Wednesday, October 30, 2024

গালাগাল

কাল রাতে নবারুণ স্যার স্বপ্নে এসে উদোম গালাগাল দিল 
বললো হতভাগা ,তুইও ?
গালাগালগুলো তোমার মুখেও অবিকল একইরকম শুনেছিলাম 
তাই ঘাবড়ায় নি মোটেও 
মানুষের অভ্যেসের দাস ,আমি  ঘুরে দাঁড়িয়ে বললাম 
স্যার আমি পুরুষ ,আমার পুরুষ কামান জাগাটা কি অপরাধ ?
তোমাকে বললাম শুধু অভিমান হয় 
কারণ তোমার চোখে আমি পুরুষ রয়ে গেলাম। 
তারপর মাঝরাতের কবিতায় আমার ঘুম উড়ে গেলো 
আমি কবিতা লিখতে চাইলাম ,শব্দরাও গালাগাল দিল। 
.
নবারুণ স্যার বললেন কি লিখছিস এসব এসব এতদিন ধরে  
কবিতা না ছাইপাশ ?
তোমার মুখেও শুনেছিলাম তার আগেই অবিকল একই রকম 
তাই ঘাবড়ায় নি মোটেও
আমি সটান নবারুণ স্যারের চোখের দিকে তাকিয়ে বললাম 
আমি খুব সাধারণ  ,আমি কবিতা লিখতে চাই নি 
লিখতে চেয়েছিলাম দেশ ,মানুষ ,সময় ,ভালোবাসা আর জীবন 
আমি কোনো জ্ঞানপীঠ পুরস্কার কিংবা আনন্দ পুরস্কার পেতে চাই নি 
পেতে চাই নি কবিতার মঞ্চ ,বিজ্ঞাপন 
আর তোমাকে বলার ছিল চলন্তিকা 
আমি ধর্ষণ করি নি
আমি শুধু ধর্ষিতার বিচার চেয়েছি বারংবার কবিতায়। 
.
তারপর কি হলো জানি না ,মাথাটা গেলো বিগড়ে 
আমি নবারুণ স্যারকে সটান প্রশ্ন করলাম 
আচ্ছা বলুন তো এত বড় কবি সব  ,সাহিত্যিক সকলে 
প্রতিটা মঞ্চে ,প্রতিটা বিজ্ঞাপণে ,বইমেলায়। একাডেমিতে এত দাপট তাদের 
তিলোত্তমার বলে মেয়েটিকে ধর্ষণ করে খুন করা হলো 
 কিন্তু তারা কেউ প্রতিবাদ করলো না কেন ?
আমি তোমাকে প্রশ্ন করলাম আমি সত্যি না ওরা ?
নবারুণ স্যার আবার আমাকে  গালাগাল দিয়ে বললেন 
যারা চাটে তারা ইস্পাত লিখবে কি করে কবিতায় 
আর তুমি বললে তুই মিথ্যে তবে সত্যি শুধু আমার 
ভালোবাসতে চাই তোকে শুধু কবিতায়।  
.
গালাগাল 
... ঋষি

Tuesday, October 29, 2024

জারজ

সমস্ত দৃশ্য আর অদৃশ্যের মাঝে এক দেওয়াল
কবিতারা যেন কবুতর ছটফট করে 
আলো 
আলো
আলো
অথচ মৃত বৃহন্নলার ঘরে শরীর আঁকড়ায় 
হাঁটু গেড়ে বসে কিছু প্রাচীন স্বভাব। 
.
অভাবের ঘরে স্বভাব
খাঁচার ভিতর অচিন পাখি নীল আকাশে গায়ে
কবিতার দেওয়াল থেকে রোদচশমার আড়ালে
বয়স নিমন্ত্রন,
নিমন্ত্রন পুরনো ফুসফুস ঘেঁষে সিগারেটের দোষ
সময় এখানে বারুদের ঘরে বেঁচে থাকা
আর তোমার ঘরে শ্মশানের চিতা কাঠ। 
.
দৃশ্য অদৃশ্য খুঁজে ভালো আছি
ভালো আছি একটা রোগের মতো কিছু কাঠবেড়ালি যেন
সুস্থতা খুঁজি,খুঁজি তোমার ঠোঁটে হাসি
আর সমস্ত সংক্রমনের পরে বেঁচে থাকা
ভালো থাকা একটা রোগ। 
স্পিডমিটার ছুঁয়ে ১০০ কাঁটা পেড়িয়ে আগুন জ্বলে
বুকের ভিতর নিকোটিন ক্রমশ নির্ভরশীলতা
আমার প্রতিটা মৃত্যুর দায় তোমার,
সাদা পাতায় শান্তি ছাড়িয়ে একজোড়া কবুতর 
ছটফট করে
অথচ জীবনের এক্সরেপ্লেটে ধরা পড়ে ভালোবাসা জীবিত
কিন্তু তোমার ভ্রুণে আমি জারজ ও মৃত। 
.
জারজ 
... ঋষি 

