Tuesday, December 31, 2024

বছর শেষের স্যিগনেচার


 বছর শেষের কাব্য লিখতে বসি 

কি পেয়েছি ,কি চেয়েছি ,কোথায় ভুল ,কোনটা ঠিক 

সব কেমন গুলিয়ে যায় 

এক বছর শেষের স্যিগনেচারের কবিতায় ,

যে শহরে মানুষ চুরি হয় ,যে শহরের চুরি হয় বিশ্বাস 

সেই শহরের ঈশ্বর কখনো ভালোবাসা লেখে নি 

অনবরত লিখেছে স্বার্থ আর অপঘাত

সে শহরে আবার  শুরু সময় ,দিন আর তারিখ । 

.

তবুও হ্যাপি নিউ ইয়ার 

একটা নতুন শুরুর কবিতায় মানুষের যাপন 

যেখানে মোটামুটি প্রতিদিন নিয়ম করে ২ ঘন্টা কাটে  অফিসের জ্যামে

৮ থেকে ৯ ঘন্টা কেটে যায় এক পুরোনো জানলার ব্যস্ত শহরে

শুধুমাত্র খিদের অভিশাপে ,

তারপর ঘন্টা দুয়েক নিয়মিত মোবাইল স্ক্রলে জীবন 

তারপর সংসার কিংবা ভালোবাসা কিংবা সন্তান 

বলুন না কতটুকু বাঁচে  ?

.

এইতো হলো শুরুর গল্প 

এবার মোটামুটি বছরের মাঝে পকেট বুঝে দী-পু-দা

কিংবা রাতের নেশায় সিগারেটের ধোঁয়া আর  কয়েক পেগ 

যেখানে নিজের প্রেমিকা যেন করিনাকাপুর,

ল্যাস্টভেগাস থেকে গোয়া ঘুরে আসা স্বপ্নে ,  

একটা ঘোর 

আসলে এই শহরই পারে মানুষকে ভুলিয়ে রাখতে

কিংবা মানুষের বাঁচার স্বপ্ন আগুনে পোড়াতে ।

.

কি নেই এ শহরে ?

চুরি ,রাহাজানি ,বেশ্যা থেকে হাজারো ব্যালকুনি 

কি নেই বলুন তো 

মেরে দেশ মহান ,স্লোগান ,নিয়মিত  ধর্ষণ 

প্ল্যাটফর্মে যাত্রী ,রবীন্দ্রসদনে হাজারো সাহিত্যের ভীড় 

লোকাল বাস -মিনিবাস ,গলায় দড়ি দেওয়া প্রেমিক কিংবা সংসারী

আছেন রবীন্দ্রনাথ ,শঙ্খ ঘোষ ,সুনীল গাঙ্গুলি কিংবা গান্ধীজি 

কিন্তু সত্যি কই ?

.

শিক্ষা বিক্রি ,স্বাস্থ্য বিক্রি ,নারী শরীর বিক্রি ,সময় বিক্রি 

সব বিক্রি আছে এ শহরে 

ভালোবাসা থেকে কন্ডোম সবটাই কেমন ভীষণ সস্তা। 

দরদাম করুন ,মিথ্যা বলুন , ধর্মের গান গান 

আপনি সেরা ,আপনি হিরো ,আপনি ধার্মিক ।

মশাই এই শহরই পারে মুখোশে মানুষ গড়তে

জানেন তো ঈশ্বর এখানে ভীষণ একলা 

আর একলা এই নতুম শুরুর কাব্য।  

.

