিক কিনা জানি না
তবে মানুষ নই, 
হয়তো দু:খ বিলাসী তাই হয়তো আমার খালি হাতে শুধুই  অকাজ 
হয়তো বড্ড ভীতু তাই বোধহয় দূর থেকে আনমনে দেখি তোমায় 
কেঁপে উঠি মধ্যরাতে মুহুর্ত যেন একটা অন্য বুক। 
.
সারাদিন, সারারাত ঘ্যান, ঘ্যান করি, বিরক্ত করি 
তাই বোধ হয় কান আসে না তোমার 
কানে জল বাড়ে, 
আমি অন্য বাসে উঠে পড়ি, পথ ভুল করি 
একলা গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকি তোমার চোখের কাজলে,
সন্ধ্যে হলে একা একা বাড়ি ফিরি 
কিছুতেই বিশ্বাস  করতে পারি না আমি কোথাও পোঁছোতে পারি নি। 
.
আমি ভুলে যাই আমার কোন মুহুর্ত  নেই 
কারণ মুহুর্তরা একলা হলেও কেউ তো থাকে সাথে,
আমি যে টুকরো টুকরো জ্যোৎস্না আঁকড়ে ঠাই দাঁড়াতে পারি তোমার অপেক্ষায়
তাই আমি  তাতেই খুশি থাকি,
কখনো ভাবি চলে যাবো খুব দূরে, তারপরই মনে হয় দুরেই তো আছি 
আর কত দূরে।
আজকাল আর কষ্টগুলো ছোঁয় না আমায় 
শুধু সাজানো গৃহকোনের বাইরে দাঁড়িয়ে তোমার ভালো থাকার অপেক্ষা করি 
হাসতে ইচ্ছে করে খুব 
পারি না, 
জানি এ শহরে আর মানুষের কাছে চিঠি আসে না আর
দিনকাল বদলেছে এখন মেল আর ওয়াটসাপ
আমি যে বদলাতে পারি না। 
.
অগোছালো 
... ঋষি 

Wednesday, November 22, 2023

উত্তর বদলায় প্রতিবারে

তৎপর হয়ে ওঠা জীবন ,কথারা ফুরোয় 
হঠাৎ রৌদ্র ভিজে দিনের পরে চিরপরিচিত বৃষ্টি 
না কথা থাকে না ,
সবটাই একটা মুহূর্তের পর পুড়তে থাকা ,যেন সিগারেটের ফিল্টার 
কলকাতা বদলায় রোজ ,কিন্তু দ্রুত বদলায় ক্যালেন্ডারের পাতা ,
যোগাযোগের কন্যাক্ট লিস্টে নতুন নাম বাড়তে থাকে সময়ের সাথে 
ট্রেনে ,বাসে আচমকা চেনা ,জানা মহিলা প্রায়শই বলে ব্যাগটা নতুন ? শান্তিনিকেতন  ?
কেউ দাঁড়ায় না 
শুধু উত্তর বদলায় প্রতিবারে। 
.
কখন কোন মুহূর্ত মনে নেই 
বুকের জঙ্গলে আগুনে পুড়তে থাকে প্রিয় মুখ 
নিয়ম করে কান্না পায় ,কি অন্যায় ? কি বাঁচা ? কি প্রহসন ?
সত্যি কি বদলানো যায় মিথ্যে সময়ের শরীরে নিজের মানুষ। 
মৃত্যুর পরে সব বদলায় ,বদলায় অলিগলি ,পুরোনো সোয়েটার 
পুরোনো আলমারি ,পুরোনো কবিতার বই 
না সত্যি কিছু ধরে রাখে যায় না। 
.
অদ্ভুত হলো  কবিতারা চিরকাল বোকা ,
যেন কোনো প্রিয় মুখ ,যা চিরকাল একা 
কবিতারা চিৎকার করে রোজ ফেসবুকে ,অন্য মাধ্যমে ,নন্দন চত্বরে
কিন্তু বুঝতে চায় না কেউ 
দিন বদলায় না ,কিছুই ধরে রাখা যায় না 
আগামীর সময় ,মুহূর্ত ,ঘড়ির কাঁটা তখন যন্ত্রণার।  
বোধহয় আগুনের পাশে দাঁড়িয়ে থাকে কবিতা
কিন্তু যারা কবিতা লেখে তারা দাঁড়ায় আগুনের মাঝে 
জানি তাদের  খুব  যন্ত্রনায় গলার কাছে কিছু জমে থাকে গোলাপাকিয়ে 
তাদের রক্তের শব্দরা অনেক কিছু বলতে চায়  ,
অথচ আগুনের মাঝখানে দাঁড়ানো মানুষ ভীষণ সুখী তখন 
আমি জানি এই কলকাতায় কবিতা লেখে ,পড়ে অনেকে 
হাততালি দেয় ,পিঠ থাবড়ায় ,ব্যবসা করে 
কিন্তু সত্যি কবিতা বোঝার লোক নেই শহরে। 
.
উত্তর বদলায় প্রতিবারে
... ঋষি

