Friday, November 29, 2024

কবি

কবিদের সত্যি কোন সময় হয় না কবিতার
কবিদের নারী হয়, পাঠকপাঠিকা হয়, প্রেমিকা হয়
কিন্তু নক্ষত্রের মতো কবিদের আকাশ জুড়ে শুধু দু:খ,
আসলে কবিদের দুঃখ কেউ বোঝে না
অথচ দুঃখ থাকে,দুঃখই থেকে যায় গভীরে
তাই কবিতা আসে
তাই আসে কবিতার শব্দরা আগুনের স্পর্শের মতো
আর একটা জ্যান্ত জীবন এ ভাবে কবিতা হয়ে যায়।
.
এরপর শহরটা ঝাঁপিয়ে পড়ে একদিন
গড়িয়াহাট থেকে একের পর এক বাস উন্মাদপ্রায় একটিও না ধরে দাঁড়িয়ে থাকে কবি একলা
মানুষ দেখে,সময় মাপে,হাতড়ায় কবিতার শব্দদের,
কেউ কেউ আবার আধাশীত গায়ে নন্দনে কবিতায় 
কেউ আবার সম্পর্কের সময়ের অভিশাপ লেখে
আসলে তারা সকলেই কবিতা চায়
কবি হতে চায় তার অধিকাংশ। 
.
দক্ষিণেশ্বরের খাঁ খাঁ সান্ধ্য-স্টেশন থেকে নাগেরবাজার হাজারো চীৎকার, থইথই মানুষের ভিড়
সেই সান্ধ্য নিস্তব্ধ স্টেশন থেকে কবিতা আসে
কবিতা আসে সেই চীৎকার আর ভীড়ের ভিতর দিয়ে , 
কফিহাউজের সিঁড়ি বেয়ে কবিতারা একজোট হয়
মানুষের মিছিলের দেওয়ালে কবিতারা প্রতিবাদী
এ যেন এক পাগল প্রেম
এ যেন এক তীর্থ, এক ঈশ্বর, এক বাঁচা।
.
কবিতাগুলো সদা সর্বদা নির্লজ্জ
ভালোবাসার মানুষ চলে গেলে গা ঘেঁষে বসে 
ভালোবাসার মানুষ কাছে এলে নগ্ন হয়ে যায়
কবিতাগুলো সদা সর্বদা সময়ের
রাস্তায় নেমে শ্রমিকের পাশে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে
প্রতিটা লাঞ্চিত ঘটনার মাথায় হাত রাখে।
কবি হতে গিয়ে কতজন যে প্রেমিকা হয়ে যায় 
অথচ প্রেমিক হতে গিয়ে কতজন যে কবি
সে এক ইতিহাস, 
কেউ কবি হবার অভিশাপ নিয়ে হেঁটে যায় রাস্তায়
কেউ কবিতার আশীর্বাদে পাগল হয়ে যায়
আসলে এভাবে একটা জ্যান্ত জীবন কবি হয়ে যায়।
.
কবি
... ঋষি 

Wednesday, November 27, 2024

তোমাকে চাই

তুমি তুমি তুমি,শুধু তোমাকে চাই
স্ক্রিনশটে নীল আকাশের মাঝে একবিন্দু জমি 
শুধু তোমাকে চাই,
আমার আগামী আগুনে ঘি দেওয়া মৃত্যুর মুহুর্তে
একান্ত তোমার কবিতার পাতায় জ্বালাপোড়া অভিমানে 
শুধু তোমাকে চাই। 
.
বিশেষ কিছুই নয়
এমন কর্মব্যস্ত শহরে আচমকা দেখা হওয়ার মরশুমে
তুমি, শুধু তোমাকে চাই
বাইরে  একটা গোটা পৃথিবী প্রচণ্ড কোলাহল
আর ভুলে ভরা সম্পর্কের  কোষাগারে, মুক্তি
শুধু তোমাকে চাই।
.
কোনও বর্তমান কিংবা ভবিষ্যত নেই 
একখানা সাধারণ দুপুর এই শহরে চুরি করে 
চুরি করে রবীন্দ্রনাথ, শক্তি,সুনীল মানুষের মনে
আসলে কি লেখে তারা কবিতায়
শুধু তোমাকে চাই। 
কে কে ছেড়ে গেছে, কেন আর বুকের পুকুরে বিষ  
পা পিছলানো পুকুরঘাটে স্মৃতিদের আদর 
বলতে বলতে অন্যমনস্কতায় এক বুক  শৈত্যপ্রবাহ
হারতে  হবে জেনেও তীব্র আলিঙ্গন
কারণ তোমাকে চাই
তারপর বিচ্ছেদ ধরে বছর ঘুরে যায় বারংবার
ফের শীত, ফের শীতলাগা বুক কেঁপে ওঠে
তুমি খোঁজ আগুন আমাকে পোড়াবে বলে
আমি খুঁজি তোমায় আগুন নেভাবো বলে 
তাই শুধু তোমাকে চাই। 
.
তোমাকে চাই
ঋষি 