ব্ল্যাকহোল

রাস্তার শেষ দেখা যায় না

গন্তব্য সেও ঘড়ির কাঁটার মতো বিরক্তিকর ইদানীং

ধুলোর মাঠ, কালবৈশাখী ,একলা বৃষ্টিতে অভ্যস্ত জীবন

মানুষ নেই, আমিও নেই

শুধু তুমি আছো ধারালো ছুড়ির মতো অপেক্ষায়,

তোমার বাড়ির দরজায় বারংবার ধাক্কা খেয়ে ফেরা

যেন কাঁচ ভাঙা কিন্তু জোড়া লাগে না।

.

অন্ধকারের ভেতর কোথাও তুমি ছিলে

আমি জানি অন্ধকার আসলে আলোর না থাকা,

তবু শব্দ শেষ হয়, ফসল উঠে যায় সময় মতো ঋতুতে

তবুও তুমি ফিরেও ফেরো না।

তোমার মুখের ছায়া আমার মধ্যে থেকে যায়

অথচ বাতাসের ছায়ায়, হাওয়ার বুকের নীচে ছেঁড়া পকেট

সেখানে তোমার কোনো ফেরা নেই। 

.

আমি সাজিয়ে গুছিয়ে নিজেকে মিথ্যা বলি

মিথ্যা বলা অপরাধ নয়

অপরাধ নয় নিয়ম করে যুদ্ধ থেকে হেরে ফেরা প্রতিদিন

কারণ নিজের সাথে যুদ্ধ করাটা একটা আর্ট

যেখানে উল্টো দিকে তুমি এক ব্ল্যাকহোল।

অন্ধকারের ভেতর তোমার ছায়া পড়ে

ছায়ার ভেতর আমি দেখি তোমার ছলছলে দুটি চোখ

যা আমাকে ঋণী করে যায়, 

তুমি ভাবো, বড্ড বেহায়া আমি তাই ফিরি বারংবার

আর আমি জানি আমি ফিরি কারণ

পথ আর গন্তব্য দুটোই ইদানীং বড্ড ছটফট করে।

.

ব্ল্যাকহোল 

... ঋষি 

Saturday, October 26, 2024

আমি বেঁচে

আমার চারিদিকে এত শব্দ
প্রায় স্বপ্ন দেখি আমি শব্দের মধ্যে দিয়ে হেঁটে চলেছি
এগিয়ে চলেছি কবিতার বইয়ের পাতায়
যেখানে ভাবনারা কল্পনা থেকে তুলে আনে রঙিন মানুষ
কিন্তু কবিতার শব্দদের কে যে দেয় রঙ? 
কে যে দেয় মুগ্ধতা এই ইট, কাঠ, পাথরের জীবনে। 
.
মাঝে মাঝে ভাবি পৃথিবী যদি গোলাকার না হলে কি হতো
তাহলে কি কেউ আর ফিরতে পারতো না, 
তাহলে কি ফিরে আসার অপেক্ষায় রাতের নক্ষত্র দেখবে বলে
কেউ কিনতো না আর টেলিস্কোপ?
কিংবা কবিতার বইয়েরপাতার ডলফিনটির মত
দিত না কেউ নীল জল থেকে বহুদূরের ডাক?
.
প্রায় স্বপ্ন দেখি খালি পায়ে জ্বলন্ত কাঠকয়লার উপর দিয়ে হাঁটছি    যাব
আমার পাশে আলতা পায়ে হাঁটছে কবিতা নামে সেই মেয়েটা
তার পায়ের মত আমার পায়েতেও ফুটেছে লাল রঙ
সেই আভায় ভরে যাচ্ছে আমার সন্ধ্যে হয়ে আসা ঘর।
মাঝে মাঝে ভাবি আমার ঘরের দেওয়াল জুড়ে হাজারদুয়ারী লিখবো
কখনো পেনসিলে, কখনো রক্তে
কখনো ছবিতে, কখনো গানে
কখনো ভালোবেসে,কখনো বা দ্রোহে
লিখবো মানুষের কবিতা, তোমার কবিতা 
বৃষ্টির নিষ্পাপ রঙহীন শব্দে লিখে দেবো সময়ের কবিতা। 
তারপর কান পেতে শুনি শব্দদের
এরা কেউ আমার কাছে কোলাহল নয়
সব যেন এক একটা না জন্মানো কবিতা 
কিংবা উপস্থিতি
আমি বেঁচে।
.
আমি বেঁচে
..ঋষি 