Tuesday, November 21, 2023

ছাপাখানা

সবিনয়ে নিবেদন
আমার রিংটোনে ইদানীং শহর বাজতে থাকে
মনে হয় এইতো,
আর তোমার কলারটিউনে তখন  বাজতে থাকে ফাঁকফোকর 
নির্দিষ্ট তাপাঙ্কের বাইরে দাঁড়িয়ে তোমার স্কেলিটনে
তখন বাজতে থাকে ক্রসপাজল। 
.
তোমার হাসির দমকে গভীর শহরের যখন সন্ত্রাস থেমে যায়
অবিশ্বাস্য মায়া নগরী তখন আলোর নিয়নে ভাসে, 
ক্লোজসার্কিটে জমতে থাকা দু:খগুলো হঠাৎ হেসে ওঠে
বুকের ব্যালনিতে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা তখন,
হাতের মুঠোফোন ভেসে ওঠে আনমনে
হঠাৎ কবিতারা প্রেয়সী হয়ে যায়। 
.
যারা বলে আমি কবিতা লিখি নি বহুদিন 
তাদের কাছে আমার আবেদন 
বুকের কাঁচ ভাঙে, শব্দ পায় না খোঁজখবর কিংবা কোনো ছাপাখানা, 
অন্ধকার ছোট্ট ঘরে কবিতারা খটখট প্রিন্টিংএর শব্দে তুমি হয়ে ওঠো অন্ধকারে।
প্রতিজন কবি কবিতায় ভালোবাসা খোঁজে
আর প্রেমিকা খোঁজে সারা শহর প্রেমিকের বিঠোফোন।
সারাদিন অজস্র রিংটোন, অজস্র মুঠোফোন কথা বলে
ভালোবাসা না ঘুমিয়ে পাহারায় থাকে মুহুর্তদের
অপেক্ষারা একলা কবিতা লিখে যায় সময় 
আমি ভাবি জীবন একটা কবিতা
আর শহরটা ছাপাখানা
খটখট খটখট। 
.
ছাপাখানা
.. ঋষি



Monday, November 20, 2023

গুডবাই

হঠাৎ স্তব্ধ হাওয়া 
হঠাৎ একটা অসুখের শহরে আমার মন কেমন 
বিচ্ছিন্নতা শুধু মাত্র মানসিক গোত্রান্তর নয় 
একটা দ্বীপ হারানোর গল্প ,
যেখানে নাবিক অনন্তের খোঁজে দূরবীন হারায় 
হারিয়ে ফেলে আতঙ্ক। 
.
ক্রমশ একটা সিরিয়াল কিলিং তোমার মাতৃতন্ত্রে 
তোমার মাতৃ জঠরে না জন্মানো শিশু ,
আফসোস এটা নয় যে গল্পটা লেখা হলো না 
সময় এটা নয় যে বেশ রসিয়ে পাঁঠার মাংস রান্না হলো 
শুধু দুঃখ এটাই নিমন্ত্রণের ঠিকানায় লেখা ছিল না জীবন 
ছিল মুহূর্তদের হঠাৎ কেটে যাওয়া। 
.
হঠাৎ স্তব্ধতার মাত্রা কোলাহল হীন ,পরিবর্তনহীন এই শহরে 
দরজার ওপাশে আজও একটা ফসিল দাঁড়িয়ে 
আর দরজার এপাশে হাতছানি। 
না কিছু বদলালো না 
আমি তোমাকে চিনি ,শুধু মানুষ বদলাবে 
বদলাবে পাশার দানে আবারও তোমার হাসির লহর 
আমি থাকবো না তো কি 
আবারো কোনো প্রেমিক তোমার সায়নাইটে মৃত্যুবরণ করবে 
উঠে দাঁড়িয়ে তখন অন্য তুমি 
আবারও হয়তো কাউকে বলবে ,গুডবাই। 
.
গুডবাই 
... ঋষি