Saturday, November 23, 2024

জানতাম না

জানতাম না এক প্রতিবাদী আন্দোলন
রাতভর মিটিং,মিছিল,অনসন সবকিছু মিথ্যা 
মিথ্যা কাগজফুলের মতো গন্ধহীন এশহরে
এক পৈশাচিক রাত্রির আয়ু, রক্তের গন্ধ।
বিপ্লব এখন ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে রোজ হাসাহাসি করে
সেখানে দৈনন্দিন বাড়তে থাকা ধর্ষন একটা ঘটনা
লাভলোকসান আর বিজ্ঞাপন নিয়ে যে প্রতিবাদ
সে স্পষ্টত অন্ধকার এবং অপরাধ
আমি তাকে ঘৃণা করি। 
.
জানতাম না সাতসকালে বিক্রি হওয়া খবরগুলো 
রাতভর লাইভ খবরে ব্যস্ত সেই সব মানুষগুলো 
প্রতিবাদ থেকে প্রহসন, গ্রীনরুমে নায়িকা ডার্লিং
সব ছেড়ে যারা হুংকার দিয়েছিল আমরা মানুষ
তারা সব মিথ্যা,
সত্যি রেইন কোটের ভিতর লুকিয়ে থাকা ঈশ্বর 
যারা উৎসব চেয়েছিল, যারা উৎসবে সেজেছিল
তারাই আমরা
আমি সেই আমাদেরকে ঘৃণা করি।
..
জানতাম না এশহরে অনুভুতিরা শুধু মরে
আর ভুতের মতো কিছু অবয়ব চলাফেরা করে
যারা সত্যি বলে না কিংবা বলতে চায় না
যারা শিক্ষিত বলে নিজেরা ঢাকঢোল পেটায়
মঞ্চে মঞ্চে জোকার সেজে হুংকার দেয়
তারা সকলে অন্ধ এবং ভন্ড,
শিক্ষিত সমাজ, আগামী প্রজন্মের ভিত্তি মিথ্যা
মিথ্যা এই সভ্যতা
আমি এই সভ্যতাকে ঘৃণা করি।
.
উচ্চারণ করি মানুষের সভ্যতা মুখাগ্নির মন্ত্র

ওম মহাদেবায় বিদমহে,

রুদ্রমূর্ত্যে ধীমহি,

তন্নঃ শিবঃ প্রচোদয়াৎ ॥

.