মুগ্ধ অনুরাগ

ছেলেটি মেয়েটিকে বলেছিল ভালোবাসি মেয়েটি বলেছিল রাজি তারপর বেলা গড়ালে, আটপৌরে হাওয়ায় উড়তে থাকা মন কিন্তু কতক্ষণে ? হায় রে প্রেম ! হায় রে মুগ্ধ অনুরাগ ! ভালোবাসা আজ বিছানা,বালিশ, শরীর ছাড়িয়ে পুরাতন কোন চমক নেই, কখন যেন একটা অভ্যেস পথ ভুলে নিয়ম হয়ে যায়। . মেয়েটি ছেলেটিকে বললো এই প্রেম চেয়েছিলে বুঝি ?গোনাগুনতি নিঃশ্বাসের জীবন ? শহরের রাস্তায় বারংবার বিষ জমানো বুকে আজ বেঁচে থাকা, খানিক আগেই,আশা অনুরাগে আকাশের পেঁজা তুলোর মতো মেঘ ভীষন বৃষ্টি মধ্যবিত্ত ফুটো ছাদের চাঁদ, প্রেম জানলা গলে যায়। . জীবনের আলখাল্লার গায়ে অসংখ্য ছেদ সেখানে বেহিসাবি প্রেম অগোছালো হতে হতে,এখন নিরুদ্দেশ এখন দিগন্ত বিস্তারি মাঠে অদ্ভুত বিষণ্ণ কোনও আলো আঁধারিতে ছেলে মেয়ে দুটি হাত ধরে হাঁটে, হাত ধরতেই হবে সেটা কথা নয় কথা হলো ভালোবাসলে হাত ধরতে হয়। ছেলেটি মেয়েটিকে বলেছিল ভালোবাসি আজ পশ্চিমে কালি মেঘে হঠাৎ মেয়েটা চিৎকার করে উঠলো তোমাকে ভালোবেসে জীবনটা শেষ হয়ে গেল কি পেয়েছি আমি? ছেলেটা মধ্যবিত্ত দেওয়ালের ক্যালেন্ডারের দিকে তাকিয়ে ভাবলো এ মাসের মাইনে পেতে অনেকটা দেরী। . মুগ্ধ অনুরাগ ঋষি


Thursday, October 24, 2024

আরেকটা নষ্ট কবিতা

সারাদিন গড়াগড়ি খাই
প্রিয় কবিতার বইটা তুলে নিয়ে অগছালো পড়ি
ঈশ্বর ছেনি নেয়, কুড়ুল নেয়, কাঁচি ও চিরুনি
হঠাৎ আমাকে ছোট করতে থাকে
কখন যেন পৌঁছে যাই আবার একটা জন্মাবার মুহুর্তে 
জন্মদিন, জন্মাবার দিন, পৃথিবীর মুখ দেখার দিন 
একটা শুরুর দিন। 
.
আজ জন্মের এত বছর পরে
একবার নিজের দিকে তাকিয়ে পরীক্ষা করি
ভিতরের আমিটাকে প্রশ্ন করি 
প্রশ্ন করি বেহায়া রিপুদের, নিজের ঈর্ষা, উচ্চাশাকে
প্রশ্ন করি ভাষা আর আগুনের আদিম সঙ্গমের সুরকে 
ঠিক কতটা মানুষ হতে পেরেছি ? 
ঠিক কতটা এই পৃথিবীকে,তোমাকে ভালোবাসতে পেরেছি ? 
.
বারবার গুনে দেখছি, ঠিক কটা জন্মদিন হলো
মা মানে না কারণ ছেলে তার এখনও শিশু
ছেলে  মানে না কারণ বাবা তার চির যুবক
চলন্তিকা ধুলো, মাছি,পতঙ্গের শোক ভুলে সাথে থাকে
তার বাড়িয়ে দেওয়া বুকে  আমার পাগলামী
ছঁয়ে থাকা তার দৃষ্টির সাথে মানিয়ে নেওয়া চোখ
সে আমার সময়ের মুশকিল আসান।
সারাদিন গড়াগড়ি খাই
জানি ঈশ্বরের অবস্থা ইদানীং  ভালো না
তার কারবার আর ততটা চলে না, 
তবু কবিতা জন্মের অহংকার আমাকে মুগ্ধ করে
তবু বাঁচিয়ে রাখে চলন্তিকা ছায়া এই শহরের আদরের ঘুমে
তবুও জন্মদিনে পাকতে থাকা চুল,ওষুধের প্রেস্ক্রিপসন
মনে করায়
ঈশ্বর আর শুকপাখি পায়নি খুঁজে ঠিকঠাক ঘর,
তবু এ জন্মদিন নেহাতই ইলিউশন
শরীরের প্রতি ভাঁজে লুকোনো আরেকটা নষ্ট কবিতা
হ্যাঁ আজ আমার জন্মদিন। 
.
আরেকটা নষ্ট কবিতা
... ঋষি 