Sunday, November 19, 2023

দমবন্ধ

সমস্ত দড়ি টানাটানি ,সমস্ত মুহূর্ত মুছে যায় 
তোমার বন্ধুরা বোধহয় ঠিক বলেছে 
এক্কাদোক্কা চাল 
একের পর এক ঘর ,সময় দুর্বল ,
ভালোবাসা পরে থাকে ঘরের বাইরে 
কোথাও দমবন্ধ করে। 
.
শেষ টুকরোর আস্ফালন 
জোর করে আঁকড়ে রাখা শেষ মাটি 
সত্যি কিছু থাকে না ,
সময়ের মুহূর্তরা ততক্ষন দামি যতক্ষণ তাসের ঘর 
সম্পর্কের সত্যি তাসের ঘর 
আর ভালোবাসা শেষ রক্তক্ষরণে তোমার মুখ। 
.
আজ আর কবিতায় লিখবো না তোমায় 
শুধু বয়ে যাওয়া মাইলফলকে চোখের নদীতে ঘুম পাড়ানি গান 
আর কোনো কবিতা লেখা হবে না ভালোবাসা 
শুধু অনেকটা যন্ত্রনা নিয়ে এইবার ফিরে আসতে হবে 
সময়ের পরে ,সময়ের আগে ,সময়ের ঘরে 
আমরা যে সকলেই বাধ্য 
জোর করে কিছু কি কখনো ধরে রাখা যায় 
তাকেও কি বোঝানো যায় 
ভালোবাসি শুধু পুরুষের নয় ,শুধু নারীর নয় 
সত্যি মানুষেরও হয়। 
.
দমবন্ধ 
.... ঋষি

Tuesday, November 14, 2023

অন্যদিন

.
গভীর রাতের গাঙচিল তুমি
আমি এক একটা হা হুতাশের রাত, নিস্পত্তি,
তোমার সোনালী ডানায় লেগে থাকে
পুরনো ধুলো ভরা ভুলে যাওয়া স্নেহ
আর আমি, তুমি,আমাদের বাইরে সকল চরিত্র 
বোধহয় ঘুমিয়ে তখন।
.
.
রক্তের গন্ধ ভেসে আসে, অভিমানী ভালোবাসা
বিছানা মাখামাখি অভিমানী সুখ
তুমি স্বচ্ছন্দ, উঠে দাঁড়াও, 
বন্ধ দরজার পিছনে ঝোলানো তোমার কাঁধের ব্যাগ 
যার ভিতর কবিতার লাইন, সময়ের ঘুম আর একটুকরো আমি
শুধু একমাত্র আমি ঘুমোয় না, জেগে থাকি। 
.
.
পথ যে শেষ হয় না
বুকের ওমে লেগে আছে গতদিনের দাঁতের দাগ
কেউ দেখে না 
শুধু সকাল সকাল ঘুম ভেঙে যায় বিরক্তিকর রাতের পর,
জানি সারা শহরের ব্যারিকেড মোড়া এক ভীষন অসুখ
আর আমি সুখের ভুলভুলাইয়াতে নিয়ন্ত্রিত প্রেমিক। 
.
.
শুধু একটা দিন ভালোবাসার জন্য
আমার প্রতি মুহুর্ত জ্বালিয়ে রাখা নিজেকে অন্ধকার সময়ে
তোমার চোখে সম্মোহনী ছায়া তাড়া করে,
আমি আর স্বার্থপর শিকড়  লিখতে চাই না
শুধু সারাবেলা মুটে হয়ে বয়ে বেড়ায় শুকনো পাতা
আবার একদিন অন্যদিনে তুমি আমাকে জ্বালাবে বলে।
.
অন্যদিন 
.. ঋষি 