জানতাম না

.. ঋষি 




Thursday, November 21, 2024

পাগলামী

ঘোলাটে মাথার ভিতর দিনরাত যেন পাগলামি 
আমি স্পষ্ট টের পাই নিয়ম করে ছুরির উপর সূর্যাস্ত 
আমি কবিতা লিখতে থাকি
ঠিক শুনতে পাই শীত যেন টোকা দিচ্ছে দরজায়
দরজা খুলি 
শীত করে
বুঝি আমার সন্ধ্যেগুলো এ শহরের কবিতার কল্পনায়। 
.
অন্য কবিদের পান্ডুলিপিতে আমি থমকে দাঁড়াই
নিকোটিনে লাগামহীন প্রেম,আশ্রয়, পাতা ঝরার শব্দ
আমাকে দু:খী করে,
কান পেতে শুনি শহরের কথা, অজস্র পায়ের শব্দ
সবাই ইদানীং কম শোনে বড্ড কথা বলে, 
ভালোবাসা হাতছানি দেয় আমি মাথা নিচু করি
মৃত্যু এসে কবিতার ভাষা উপহার দেয়
দেখি তোমার চোখের কোণায় এক বিন্দু জল
অথচ প্রতি হাহাকারের পিছনের আকাশে রঙিন রং নীল
সে যেন শূন্য। 
.
বেরিয়ে পড়ি রাস্তায় শুনি সময়ের অবসাদ
আমি একলা হাঁটি শুনি  নি:সঙ্গতার ফাঁদ
তারপরে একলা মনে টেলিপ্যাথিতে হাল্কা হাওয়ার পিঠে চড়ে তুমি এসে পড়ো
হঠাৎ শীত করে
বুঝি এ পাগলামী। 
আর ভালো লাগে না পথচলতে, বাড়ি ফিরে আসি
বিছানায় পাশ ফিরে শুলে ভাবনারা পাশ ফেরে
তখন জানলার দিন ফুরোনো আলোয় আততায়ীকের পা,
নিজের ডানাদুটো বহুদিন বন্ধক রাখা আছে প্রেমে
আর প্রেমের স্কেচে ইদানীং দেখি
আমি মাথা নীচু করে বসে তোমার পাশে। 
.
পাগলামী
.. ঋষি 


Monday, November 18, 2024

প্রেমের কবিতা

আজ অবধি কোন প্রেমের কবিতা লেখা হয় নি
কারণ প্রেম কখনও সম্পূর্ণ  না
কখনও কোন সবুজ গাছের দিকে তাকিয়ে 
ভাবা হয় নি জীবনটা খুব সুন্দর,
শুধু অভিযোগ, অনুযোগ,আক্রোশ নিয়ে বাঁচা
এই শহরের প্রতি স্কোয়ারফুটে শুধু দু:খ খোঁজা
কখন তোমার মত করে তোমাকে ভাবা হয় নি। 
.
তোমারে আদর বলে ডাকবো ভাবি
কিন্তু গুরুপাকে বারবার উঠে আসে নিমন্ত্রনের তালিকা
ভাবি দু'বেলার ভাতে, ডালে, অম্বলে জীবন কাটাবো
খুব সাধরণ কবিতায় লিখবো অসাধারণ প্রেম
কিন্তু আজ অবধি প্রেম লেখা হয় নি,
কারণ মুক্ত নীল আকাশখানি বহুদিন খাঁচা বন্দী
আর আমাদের বুকে তীর মহম্মদ রফি। 
.
বহুবার ইতিহাস বইয়ে বুদ্ধের ছবি দেখেছি
সাধাসাধি করেছি রুমাল থেকে বেড়াল
রাস্তা থেকে জীবন সর্বদা নিজেরটুকু বুঝেছি 
কিন্তু কখনও বুঝি নি বুদ্ধের মানে, 
গ্রামের পথে কাদা মাটি দেখে হয়তো বাউল সেজেছি
সত্যজিৎ থেকে মৃণালসেন বারংবার দেখেছি
ইন্টালেকচুয়াল মুখোশে শহরটাকে বুঝেছি
কিন্তু বুঝে উঠতে পারি ভালো থাকার মানে। 
এসবই ভাবি কেবল
ভাবি তোমাকে কখনও তোমার মত করে বোঝা হয় নি
ভাবি জীবন মানে এক অসমাপ্ত কবিতা
ভাবি কবিতার প্রেম বোধহয় স্বপ্নের তুলি
কিন্তু জীবন সে তো দেহহীন ভস্মের ছাইরং
শুধু নাভিটুকু পড়ে থাকে
জন্মের অপেক্ষায়… 
.
প্রেমের কবিতা
.. ঋষি 