বছর শেষের স্যিগনেচার

.... ঋষি 



 

   


Monday, December 30, 2024

তুম ইতনা জো মুসকুরা রেহে হো

তার প্রিয় ঋতু গ্রীষ্ম, তবু এই শীত
তার প্রিয় রঙ অস্তরাগ,তবু এই ডিসেম্বর 
তার প্রিয় ডাক অধিকার,তবুও এই ইন্তেজার 
তার  প্রিয় গল্প বিচ্ছেদ,তবুও ঘৃণা ভালোবাসা
তার প্রিয় স্বপ্ন একলা,তবুও তো সাথে থাকা
তার প্রিয় অসুখ আমি, তবুও তো নিয়ে বাঁচা। 
.
এই অবধি ভাবতে ভাবতেই পেরিয়ে ফেলা আয়ু
এক উটকো ডিসেম্বর ফুরিয়ে আসে
শহরতলি থেকে তীব্র চেষ্টায় শীতের হাওয়ায় আনন্দ
এক নতুন বছরের আশায় বাঁচে,
প্রতিদিন ক্লান্তিরা চোখের পাতায় মোমবাতি জ্বালে 
আলো আসে, আলো যায়
শিখাটুকু কাঁপতে থাকে,
যেমন আসন্ন শীতের সুখে অন্ধকার মানুষের উৎসব। 
.
একটা অবাধ্য শীতের সাথে তোর কী সম্পর্ক ? 
একটা মুসাফির জীবনের সাথে তার কিসের পরিচয়? 
এক বুনো ঘোড়া যেন দৌড়চ্ছে 
আর এভাবে একটা গল্প ফুরোচ্ছে
আর খুব গভীরে জগজিৎজ্বী গাইছেন...
    " তুম ইতনা জো মুসকুরা রেহে হো
     ক্যা গ্যাম হ্যা জিসকো ছুপা রেহে হো ",
আর আমি অকপট মুখস্থ করছি এক ডিসেম্বরে 
তার প্রিয় গল্প, বিচ্ছেদ
তার প্রিয় সুখ,অভিমান
আর তার প্রিয় ক্ষত নিজেকে। 
.
তুম ইতনা জো মুসকুরা রেহে হো
.. ঋষি 

Tuesday, December 24, 2024

কবুল হ্যায়

চিৎকার করে বলেছি আমি বারংবার  ভালোবাসি
প্রকাশ্য চুমুর মতো একদিন বিকেলের রাজপথে 
প্রমান করেছিলে তুমি ভালোবাসি ,
এতো চিৎকার থেকে বুলেটের গরম সিসে ছিটকে 
মানুষ আবদ্ধ মানুষে,
আমি বসে আছি তোমার পায়ের কাছে 
তুমি বোঝোনি তফাতে বলেছিলাম ভালোবাসি। 
.
উদ্ধত যুবকের কলারে লিপস্টিকের দাগ ছন্নছাড়া 
প্রমাণ ভালোবাসা, 
বেপরোয়া যুবতীর শীর্ষসুখে সম্মোহন
আজীবন এক চরম মুগ্ধতা প্রমাণ ভালোবাসা,
ভালোবাসা অবিশ্বাস্য মন্ত্রে স্তব্ধ করে দেবে জানি 
জানি আমার মতো ব্যর্থ কবির সততার প্রামাণ্যদলিল
মিথ্যে হয়ে যাবে একদিন
জানি তুমি জিতবেই, ভালোবাসা জিতবে জানি।
.
এ কানা শহরে কোনও এক অসুখের সন্ধ্যায়
আমাকে তুমি ভালোবেসেছ বলে দু'একটা কাগজফুল
আমি গুছিয়ে রাখছি খুব যত্ন করে,
সময়ের বালাপোষে একটা মনখারাপের শীত থেকে
গুছিয়ে রাখছি কিছু অগোছালো স্মৃতি ।
জানিই তো বুকের ভেতর কিছুই তো আর রাখা নেই
অনেকটা পিছিয়ে গিয়ে শুরু করে হেরেছি বারংবার
তাই আর ভয় নয় বরং জড়িয়ে ধরেছি জীবন।
"কবুল হ্যায় " বলে বহুদিন একলা হেঁটেছি আমি
বহুদিন আজ নিজের ঠিকানায় শুধু সময়ে পরবাস
হাতের তালুতে ক্রমাগত বাড়তে থাকা রেখা,
জানি তবুও থেকে গেছি কারণ
তুমি শিখিয়েছো আমায় ভালোবেসে নষ্ট হওয়া যায় 
কিন্তু নষ্ট করা যায় না। 
.
কবুল হ্যায়
ঋষি 