Saturday, November 11, 2023

সময় বলে মেয়েটা

নরম তুলোর বালিশ ,বিছানা পেরিয়ে ধরা পড়ছে খরগোশটা 
চারিদিকে তুলো উড়ছে ,সাদা জ্যোৎস্ন্যা 
এই সময় আসন্ন শীতের লিপবাম,কোল্ডক্রিম  অদ্ভুত প্রশান্তি ,
মুখগুলো সাজতে চাইছে ,মিথ্যে মুখগুলো সাজছে 
আর আমি মিথ্যেবাদী 
হতবম্ব কবি 
আজ আমার কবিতাতেও থুথু ছেটায় সময় বলে মেয়েটা। 
.
কষ্ট হয় না ,শুধু বুকের বাঁদিকে খালি ঘরটায় পোস দিয়ে দাঁড়ায় মুহূর্ত 
কেউ একদিন ইনবক্সে বলে বেড়াতো মুহূর্তে বাঁচার কথা 
কেউ একদিন চুমু খেতে সময়কে আমন্ত্রিত করতো 
অথচ আজ ঘোর নিশা ,ঘোর  অন্ধকার 
তাকে দেখি স্বপ্নের খরগোশটার গলা টিপে দাঁত দিয়ে নলি ছিঁড়ছে 
মুখ দিয়ে তার রক্ত ঝরছে। 
সকলে বলছে জিও পাগলা ,কি অসাধারণ 
অথচ আমার মৃতদেহে আজ স্বপ্নের কবিতায় থুথু ছেটাচ্ছে সময় বলে মেয়েটা,
জানি সব বদলায় 
কিন্তু বদলায় না অবিশ্বাসের দোষরোপে মৃত প্রেম 
মৃত ভাবনারা ফিরে আসে 
শুধু নগ্নতা অন্ধকারে আলো হাঁতড়ে বেড়ায় 
চারিদিকে প্রদীপ জ্বলে ,বাজি পোড়ে ,মানুষ হাততালি দেয় 
কেউ বলে আরিব্বাস ,কেউ বা বলে দারুন ,দারুন
কিন্তু আমি জানি আজ সময় বলে মেয়েটা আমার কবিতার বুকে দাঁড়িয়ে 
থুথু ছিটিয়ে হাতে তুলে নেয় তার পুরোনো অস্ত্র।  
.
সময় বলে মেয়েটা 
... ঋষি

Friday, November 10, 2023

বেশ ভালো আছি

এইভাবে সময়ের গভীরতায় ঘর বেঁধেছিল হিরণ্যকশিপু মানুষের গভীরে 
মানুষের বুক ছিঁড়ে নখের আঁচড়ে তুলে এনেছিল সময়ের হৃদপিন্ড,কলিজা 
তাই সময় পরিবর্তনশীল ,
অথচ আজ যারা নিজেদের সময়কে পোড়ায় অগনতি অনন্ততায়
অথচ যাদের যৌবন পোড়ে নিতান্ত গেরোস্ত আগুনে  
তাদের সময় বড় অদ্ভুত 
  শুধু অনন্ত কোনো সাময়িকী। 
.
সব চিতা নিভে যায় নিয়মকরে 
শুধু রাবনের চিতা জ্বলে মানুষের বুকে 
খিদে ,ক্লান্তি ,অবসন্নতা ,আশ্রয়হীনতা ,মিথ্যা অহংকার 
কেমন যেন কতগুলো সময়ের পতাকা পতপত করে ওড়ে মানুষের মনে। 
ভালোবাসা মরে গিয়েও মরে না 
বেঁচে থাকে সময়ের যোগফলে ভালোবাসার জ্বলন্ত ফসিল ,
জ্বালায় ,পোড়ায় আবার সময়ের কবিতায় লিখে দেয় 
বেশ ভালো আছি। 
.
এইভাবে নদীর মতো বয়ে চলা মুহূর্তেরা চিৎকার করে 
হিরণ্যকশিপু মানুষের গভীরে একলা মরে 
অথচ বদলে চলে সময় 
আর শুধু সাময়িকী কেন যে মুখভার করে। 
.
বেশ ভালো আছি 
..ঋষি