ঘুম আসছে না

অন্ধকার শহরটা খুলে রাখছি পাতায় পাতায়
তারপরও ঘুম আসছে না
কবিতা বলে মেয়েটা তার ছানাপোনা নিয়ে আমার দরজায় দাঁড়িয়ে
আমি দরজা খুলি
দেখি অন্ধকারে সিলিংএ  তার হারানো সংসার,
মনে মনে ভাবি কবিতারা কেন যে নারী হয়
কেন প্রকৃতি হয়, কেন সৃষ্টি,কেনই বা দু:খ ? 
আজ অবধি খুব  কম কবিকে আমি আনন্দ লিখতে দেখেছি । 
.
এর পর আমার চারতলার ফ্ল্যাটের জানলার পর্দা নড়ে
আকাশে একফালি চাঁদ স্বপ্ন বিছিয়ে দেয় বিছানায়,
দূরে কোথাও গৃহস্থের শিশু কেঁদে ওঠে
চিৎকার করে রাস্তার কুকুর, 
দেখি কবিতা শুয়ে আছে একলা শুনশান এসপ্ল্যানেটে
দেখি কবিতা জেগে আছে স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে 
দেখি তুমি কখন কবিতা হয়ে দ এর মত শুয়ে স্বপ্ন দেখছো
তুমুল মঞ্চে তোমার আবৃতিতে ফেটে পড়ছে একাডেমি। 
.
তারপরও এই অন্ধকার শহরটার ঘুম নেই
হঠাৎ হঠাৎ চীৎকার করে কেউ বলছে জাগতে রওহো
শুনশান কলেজস্টীট,শ্যামবাজারের নেতাজী,ফাঁকা চায়ের দোকানের বেঞ্চি
সব যেন কবিতা এই মুহুর্তে 
রাস্তায় পাশে সার দিয়ে দাঁড়ানো বাস,ট্রাম ডিপোতে ট্রামগুলো 
রবীন্দ্রসদন, নজরুল তীর্থ,সাউথসিটি মল
সব যেন কবিতা।
কি মুশকিল 
ঘুম আসছে না, আমি যেন কবিতার শব্দের মত যন্ত্রনা
চোখ বন্ধ করছি
দরজা বন্ধ করছি
কবিতা বলে মেয়েটা দরজা থাবড়াচ্ছে
অথচ আমি জানি শহর ঘুমোচ্ছে,ঘুমোচ্ছে সম্পর্ক
ঘুমোচ্ছ তুমি,ঘুমোচ্ছে এ শহরের ক্লান্ত জীবন
অথচ আমি
ঘুম আসছে না। 
.
ঘুম আসছে না
.. ঋষি 



কিছু ভুল

সব পাওয়া মানে জীবনে ১০৮ টা ভুল
জীবনে ফুলস্টপ, দাড়ি,কমা, নষ্টালজিক হওয়া জরুরী
জীবনে সাইকেল স্পোকের মত অসংখ্য নির্মান
১৬ তলা বাড়ি, গাড়ি, বারান্দায় ফুল সব সত্যি
কিন্তু কি জানেন
একটা প্রশ্ন থাকেই 
মানুষটা,হ্যা মানুষটা কতটা জরুরী ? 
.
এ শহরের পায়ের উপর পা তুলেও ঠাসাঠাসি ব্যস্ততা
জুতোর তলা খসা ইনকাম প্রসেস,
তবুও জানেন কেউ কেউ ছবি আঁকেন, কবিতা লেখেন
গান করেন,নিজের বাড়ি সাজান, গুছিয়ে রান্না
কিন্তু শান্তি? কিন্তু সময়? 
সম্পর্কের প্রেসার কুকারে এডজাস্ট বলে শব্দ বাজে
এডজাস্ট মানে দেশের জনতা
শুধু মানছে, কারণ উপায় নেই। 
.
আমি কুইনবিল্ডিংএর আটাত্তর তলা থেকে আকাশ দেখি
দেখি রোহিনী, ধ্রুবতারা, কালপুরুষ আরও কত
নিজেকে অন্ধকারে পেঁচা মনে হয়
মনে হয় সম্পুর্নটা একটা অসুখের নাম
একটা না শেষ  হওয়া দৌড়।
চারিদিকে দেখি অবাক লাগে
পাশ করলে চাকরী চাই, চাকরী থাকলে উন্নতি
সাইকেল থাকলে বাইক চাই, বাইক থাকলে গাড়ি
কবিতা লিখলে মঞ্চ চাই,মঞ্চ থাকলে নাম 
বিড়ি টানলে সিগারেট, সিগারেট হলে মদ 
খেতে পেলে শুতে চাই, শুতে পেলে ঘুম 
কিন্তু ভালো থাকা ? 
.
যেন একটা পাগলামি চলছে শহর জুড়ে, দৌড় আর দৌড় 
যেন একটা বিশাল বড় গ্রাইন্ডারের ভিতর শহর 
জায়গা বদলাচ্ছি আমরা বারংবার, শান্তি নেই মনে, 
আসলে আমাদের সকলের ভীষণ অসুখ
মিথ্যা বলি না আমরা যতক্ষন সত্যি বলা যায়
চুরি করি না আমরা যতক্ষন না সুযোগ পাওয়া যায়
মানুষের পাশে থাকি তো যতক্ষন সুবিধা পাওয়া যায়
মানুষকে দি ততক্ষন যতক্ষন ফেরৎ পাওয়া যায়
শুধু টাকা,শুধু স্বার্থ, শুধু আমি, শুধুই কারণ 
এখানে ভালোবাসা নেই, এখানে সম্পর্ক নেই 
এখানে শুধু বিবেকহীন আমি, আমরা আর তুমি
সকলেই শুধু জিততে চাই, পেতে চাই
কিছুতেই বুঝি না
মাঝে মাঝে হেরেও জেতা যায়
          সবটুকু না পেয়েও ভালো থাকা যায়।
.
কিছু ভুল 
... ঋষি 