Thursday, December 12, 2024

খাজুরাহের চিঠি

খাজুরাহোতে একটা চিঠি পাঠাবার কথা ছিল
পাঠায় নি, মনে হয়েছে অশ্লীল
কে পাঠাবে?
পাঠাবে অন্ধকার নিস্তব্ধ রাত, শীত কুড়োনো বিছানা 
শরীরে জমে থাকা লুকোনো ব্যাধি 
আর শহরের মন। 

এ শহরে বাজারে বড়ো চড়া দাম অশ্লীল শব্দটার
ব্ল্যাকমার্কেটে পাওয়া যায়, 
শ্লীল, অশ্লীলের মাঝে এক টুকরো পাঁচিল আছে
মানুষ জানে সেটা, সুযোগ মতো দাঁড়ায় সেখানে,
অথচ মানুষের আড়ালে মানুষই সভ্যতার ভীত গড়ে 
খাজুরাহ গড়ে কেউ কেউ শরীরের বিছানায় 
জানি না এই প্রেম-টেম অযৌক্তিক কিনা 
তবে মৃত্যু অবধি শরীর তো থেকে যায় তাই না। 
.
খাজুরাহোতে একটা চিঠি  পাঠাবার কথা ছিল
কে লিখবে ?  শ্লীল না অশ্লীল?  কে সে? 
আমি বলি মানুষের শরীর।
শীত এসেছে বলে মানুষ আগেভাগেই মাফলার গলায়
তবে মানুষের বুকে  সুখে লুকোনো অন্য শরীরের ওম,
কমলালেবুর দাম নিয়ে,শ্লীল অশ্লীল নিয়ে দরাদরি
এ যেন জ্বলন্ত অম্বল উদগাররূপে জ্বালাপোড়া শরীর,
এ বোধহয় শরীরের স্পর্ধা
এক অশ্লীল সময়ের কবিতায় দ্রোহ
খাজুরাহ। 
অথচ আমার বর্তমানের বিশ্বাসবিষে শরীর সত্যি
তুমি শিখিয়েছো শরীর একটা শিল্প, একটা কবিতা
জানি তোমার বুকের খাজুরাহ এক ডাকবাক্স
এতদিন সেখানে চিঠি পাঠায় নি, মনে হয়েছে অশ্লীল
কিন্তু আজ লিখছি তোমার খাজুরাহের ঠিকানায়
.
শোনো আমি শীত পাঠাচ্ছি
তুমি বুক খুলে দাও...
..
খাজুরাহের চিঠি
.. ঋষি