Tuesday, November 7, 2023

mrutyu deo

কে আছো সময়ের মতো 
কে আছো ঈশ্বরের মতো 
কে আছো ভালোবাসার মতো 
সকলেই দাঁড়াও আমার সামনে 
আমি ক্রমশ জবাবদিহি আর দোষারোপের আগুনে পুড়ে যাচ্ছি 
সারা আকাশ জুড়ে কালো ধোঁয়ায়  আমার অপরাধ বোধ। 
.
কে আছো মানুষ আমার সামনে দাঁড়াও 
আমি পারছি না ক্রমশ নদীরে গভীরে নিজেকে লুকিয়ে মাছের চোখে দেখতে 
আর সহ্য করতে পারছি নিজেকে ,
ক্রমশ আমার সামনে দাঁড়িয়ে আছি 
দূরে দেখা যাচ্ছে  সমুদ্রে মাস্তুল ক্রমশ বিলীন জীবনের জন্মগুলো ,
পারছি না পাখির চোখে জ্বেলে নিতে শেষ ঠিকানা 
শুধু পাখির পালকের মতো খসে পরে যাচ্ছি। 
.
কে আছো মৃত্যুর মতো 
একবার দাঁড়াও এসে আমার সামনে 
যদি কান্নাতেও ,আমার সন্ন্যাসেও যদি আগুন না মেটে 
এখনো সময় , জ্বালিয়ে দেও ,
আগুনকে ভালোবাসে যারা 
তারা বড় অসহায় 
আর অসহ্য। 
সকলে আমাকে অভিশাপ দেও ,সকলে আমার মৃত্যু কামনা করো 
কে আছো প্রেমিক খুনি ,নব বধূ সাজে সময়ের মুখ ,প্রেমিকার ঠোঁট 
কে আছো আমাকে বৃষ্টির মতো কাঁদতে শেখাও 
দীর্ঘজীবনের স্বপ্ন দেখে কেন অন্ধ সময়ের জরায়ু থেকে জন্মের  স্বপ্ন দেখা  
মৃত্যু দেও 
মৃত্যু দেও এবার সকলে । 
.
মৃত্যু দেও 
... ঋষি

Saturday, November 4, 2023

আমি পালাতে থাকি

আমি পালাতে থাকি, দূরে,আরও দূরে
নষ্ট সময়ের পাশাপাশি বুকের বাঁদিকটা হঠাৎ খালি খালি
ভয় পাই, পালাতে থাকি, মানতে থাকি
নষ্ট ভীড়ে মুখ লুকোই,
আর কষ্ট যাতে আমাকে ছুঁতে না পারে
তাই যা ইচ্ছে তাই, নেশা দিয়ে কুলকুচি করি
নষ্ট সপ্নদের কাঁচে হাত কাটি শহরের রাস্তায়
চিৎকার ফুরোতে থাকে, ক্রমশ ক্ষীণ 
কেন যেন বড় তৃপ্ত লাগে। 
.
আমি চাই তুমি ভালো থাকো অনন্ত দিকচক্রবালে
একটা মুক্তির মতো পালাতে পালাতে শুনতে পাই হরি ধ্বনি 
না না আর না, কষ্টরা যাতে ছুঁতে না পারে
চিতাকাঠ যাতে ছুঁতে না পারে.. বাঁচতে চাই ।
আমি পালাতে থাকি
একটা শেকড়হীন পাথরের মতো একটা হৃদয় দরকার বুঝি
পাতা ঝড়া সময়ের ধুকপুক,
পিছনের সারা রাস্তা জুড়ে ছড়িয়ে থাকা মুহুর্ত 
আমি পালাতে থাকি।
.
আমি পালাতে থাকি
অথচ জানি যতই পালাই না কেনো কষ্টরা আমাকে ঠিক খুঁজে পাবে
আবারও হাঁটবে পাশাপাশি আঙুল জড়িয়ে
শেষ সময়ের স্তব্ধতার চাদরে আবার আমাকে জড়িয়ে নেবে।
আমি ক্রমশ তোমার বুকে ঘুমিয়ে পড়তে থাকবো তখন 
এক মনোরম মুহুর্ত, আর কোন শব্দ থাকবে না চারপাশে,
হারানো টুকরোগুলো তখন নীল আলো 
তুমি হাসছো ভীষন 
জানি না 
আবারও কেন ভালো লাগছে জীবন। 
.
আমি পালাতে থাকি
.. ঋষি 