Friday, November 15, 2024

ফুরোনো সময়

ক্রমশ  রাত্রি যখন দিন শেষে বাড়ি ফিরছে
ক্রমশ দিনগত পাপক্ষয় শেষে আমিও যখন পথে ক্রমশ কলকাতা প্রত্যাশিত শীত যখন ঘোমটা পরে
এক  মন্থর সন্ধ্যের কথা লিখছে 
তখন আমার মাথায় মানুষের ব্যর্থ জীবন ঘুরছে
ঘুরছে  মানুষদের ভাঙা-গড়া সম্পর্কের এক অমীমাংসিত খেলা।
.
পার্কের ঠিক দু'নম্বর গেটের সামনে ক্লান্ত হর্ন
আর  নিয়মিত অপেক্ষারত টোটোর লাইন 
পাশের বেঞ্চ থেকে একখানি কথা তরঙ্গবাহিত 
অথচ ভীষণ বেপরোয়া, 
এক আকুল যুবতী কাকে যেন ফোনে বলছে
" সবকিছু করছিস কর বারণ তো করিনি, 
কিন্তু আমাকে একটু সময় দে..." 
ব্যাস, এটুকুই
চমকে উঠলাম।
.
আমি বিচলিত নই, নির্লিপ্ত এবং ক্লান্ত
কারণ আগেও বহুবার হয়েছে,
এই নাটকের শেষাংশ বহুবার অভিনীত হয়েছে আগে  কখনও শ্রোতা , কখনও বক্তা , কখনও স্রেফ দর্শক হয়ে আমি এর মধ্যে দাঁড়িয়েছি
সেকারণেই আমি জানি, অথচ বলতে পারলাম না
বলতে পারলাম না সেই  যুবতীকে কিছুতেই
"সময় ফুরিয়েছে যে"।
যেমন ফুরোয় দিনান্তে রাত, রাত অন্তে দিন
যেমন ফুরোয় কথারা,কথার শেষে মুহুর্ত 
যেমন ফুরোয় প্রিয় মুখ দিনবদলের কবিতায়
আমি সেই যুবতীকে বলতে পারলাম না
এইবার তোমার সব স্বপ্নদের গায়ে ধুলো জমবে
এইবার তোমার বুকের ভাঁজে প্রজাপতিদের মৃতদেহ
এইবার তোমার সময় কাটবে এক অভিশাপে।
এরপরও এই কলকাতায় সন্ধ্যে হবে
আকাশের ধুলোর ফটোফ্রেমে চাঁদ হাসবে
কিংবা হাসবে না
এরপরও এই শহরের সম্পর্কের ভীড়ে সম্পর্করা বাঁচবে
কিংবা বাঁচবে না
কিন্তু তোমাকে তো বাঁচতেই হবে। 
.
ফুরোনো সময়
... ঋষি 

Monday, November 11, 2024

তোমার শব্দদের শুভেচ্ছা

তোমার প্রতি অব্যক্তকে শুভেচ্ছা 

শুভেচ্ছা তোমার কেটে যাওয়া কথপোকথনের রেশটুকুকে

শুভেচ্ছা আমার আলো -কাদা ঘাঁটাঘাটি করে

ভুল পথে হাঁটাহাঁটি করে ফিরে এসে দেখা

অন্য পাথুরে তুমিটাকে

করিডোরের একপাশে পরে থাকা স্মৃতিটুকুকে শুভেচ্ছা।

.