Monday, December 9, 2024

পায়ের ছাপ

দৃশ্যের চৌকাঠ থেকে অদৃশ্য ব্ল্যাকহোল
কয়েকশো বালিঘড়িতে জীবন
জীবনের লুকিং গ্লাসে অনবরত সময়ের বায়োপসি 
একটা রুপকথা যেন এক তুমুল অতীত
জানি না কেন ঈশারায় ডাকে পিছনে 
বাঁচতে চায় না বাঁচাতে সেটাই কিছুতেই বুঝি না।
.
বর্তমান যেন এক মিরাকল কনসার্ট 
নস্টালজিয়া নেমে আসে জীবনের আলপথ বেয়ে
অসংখ্য অজানারা মাথার মই বেয়ে বেহায়া যখন
তবুও বুঝেও না বোঝা,জেনেও না মানা,
তবুও দু-চোখে  এক স্বপ্ন মাখা ভবিষ্যতের জন্ম
সত্যিতো হাতের ছাপ কখনও অধিকার বিস্তার করে না
তোমার অধিকার খোঁজে সময় থেকে যযন্ত্রনা।  
.
আমাদের পূর্বজন্ম বলে একটা অধিকার থাকে
কিন্তু পরজন্মে অধিকার শব্দটা অভিধানের বাইরে
আমাদেরর অগণিত স্মৃতির পিক্সেল থেকে
আলো, রঙ, মায়া মিলেমিশে একটা ভুলভুলাইয়া।
ফাইবার অপটিক্স সি আর ও ব্রেডবোর্ড হয়ে মনিটর
রক্ত মাংস ফুরিয়ে এখন রোবটিক্স আমরা,
আমাদের সম্পর্করা যেন প্লাস্টিকে মুড়ে রাখা জীবন
যা ধুলো,মাটি,মাকড়সার জাল থেকে বাঁচানো 
কিন্তু সত্যিটা লুকোনো
ঠকছি আমরা
ঠকাচ্ছি আমরা
অথচ বারংবার বিস্ফোরণে ছিন্নভিন্ন পায়ের ছাপ
ক্রমশ আমরা মুছে ফেলছি
       হয়তো মুছতে চাইছি.... 
.
পায়ের ছাপ
... ঋষি 
.





Friday, December 6, 2024

আ্যলজাইমার


আ্যলজাইমার এক অসুখের নাম
শরীরে বাসা বাঁধা অসুরেরা চাইছে অন্তিম ছোঁবোল
সুপ্ত-গুপ্ত ইচ্ছার প্রকাশ এযাবৎ কবিতায় লেখা,
তোমার কবিতার অভ্যেসেরা ধরন বদলাচ্ছে
তাই আমি পিছিয়ে চলেছি ক্রমশ
ক্রমাগত সম্পর্কের রক্ত শুষছি
জানি তুমি নেই এ শহরে
তবু আমি ভ্যামপায়ার  দূর্গ সামলাচ্ছি। 
.
কবির কবিতায় প্রেম পাহাড়ি নদী উচ্ছলতা
আত্মকথনে সময়ের চারফর্মা এ শহরের দিনলিপি
প্রেম, পরকীয়া বা স্বকীয়া  ছোঁয়াচে নয়
শুধু সম্পর্ক শব্দটা কবিতাগত ছন্দমিলে অন্তমিল। 
সিলেবাস শেষে এক অন্তিম মুহুর্তে থমকে দাঁড়ানো 
দু-চার পেগ ধোঁয়া আর কোন পাণ্ডুলিপি সিরিজ
কবিতায় যেন  ত্রিকালদর্শন খোঁজা। 
.
কবিতার শেষ চরণে কিছু নৈর্বেদ্য, জবা ফুল 
আর হাইপারথট,টেনসন, মুক্তি
যুদ্ধকালীন তৎপরতায় তৈরি এই ফটোফ্রেম
স্মৃতির বায়োপিকে চৌষট্টিকলা আর কালপুরুষ 
সময়ের কবিতার পাতায় প্রেম আর আমি। 
তোমাকে মিস করাটা অভ্যেস নয় আমার
আসলে একটা রোগ  আ্যলজাইমার,
বসন্ত বাহার ও রাগ এর মূর্চ্ছনায় থমকে যাব জানি
তবু তোমার নুপুরের শব্দটুকু আমার কবিতারা পাবে না
পাবে না শীতের রৌদ্রের আমজে
শুধু সেমিকোলন আর কলমের একটু আগে
আমি লিখছি
জানি তুমি পড়বে না। 
.
আ্যলজাইমার
..ঋষি 