Friday, October 18, 2024

মৃত্যুদন্ড



নিজেকে সুখী প্রমাণ করার জন্য আমরা কি না করি
সময়ের অপব্যবহার করে স্মৃতি কণা থেকে কুড়োয়
কয়েক ফোঁটা ভালো থাকা,
রঙিন ছবির স্টলে কাঞ্চনজঙ্ঘার দিকে তাকিয়ে অবিশ্বাসী পৃথিবীকে বলি
          ভালো আছি। 
.
নিজেকে ভালো রাখতে নিজেকেই কতটা মিথ্যে বলি
মরুভুমির গরম মাটিতে উটের পিঠে চড়ি
সবচেয়ে অপছন্দের মুহুর্তে  দেবশিশুর মতো হাসি
বরফের আটলান্টিকে সাঁটার কাটি আর বলি
জীবন কি সুন্দর
কি সুন্দর  কাঁকড়ার মতো আমরা পাশাপাশি হাঁটি ।
.
নিজেকে সুখী প্রমাণ করার জন্য আমরা কি না করি
শান্তি ভেবে দুরদুরান্তে হাজারো প্রাসাদ বানাই
ছুটি পেলেই লং ড্রাইভে কিংবা দূর মফসসলে, 
স্যুট-টাই আর নীল বেনারসি পরে বিবাহ-বাসরে  
আহ্লাদে আটত্রিশ পাটি দাঁত বের করি
তারপর ভাবি এই তো জীবন। 
.
নিজেকে ভালো রাখতে নিজেকেই কতটা মিথ্যে বলি
শেষ বয়সে ব্যাংক ও বীমায় জমিয়ে রাখি জীবন
তবু রাতের বিছানা বালিশ জানে
আমার বালিশে নেই তোমার চুলের গন্ধ,
তোমার বিছানায়ও নেই পুরুষের রঙিন দীর্ঘশ্বাস, ঘাম 
শুধু যুক্তি আর তর্কে নিজেদের ভালো রাখা ।
.
নিজেকে সুখী প্রমাণ করার জন্য আমরা কি না করি
এক একদিন মাঝরাতে নিজেরাই যুদ্ধে মরি
অতর্কিতে আমাদের ঘিরে ফেলে সত্যির দেবতারা, বাইবেলের পৃষ্ঠা থেকে নেমে আসা শয়তান মিথগুলো
মায়াবী হাসি আর আমাদের মিথ্যে ছবিদের অপরাধে যারা আমাদের আজীবন মৃত্যুদণ্ড দিতে চায় ।
.
মৃত্যুদন্ড
... ঋষি 

তুই পায়(২)