এভাবেই ঢেউখেলা ধানক্ষেতে তুমি শহর ছড়াও

এভাবেই অনবদ্য কবিতায় তুমি মৃত্যু আঁকো

এভাবেই আমি অবাক হই প্রতিবারে, হই স্তব্ধ 

তোমার অপার্থিব মুখে ফুটে ওঠে আমার যোগ্যতা,

আহত পাখির মতো আমি ডানা ঝাপটাই

তবূও বলতে ভুলি না অনন্ত শুভেচ্ছা এভাবে তোমার ভালো থাকাকে ।

.

ইদানীং  মনে হয় বহুদূরে আছি

কিছু মনে থাকে না আমার এই জীবনের ভুমিকায়

তবু থেকে যায় তোমার বেঁকে ওঠা ভুরুতে হঠাৎ বিরক্তি

তোমার নিঃশ্বাসে অকৃত্রিম  মৌরির নেশা

আর অনবদ্য কবিতার শব্দে এক অন্ধ বিপন্নতা।

জানি সময় নেই,

একদম সময় নেই একটা না ফুরোনো গল্পের কাছে

চরিত্ররা লণ্ঠনে মধু ঢেলে বেড়িয়ে পরে অবেলায়

আমদানি রপ্তানি হিসেবের শেষে

তোমার অসমাপ্ত গানে আমি অসম্পুর্ণ থেকে যাই,

তবু বলতে ভুলি না

শুভেচ্ছা তোমার বেঁহুশ শব্দগুচ্ছকে ।

.


তোমার শব্দদের শুভেচ্ছা

... ঋষি

Thursday, November 7, 2024

গর্ভপাত


সময়ের সমান্তরালে চলতে চলতে
সারা শহর জুড়ে ইদানীং  পচা গলা দুর্গন্ধ নাকে লেগে
চেনা আয়নায় পরিমাণ মতো দিনযাপনের পর
সারা শহর ঘুড়ে দেখি কিলবিলে হাজারো জোঁক
রক্ত শুষছে মানুষের
এই শহর জানে কি ভাবে মানুষ ভোলাতে হয়। P
.pllplppplppppppppppppppppppppppplpppplppllpllllllppppppppppppppppppllpppppppppppppppppppppppppppppppppppppppppp0a3l0al30al3pa2wwwll3lal0wwwww2wwwwwwww2wwwwwwwwwwwwwwwwwwwlllllllllllllp
আশ্বিন ফুরিয়ে গেলে শহর আর ইতরের মাঝে  তফাৎহীন, দূরত্বহীন এক ভাগাড়ে নিঃশ্বাস po po 00 a03333
এ যেন নিয়তি ও অভিশাপ,
ভেঙে পড়ে মেয়েটার অভিমান
আলতা হাতে উঠে দাঁড়ায় ফটোফ্রেমে তার পায়ের ছাপ
এই শহরই পারে একটা জ্যান্ত শরীরকে গিলে খেতে।
.
ইদানীং মনে হয় সমস্ত মায়ের কোল খালি হোক
তবে আর ভুলবে না কেউ,
সেই ধর্ষিত মেয়েটার চিৎকারে শ্মশান হোক শহর
তবে আর মনভোলাতে উৎসবে মাতবে না কেউ
এতগুলো জাদুবীজ, আইন আদালত, মিডিয়া 
হিজিবিজি সাজানো সময়
তবে আর মিথ্যা জাস্টিস খুঁজবে না কেউ।
শুধু অসংযত অন্ধকার, তারপরও বারবার
মিথ্যে তবে নদীর গর্ভপাতে শ্মশানের হাহাকার
অন্ধকার পাহাড়মুখে সে চোখ বিলুপ্ত সামিয়ানা
যাই হোক, সবটুকুই মিথ্যা তবে
মিথ্যা এক অসুখের অভিনয়ে থমকানো শহর  জাতিশ্বর বীজ
কিছু বদলায় না
পুরোনো আতরের মতো মিশে রয়েছে অবশেষ
সব্বাই ভুলছেন কি করে ?  ছি....।
.
গর্ভপাত
... ঋষি 