Tuesday, December 3, 2024

শূন্য

শূন্য' একটা নিউমরিক শুরু অথচ শক্তিশালী ভাবনা
আগে থাকলে দাম নেই আর পিছনে থাকলে নতুন শুরু
সম্পর্কের জুড়ে থাকায় যেমন শূন্য' আছে
সম্পর্কের দূরত্বতে সেই শূন্যই' থেকে যায়। 
আমরা আছি, আমরা থাকবো 
এটা একটা অসীম, একটা শূন্য'
আবার আমরা আছি শুধুই থাকতে হবে বলে
সেটাও শূন্য',একটা অস্থিরতা। 
.
ইদানীং এই শূন্যর খেলায় শহরটা দৌড়চ্ছে
কেউ শূন্য সময়ের  মধ্যে হেঁটে যায়
আবার ক্লান্ত হবে বলে,
কেউ আবার এই শূন্য সময়ে দাঁড়িয়ে টাকার পিছনে শূন্য বাড়ায়
কেউবা অকাল ব্যারিকেডে এপারে দাঁড়িয়ে খোঁজে
দূরে কোন শূন্য স্বপ্নের জাস্টিস
কেউ পিছু ফিরে অতীতপ্রিয়তায় বোঝে শূন্য।
.
তাই শূন্য ভীষন জরুরী এই সময়
কারণ আমরা শূন্য সাঁকোর মাঝামাঝি দাঁড়িয়ে 
আয়েসি বিপ্লবের মতো জীবনটাকে ভাবি।
শূন্য হলো ভীষণ সেন্সিটিভ 
সে আসলে প্রতিটা মানুষের ভিতর মুক্তি
শূন্যর কোলে কোন হিংসা,রাজনীতি,ঠকানো
ছোট, বড়, ধর্ম,,ভালোবাসা,প্রেম, মুক্তি
না কিছু নেই
কারণ শূন্যর পরে যে কিছু পরে থাকে না। 
তাই শূন্য একটা একলা গন্তব্যের নাম
শূন্য মানে মুক্তি
শূন্য একটা অনুভুতি,
শূন্যর স্থপতি হলো সময়ের নির্লিপ্ততা
যা মানুষকে আজন্ম পোড়ায়
তাই  শূন্যকে মেনে নিও
        মেনে নিতে হয়।
.
শূন্য
..ঋষি 

Friday, November 29, 2024

কবি

কবিদের সত্যি কোন সময় হয় না কবিতার
কবিদের নারী হয়, পাঠকপাঠিকা হয়, প্রেমিকা হয়
কিন্তু নক্ষত্রের মতো কবিদের আকাশ জুড়ে শুধু দু:খ,
আসলে কবিদের দুঃখ কেউ বোঝে না
অথচ দুঃখ থাকে,দুঃখই থেকে যায় গভীরে
তাই কবিতা আসে
তাই আসে কবিতার শব্দরা আগুনের স্পর্শের মতো
আর একটা জ্যান্ত জীবন এ ভাবে কবিতা হয়ে যায়।
.
এরপর শহরটা ঝাঁপিয়ে পড়ে একদিন
গড়িয়াহাট থেকে একের পর এক বাস উন্মাদপ্রায় একটিও না ধরে দাঁড়িয়ে থাকে কবি একলা
মানুষ দেখে,সময় মাপে,হাতড়ায় কবিতার শব্দদের,
কেউ কেউ আবার আধাশীত গায়ে নন্দনে কবিতায় 
কেউ আবার সম্পর্কের সময়ের অভিশাপ লেখে
আসলে তারা সকলেই কবিতা চায়
কবি হতে চায় তার অধিকাংশ। 
.
দক্ষিণেশ্বরের খাঁ খাঁ সান্ধ্য-স্টেশন থেকে নাগেরবাজার হাজারো চীৎকার, থইথই মানুষের ভিড়
সেই সান্ধ্য নিস্তব্ধ স্টেশন থেকে কবিতা আসে
কবিতা আসে সেই চীৎকার আর ভীড়ের ভিতর দিয়ে , 
কফিহাউজের সিঁড়ি বেয়ে কবিতারা একজোট হয়
মানুষের মিছিলের দেওয়ালে কবিতারা প্রতিবাদী
এ যেন এক পাগল প্রেম
এ যেন এক তীর্থ, এক ঈশ্বর, এক বাঁচা।
.
কবিতাগুলো সদা সর্বদা নির্লজ্জ
ভালোবাসার মানুষ চলে গেলে গা ঘেঁষে বসে 
ভালোবাসার মানুষ কাছে এলে নগ্ন হয়ে যায়
কবিতাগুলো সদা সর্বদা সময়ের
রাস্তায় নেমে শ্রমিকের পাশে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে
প্রতিটা লাঞ্চিত ঘটনার মাথায় হাত রাখে।
কবি হতে গিয়ে কতজন যে প্রেমিকা হয়ে যায় 
অথচ প্রেমিক হতে গিয়ে কতজন যে কবি
সে এক ইতিহাস, 
কেউ কবি হবার অভিশাপ নিয়ে হেঁটে যায় রাস্তায়
কেউ কবিতার আশীর্বাদে পাগল হয়ে যায়
আসলে এভাবে একটা জ্যান্ত জীবন কবি হয়ে যায়।
.
কবি
... ঋষি 