Friday, November 3, 2023

চলন্তিকা তুমিও কি জেগে?

হঠাৎ স্বপ্নে পেয়েছি তোমায়
জিভ রেখেছি আখরোটের কিনারায় উপছে ওঠা  জ্যোৎস্না
তুমি বুঝতে পারছো চলন্তিকা, 
তুমি নিজস্ব ছন্দে ছটফট করে মধ্যরাতে আঁকড়ে ধরছো আকাশ
ধৈর্য আমদের কেমন এক স্কেলিটন বেয়ে আকাশ গিলছে
তুমি গভীরে আর গভীরতায়। 
.
ক্রমশ আকাশের নিচে মাটিতে তোমার হাত নিশপিশ করছে
উনুনে চাপানো হাঁড়ি থেকে ফ্যান গড়াচ্ছে
জানি খিদে পাচ্ছে তোমার, 
অথচ সময় বড় কম 
জানি একটা জীবন এভাবে কাটানো যায় না
তবু স্বপ্নে আমি দেখি 
এক রাক্ষসী বুকের উপর উঠে লোহা গরম করছে 
হাঁপড় টানছে
সারা রাত জুড়ে এক তৃপ্তি যেন গলন্ত লাভা অনুভবের ছন্দ। 
অসংখ্য টানাপোড়েন 
নিলজ্জ সভ্যাতার  নগ্ন মাটিতে আকাশ মিশে যাচ্ছে
ঘুম পাচ্ছে তবুও, না আসছে না
চলন্তিকা তুমিও কি জেগে? 
.
চলন্তিকা তুমিও কি জেগে? 
ঋষি 


সোয়েটার

অপরিহার্য বিশ্বাস 
অপরিহার্য আন্তরিক যোগফল একটা জীবন 
অনেক ছবি,অনেক মুহুর্ত, অজস্র ক্লিক
জীবনগুলো বোধহয় সকলের হাসে নিজস্ব পুরনো আলব্যামে, 
তারপর সব বদলাতে থাকে এই শহরে 
সব বদলাতে থাকে মুখোশের শহরে, রোজকার জীবনে,সম্পর্কের ব্যবহারিক রাস্তায়। 
.
ক্লান্ত লাগে
ক্লান্ত লাগে দারুন 
বিশ্বাসের ভীড়ে হারানো চেনা মুখ, অচেনা আয়না
হঠাৎ সুর বদল ঋতুর ভারাক্রান্ত ফটোফ্রেমে
পাশের জায়গাটা খালি চিরকাল। 
আমরা একটা অলীক কল্পনায় জীবন গোছাতে থাকি 
স্বপ্নে বুনতে থাকি জীবনের সোয়েটার 
শীত আসে,শীত যায় 
বেড়িয়ে পরে পুরনো আলমারি,পুরনো সুটকেস, 
খাটের তলায় বাক্স থেকে চাদর,সোয়েটার, মোজা
কিন্তু তেমন আর শীত পরে না কলকাতায় এই শহুরে জীবনে 
শুধু জীবনের সোয়েটারটা বোনা হয় না সকলের
বিশ্বাস হারিয়ে যায়
কিন্তু নি:শ্বাস বড় বেইমান 
তবুও চলতে থাকে। 
.
সোয়েটার
..ঋষি 

বাড়ি

হুট করে সরে আসার পর স্পর্শের আকাঙ্খা বাড়ে  আমাদের প্রত্যেকের আলাদা বাড়ি অথচ ঘর একটাই  সেই ভিতরের ঘরে বাড়তে থাকা আলাপ  আমাদের আরও কাছে আনে , ...