Wednesday, November 6, 2024

ওদের কথা

পরিচ্ছন্ন আকাশ নিয়ে গোধূলি ফুরোলো আজ 
আন্তরিক শুভেচ্ছা নিয়ে সময়টুকু কেটে গেলো
আমি ওদেরকে জানি , দূর থেকে জানি
দূর থেকে জানা ভালো, ডানাভাঙা পাখির মতন,
উড়তে চাওয়ার আগে পাশাপাশি হাঁটাটাই স্বাভাবিক 
তাই আকাশের রঙে আমি একমনে সাহস মেশাই
সাহস মিশিয়ে দিই এই শহরের নির্ঘুম রাতের মিছিলে।
..
অথচ আমার সাথে তোমারও যে কি ভীষণ মিল
তোমারও গোপনে লুকোনো অনবদ্য চুপকথা
আর আমার চুপকথায় লেখা সময়ের রুপকথা, 
আমার বাড়ির জানলা থেকে দেখা  নিঃঝুম গাছগুলো ফাঁকা পাতা, দিনলিপি আর 
রাস্তার হাজারো বাঁক
তুমিও পথিক জানি, অতএব, ঐ কথা থাক।
.
শেষ ট্রেন চলে গেছে, কোথাও আর যাত্রী নেই
ছেঁড়া মাদুরের পাশে ছিঁড়ে যাওয়া কাঁথা
প্রাচীন শৈশবগাঁথা,
এর পর একাধিক মালগাড়ি যায় আসে
তাই বলে কথার অভাবে, কথারা ফুরোয় না
অথচ ট্রেনলাইনের সিম্ফনিতে শোনা যায়
ক্রমাগত ওদের কথা। 
.
দৃশ্যরা ঝরে যায়, ঝরে যায় সময়
আঙুলেরা ছুঁয়ে যায় সময়ের চামড়ায় স্মৃতিঘোর
আমি ওদের চিনি,ভীষন কাছ থেকে চিনি
কাছ থেকে চেনা ভালো,সমুদ্রের কচ্ছপের মতন
তাই একমনে তারা সময় সমুদ্রে  পাশাপাশি হাঁটে
রাতের আকাশে ক্রমাগত বাঁকা চাঁদ হাসে
ওদের যে প্রবেশ নিষেধ, জানে সমুদ্র নীল,
.
জানো তো ওদের সাথে আমাদেরও যে ভীষণ মিল...
.
ওদের কথা
.. ঋষি 

Tuesday, November 5, 2024

ওরা কবিতা হতে চেয়েছিল

বাটিতে হালকা কিছু সুখস্মৃতি আর কিছুক্ষনের ঝগড়া চিবিয়ে ওরা বারান্দায় বসে
হাতে ওদের উষ্ণ পুরোনো সেই দিনের কথা  
নিষ্প্রভ চোখে তাকাচ্ছে ওরা সময়ের নিচের ব্যাস্ত রাস্তার দিকে
 পিঁপড়ের মতো জীবন 
অথচ স্বপ্নরা মরেও মরে না 
ওরা দুজনেই কবিতা হতে চেয়েছিল 
কিন্তু কলম ওদের জীবিত করতে পারেনি।
.
বক্তৃতার মঞ্চের নীচে প্যাচপ্যাচে আত্মসম্মানের উপর দাঁড়িয়ে আছে ওরা 
ঠেলাঠেলি করছে খাবারের প্যাকেটের লাইনে
হাততালি শব্দ , মাইকে জয়ধ্বনিরা   হাই তুলছে
নিলজ্জ জীবন 
ওরাও  সকলেই চেয়েছিল কবিতা হতে
চেয়েছিল কোনো অজেয় কবির কলমে সত্যির পতাকা লিখতে 
কিন্তু পাঠক ওদের অগ্রাহ্য করে পাতা উল্টে চলে গিয়েছে।
.
পানশালার আনাচে কানাচে টেবিলেটেবিলে গেলাসের সামনে  ঘোলাটে মন 
ওরা কেউ হাসছে, কেউ কাঁদছে, কেউ বা  খিস্তি দিচ্ছে অদৃশ্য সময়কে 
ওদের অস্পষ্ট চেতনা বুঝবার চেষ্টা করছে কিংবা  ভোলবার চেষ্টা করছে 
নিজেকে আরো অচেতন করার চেষ্টা করছে 
অকৃতজ্ঞ জীবন ,
ওরা আমায় বলেছিল, ওরাও কবিতা হতে চায়।
কিন্তু একলা মেঘ,শহরের কলরবের ভিড়ে ওরা  হারিয়ে গেলো শেষমেশ।
.
আসলে সকলেই কবিতা হতে চায় 
সকলেই কবিতার মতো সুন্দর একটা জীবন চায় 
সকলেই কবিতার ছন্দে নিজেকে দেখতে চায় 
কিন্তু কবিতা বড় অশান্ত নিজে 
তার সংসারে চিরকাল অভাব ,খিদে আর যন্ত্রনা 
সেখানে আধপেটা খাওয়া  এই মানুষগুলো সব প্রেতাত্মা 
এ যেন ঈশ্বরের অভিশাপ ওরা কবিতা হতে পারবে না কোনদিন । 
.
ওরা কবিতা হতে চেয়েছিল 
ঋষি