Wednesday, November 27, 2024

তোমাকে চাই

তুমি তুমি তুমি,শুধু তোমাকে চাই
স্ক্রিনশটে নীল আকাশের মাঝে একবিন্দু জমি 
শুধু তোমাকে চাই,
আমার আগামী আগুনে ঘি দেওয়া মৃত্যুর মুহুর্তে
একান্ত তোমার কবিতার পাতায় জ্বালাপোড়া অভিমানে 
শুধু তোমাকে চাই। 
.
বিশেষ কিছুই নয়
এমন কর্মব্যস্ত শহরে আচমকা দেখা হওয়ার মরশুমে
তুমি, শুধু তোমাকে চাই
বাইরে  একটা গোটা পৃথিবী প্রচণ্ড কোলাহল
আর ভুলে ভরা সম্পর্কের  কোষাগারে, মুক্তি
শুধু তোমাকে চাই।
.
কোনও বর্তমান কিংবা ভবিষ্যত নেই 
একখানা সাধারণ দুপুর এই শহরে চুরি করে 
চুরি করে রবীন্দ্রনাথ, শক্তি,সুনীল মানুষের মনে
আসলে কি লেখে তারা কবিতায়
শুধু তোমাকে চাই। 
কে কে ছেড়ে গেছে, কেন আর বুকের পুকুরে বিষ  
পা পিছলানো পুকুরঘাটে স্মৃতিদের আদর 
বলতে বলতে অন্যমনস্কতায় এক বুক  শৈত্যপ্রবাহ
হারতে  হবে জেনেও তীব্র আলিঙ্গন
কারণ তোমাকে চাই
তারপর বিচ্ছেদ ধরে বছর ঘুরে যায় বারংবার
ফের শীত, ফের শীতলাগা বুক কেঁপে ওঠে
তুমি খোঁজ আগুন আমাকে পোড়াবে বলে
আমি খুঁজি তোমায় আগুন নেভাবো বলে 
তাই শুধু তোমাকে চাই। 
.
তোমাকে চাই
ঋষি 