ইদানীং অসুখ হলে বড্ড বেশি তুই পায়
ইদানীং সুখের জানলা খুলে দু:খগুলো আসে, 
আসলে মানুষের অসুখের একটা জানলা থাকা দরকার
যেখানে দমকা হাওয়া আসে, যেখানে কবিতার  পাতাগুলো উড়তে থাকে
যেখানে আকাশের পাখিগুলোর সব মনখারাপ
সেখানে বড্ড বেশি তুই পায়। 
তখন চোখের পাতাগুলো ভারী হয়ে আসে 
দূরে কোথাও একটা ট্রেন যেন উল্টোমুখে ছোটে
ভাতের ফ্যান গালতে, নিজের কাপড় কাচতে শিখে যায় সময়
আমিও সবকিছুর পর হাজারো ফিসফিস শুনতে পাই 
একলা ঘরে শুনতে পাই তোর গলা
ইদানীং আমার অসুখ হলেই বড্ড বেশি তুই পায়। 
.
কত কথা মনে পড়ে, কত হাসি, কষ্ট হয় না আর
বারংবার মনে হয় হিসাবী হতে গিয়ে এতগুলো বছর কাটলো
তবু হিসেব মিললো কই,
শুধু তখন অভ্যাসগুলো কষ্ট হয়ে ফিরে আসে‌  
বুকের ভিতর ব্যথা নয় বরং জীবন থেকে দূরত্ব বেড়ে যায়। 
ইদানীং আমার অসুখ হলেই তুই আসিস
সমস্ত না-এর ব্যারিকেড ভেঙে মিশে থাকিস আমার বুকে
তখন অন্ধকার আমার প্রিয় হয়ে যায়
মনে হয় আর কীসের ভয়? 
শুধু চোখ বোজার অপেক্ষা। বাকিটা তুই সামলে নিবি। 
.
জানি প্রতিটা মানুষের একলা একটা জানলা থাকা দরকার
দরকার একটা শেষ ট্রেনের অপেক্ষা
সেই জানলা দিয়ে শীতল দমকা হাওয়া ঢুকুক
আমার ভীষন শীত করুক 
মনে হোক তুই দরকার, ভীষন দরকার 
আর স্যারিডন না 
বরং ব্যথার মাঝে তুই ছড়িয়ে পড়ুক
কি করবো ইদানীং আমার অসুখ হলেই বড্ড বেশি তুই পায়। 
.
তুই পায় (২)
..ঋষি 

স্পর্শ নয়

চলন্তিকা তুমি বলেছিলে
যে মানুষ বিপদে আগলাতে পারে না,পাশে থাকতেও না
তার তোমাকে ভালোবাসার অধিকার নেই,
আমি বিচলিত হয়েছিলাম কিন্তু বিষণ্ণ না
কারণ তুমি আমার শতবর্ষের তপস্যা,আমার ব্রত
আমার লেখা, আমার সৃষ্টিরা শুধু তুমি চলন্তিকা। 
.
চলন্তিকা তোমাকে  আঁকড়াই বলে 
আমার কলমের নিবে তুমি ভরা শরৎ এর মতো
যেন মৃৎ-শিল্পীর হাতের স্পর্শে তোমার মুর্তি,
অথচ বারংবার তোমায় লিখি কিন্তু মন ভরে না
কারণ তোমার মূর্তিটা হৃদয়ের ক্যানভাসে ঠিক লিখতে পারি না, 
তোমার অলৌকিক সৌন্দর্যকে প্রতিদিন প্রণাম করি
তোমার গভীরে যে অতল জলের রহস্য লুকোনো
তাকে নিত্যদিন স্পর্শ করি
কিন্তু কিছুতেই বুঝতে পারি না। 
.
আমার বাউন্ডুলে জীবন-যাপন 
একলা সন্ন্যাসীর মতো ব্যক্তিগত কল্পনায় তুমি 
এক রক্তক্ষয়ী ভালোবাসা, 
পৃথিবীর বর্বর পুরুষের মতো আমি পারি না
পারি না তোমায় হাতে পায়ে বেড়ি পরিয়ে দিবারাত্র তোমতে বীর্যপাত করতে।
আমি তোমার জন্য আমার হৃদয়ে শীতলপাটি বিছোই আমি বিশ্বাস করি 
এক অলোকময় সুবর্ণ-লগ্নে তুমি আসবে, 
সেদিন রবীন্দ্র-গানের মন্ত্র উচ্চারণ করে
তোমাকে আমি জড়িয়ে ধরবো,
কিন্তু সেই স্পর্শে কোন পাপ নেই, নেই কোন লোভ
শুধু অধিকার বাঁচবে সেদিন। 
তারপর এক পবিত্র সকালে চলন্তিকা তুমি ঘুম থেকে উঠে দেখবে ঠিক
তোমার পড়ার টেবিলে আমার কবিতারা অপেক্ষায়
আর  আমার কলম চুইয়ে তোমাকে ভালোবাসা
মোটেও স্পর্শ নয়, এক পুজো। 
..
স্পর্শ নয়
... ঋষি 