Saturday, November 2, 2024

সবার ভালো হোক

সবার ভালো হোক
এর ওর তার সকলের 
আমার ওপর যাদের রাগ, যাদের হা  হুতোশের জ্বালা সব্বার ভালো হোক
একটা বয়সের পর এমন একটা ভাব আসে সকলের 
একটা সময়ের পর পৃথিবীর পবিত্রতা নিয়ে মাথা ব্যাথা হয় না 
বরং দিন গুজরানে দিনগুলো কেটে যাক এমন মনে হয় । 
.
তাই ইদানিং মনে হয় 
সবার ভালো হোক 
সেই মেয়েটার ভালো হোক যে প্রথম আমাকে বলেছিল ভালোবাসি 
কিন্তু ছেড়ে চলে গেছিলাম হঠাৎ কারণ ছাড়া, 
সেই টাকমাথা লোকটার  ভালো হোক যে আমাকে চাকরীর ইন্টাভিউতে বলেছিল 
আমি নাকি অতি সাধারণ ,আমার চাকরী হবে না 
সেই ছেলেটার ভালো হোক যে অফিসটাইমের বাস থেকে আমাকে ঠেলে ফেলেছিল 
সেই মহিলার ভালো হোক যে বলেছিল বাবা এই দুনিয়ায় আমরা সকলেই ক্রীতদাস
সেই বৃদ্ধের ভালো হোক যে শান্তিনিকেতনে আজও একতারা বাজিয়ে গান করে 
ভালো হোক সেই মাতালের ,সেই রিক্সাওয়ালার ,সেই রাস্তার 
ভালো হোক তোমার ,তোমাদের ,সারা দেশের ।  
,
কিন্তু যা কিছু নিভৃত
সেসব আমার থাক ,সেখানে আমি একলা থাকি 
কিন্তু যা কিছু যন্ত্রণার 
সে সব সময়ের  থাক ,সেখানে আমি একলা বাঁচি 
কিন্তু যা কিছু মুহূর্তের 
সে সব হৃদয়ে থাকে ,সেখানে আমি একলা কাঁদি। 
মনোরম দূরত্বের আকুলতা আরও গভীর হোক 
গভীর হোক আমার নিভৃত সমাধি নিজের গোপনে 
এই শহরের ব্যাকুলতার নতুন ঠিকানা হোক এডজাস্টমেন্ট 
এই হৃদয়ের নতুন ঘর হোক সাজানোগোছানো সফিস্টিকেট 
তবু মুখে হাসি থাকুক ,থাকুক মিথ্যে সফলতা 
সবার ভালো হোক 
নচেৎ দু'টি ঝরাপাতার দেখা যাবে না জীবনে 
হাঁটা যাবে না জীবনের অনুর্বর তোমার উপস্থিতিতে। 
.
সবার ভালো হোক 
... ঋষি

বাড়ি

হুট করে সরে আসার পর স্পর্শের আকাঙ্খা বাড়ে  আমাদের প্রত্যেকের আলাদা বাড়ি অথচ ঘর একটাই  সেই ভিতরের ঘরে বাড়তে থাকা আলাপ  আমাদের আরও কাছে আনে , ...