Saturday, November 23, 2024

জানতাম না

জানতাম না এক প্রতিবাদী আন্দোলন
রাতভর মিটিং,মিছিল,অনসন সবকিছু মিথ্যা 
মিথ্যা কাগজফুলের মতো গন্ধহীন এশহরে
এক পৈশাচিক রাত্রির আয়ু, রক্তের গন্ধ।
বিপ্লব এখন ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে রোজ হাসাহাসি করে
সেখানে দৈনন্দিন বাড়তে থাকা ধর্ষন একটা ঘটনা
লাভলোকসান আর বিজ্ঞাপন নিয়ে যে প্রতিবাদ
সে স্পষ্টত অন্ধকার এবং অপরাধ
আমি তাকে ঘৃণা করি। 
.
জানতাম না সাতসকালে বিক্রি হওয়া খবরগুলো 
রাতভর লাইভ খবরে ব্যস্ত সেই সব মানুষগুলো 
প্রতিবাদ থেকে প্রহসন, গ্রীনরুমে নায়িকা ডার্লিং
সব ছেড়ে যারা হুংকার দিয়েছিল আমরা মানুষ
তারা সব মিথ্যা,
সত্যি রেইন কোটের ভিতর লুকিয়ে থাকা ঈশ্বর 
যারা উৎসব চেয়েছিল, যারা উৎসবে সেজেছিল
তারাই আমরা
আমি সেই আমাদেরকে ঘৃণা করি।
..
জানতাম না এশহরে অনুভুতিরা শুধু মরে
আর ভুতের মতো কিছু অবয়ব চলাফেরা করে
যারা সত্যি বলে না কিংবা বলতে চায় না
যারা শিক্ষিত বলে নিজেরা ঢাকঢোল পেটায়
মঞ্চে মঞ্চে জোকার সেজে হুংকার দেয়
তারা সকলে অন্ধ এবং ভন্ড,
শিক্ষিত সমাজ, আগামী প্রজন্মের ভিত্তি মিথ্যা
মিথ্যা এই সভ্যতা
আমি এই সভ্যতাকে ঘৃণা করি।
.
উচ্চারণ করি মানুষের সভ্যতা মুখাগ্নির মন্ত্র

ওম মহাদেবায় বিদমহে,

রুদ্রমূর্ত্যে ধীমহি,

তন্নঃ শিবঃ প্রচোদয়াৎ ॥

.

জানতাম না

.. ঋষি 




Thursday, November 21, 2024

পাগলামী

ঘোলাটে মাথার ভিতর দিনরাত যেন পাগলামি 
আমি স্পষ্ট টের পাই নিয়ম করে ছুরির উপর সূর্যাস্ত 
আমি কবিতা লিখতে থাকি
ঠিক শুনতে পাই শীত যেন টোকা দিচ্ছে দরজায়
দরজা খুলি 
শীত করে
বুঝি আমার সন্ধ্যেগুলো এ শহরের কবিতার কল্পনায়। 
.
অন্য কবিদের পান্ডুলিপিতে আমি থমকে দাঁড়াই
নিকোটিনে লাগামহীন প্রেম,আশ্রয়, পাতা ঝরার শব্দ
আমাকে দু:খী করে,
কান পেতে শুনি শহরের কথা, অজস্র পায়ের শব্দ
সবাই ইদানীং কম শোনে বড্ড কথা বলে, 
ভালোবাসা হাতছানি দেয় আমি মাথা নিচু করি
মৃত্যু এসে কবিতার ভাষা উপহার দেয়
দেখি তোমার চোখের কোণায় এক বিন্দু জল
অথচ প্রতি হাহাকারের পিছনের আকাশে রঙিন রং নীল
সে যেন শূন্য। 
.
বেরিয়ে পড়ি রাস্তায় শুনি সময়ের অবসাদ
আমি একলা হাঁটি শুনি  নি:সঙ্গতার ফাঁদ
তারপরে একলা মনে টেলিপ্যাথিতে হাল্কা হাওয়ার পিঠে চড়ে তুমি এসে পড়ো
হঠাৎ শীত করে
বুঝি এ পাগলামী। 
আর ভালো লাগে না পথচলতে, বাড়ি ফিরে আসি
বিছানায় পাশ ফিরে শুলে ভাবনারা পাশ ফেরে
তখন জানলার দিন ফুরোনো আলোয় আততায়ীকের পা,
নিজের ডানাদুটো বহুদিন বন্ধক রাখা আছে প্রেমে
আর প্রেমের স্কেচে ইদানীং দেখি
আমি মাথা নীচু করে বসে তোমার পাশে। 
.
পাগলামী
.. ঋষি 