Thursday, October 17, 2024

আমার কবিতা তুমি



সময় এলে বোঝা যায় আয়নারা ও কত একা
কাঁচের পারদের পিছনে মুহুর্তগুলো ছটফট করে
গল্পগুলো বহু পুরাতন,
     তবু ঘেঁটে যাই বারংবার আমি
যখন গল্পের চরিত্রগুলো স্মৃতি থেকে উঠে মুখ ভেংচায়
তখন হঠাৎ তোমায় মনে পরে।
.
তখন হঠাৎ স্মৃতির ভিতর অসময়ের বৃষ্টি
বৃষ্টিতে ভেসে যাওয়া এক হাঁটু জলের ভিতর জীবন তখন শহরটা ভীষণ একলা,
তখন তুমি জল টপকে আমার দিকে এগিয়ে আসো
যেন এই হাভাতে শহরে ছড়িয়ে পড়া ভাতের গন্ধ
যেন একটা অসুখ কিংবা সুখ
বুঝি না ঠিক 
শুধু বুঝি তুমি তো আমার কবিতা।
.
নিয়ম করে গীতবিতান খুলে বসি 
রাত বারলে বেবাক জীবন একলা লোকাল ট্রেনের মত
স্টেশন ছাড়ে আবার স্টেশনে, 
যেন বেলুনের মত উড়তে থাকা কষ্ট ফানুশ
যেন সুখ পাখি তখন তোমার গন্ধে,ছেঁড়া অজুহাতে
জাম মাপে, খিল্লী হাসি তে.....  
.
আমার কবিতা তুমি
...ঋষি 

Monday, October 14, 2024

এক নগ্ন বিসর্জন



গত কয়েকদিন শহর ঢলে পড়েছিল রাস্তায় ঠিক
তবু প্রতিবাদ থামে নি
মানুষের মুশকিল, মানুষের মায়া বরাবর অক্ষমতা
তবু প্রতিবাদ থামে নি,
উৎসবে ছিলাম, উৎসবেই আছি, উৎসবের আজ ৬৬ দিন
তবু তিলোত্তমার বিচার এখনও আসে নি। 
.
আমাদের মুখোমুখি আজ আমরা 
ভুলি নি,ছাড়বো না , সারা শহরে টাঙানো প্রতিবাদ 
WE WANT JUSTICE। 
.
অনুষ্টুপ,তনয়রা আজ রাস্তায়
রাস্তায় আজও আমরা,
আসলে সত্যি হলো ব্যথারাও সংযম বোঝে
তাই তনয়াদের নি:শ্বাসগুলো আজ আগুনে
এই গভীর নির্যাস থেকে ধুলোবালি ঘেঁটে
তাদের মৃত্যুমুখী প্রতিবাদে শহর রাত জাগুনে । 
.
জানি শরীরে আয়ুযোগ থেকে ব্যথারাও আজ দাপুটে 
হৃদয়ে প্রতিবাদ এলে কষ্টরাও বন্ধু 
কে যেন আজ বলছে এই সময়ের ঘরদোর থেকে
কে যেন চিৎকার করছে ভাঙাচোরা মন্ডপের থেকে
কে যেন জাগছে গলে যাওয়া দেবীর চালচিত্র থেকে
একটা ভাঙাচোরা রক্তমাখা মায়ের মুখ
এই সমাজের পাঁকে ডোবা নষ্ট কাঠামো থেকে
এক নগ্ন বিসর্জন
কারণ মেয়েটা আজও ফেরে নি । 
.
তাই উৎসবের আঙিনা থেকে বলছি
তাই অনুষ্টুপ,তনয়াদের পাশে দাঁড়িয়ে বলছি
তাই রাস্তায় দাঁড়ানো মানুষের মাঝখান থেকে বলছি
শুভ বিজয়ার কার্নিভাল থেকে বিজ্ঞাপন জারি থাকলেও
শুভ বিজয়া এখন বলবো না
             ব ল বো
  WE WANT JUSTICE। 
.
এক নগ্ন বিসর্জন
... ঋষি 



বাড়ি

হুট করে সরে আসার পর স্পর্শের আকাঙ্খা বাড়ে  আমাদের প্রত্যেকের আলাদা বাড়ি অথচ ঘর একটাই  সেই ভিতরের ঘরে বাড়তে থাকা আলাপ  আমাদের আরও কাছে আনে , ...