Monday, November 18, 2024

প্রেমের কবিতা

আজ অবধি কোন প্রেমের কবিতা লেখা হয় নি
কারণ প্রেম কখনও সম্পূর্ণ  না
কখনও কোন সবুজ গাছের দিকে তাকিয়ে 
ভাবা হয় নি জীবনটা খুব সুন্দর,
শুধু অভিযোগ, অনুযোগ,আক্রোশ নিয়ে বাঁচা
এই শহরের প্রতি স্কোয়ারফুটে শুধু দু:খ খোঁজা
কখন তোমার মত করে তোমাকে ভাবা হয় নি। 
.
তোমারে আদর বলে ডাকবো ভাবি
কিন্তু গুরুপাকে বারবার উঠে আসে নিমন্ত্রনের তালিকা
ভাবি দু'বেলার ভাতে, ডালে, অম্বলে জীবন কাটাবো
খুব সাধরণ কবিতায় লিখবো অসাধারণ প্রেম
কিন্তু আজ অবধি প্রেম লেখা হয় নি,
কারণ মুক্ত নীল আকাশখানি বহুদিন খাঁচা বন্দী
আর আমাদের বুকে তীর মহম্মদ রফি। 
.
বহুবার ইতিহাস বইয়ে বুদ্ধের ছবি দেখেছি
সাধাসাধি করেছি রুমাল থেকে বেড়াল
রাস্তা থেকে জীবন সর্বদা নিজেরটুকু বুঝেছি 
কিন্তু কখনও বুঝি নি বুদ্ধের মানে, 
গ্রামের পথে কাদা মাটি দেখে হয়তো বাউল সেজেছি
সত্যজিৎ থেকে মৃণালসেন বারংবার দেখেছি
ইন্টালেকচুয়াল মুখোশে শহরটাকে বুঝেছি
কিন্তু বুঝে উঠতে পারি ভালো থাকার মানে। 
এসবই ভাবি কেবল
ভাবি তোমাকে কখনও তোমার মত করে বোঝা হয় নি
ভাবি জীবন মানে এক অসমাপ্ত কবিতা
ভাবি কবিতার প্রেম বোধহয় স্বপ্নের তুলি
কিন্তু জীবন সে তো দেহহীন ভস্মের ছাইরং
শুধু নাভিটুকু পড়ে থাকে
জন্মের অপেক্ষায়… 
.
প্রেমের কবিতা
.. ঋষি 


ঘুম আসছে না

অন্ধকার শহরটা খুলে রাখছি পাতায় পাতায়
তারপরও ঘুম আসছে না
কবিতা বলে মেয়েটা তার ছানাপোনা নিয়ে আমার দরজায় দাঁড়িয়ে
আমি দরজা খুলি
দেখি অন্ধকারে সিলিংএ  তার হারানো সংসার,
মনে মনে ভাবি কবিতারা কেন যে নারী হয়
কেন প্রকৃতি হয়, কেন সৃষ্টি,কেনই বা দু:খ ? 
আজ অবধি খুব  কম কবিকে আমি আনন্দ লিখতে দেখেছি । 
.
এর পর আমার চারতলার ফ্ল্যাটের জানলার পর্দা নড়ে
আকাশে একফালি চাঁদ স্বপ্ন বিছিয়ে দেয় বিছানায়,
দূরে কোথাও গৃহস্থের শিশু কেঁদে ওঠে
চিৎকার করে রাস্তার কুকুর, 
দেখি কবিতা শুয়ে আছে একলা শুনশান এসপ্ল্যানেটে
দেখি কবিতা জেগে আছে স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে 
দেখি তুমি কখন কবিতা হয়ে দ এর মত শুয়ে স্বপ্ন দেখছো
তুমুল মঞ্চে তোমার আবৃতিতে ফেটে পড়ছে একাডেমি। 
.
তারপরও এই অন্ধকার শহরটার ঘুম নেই
হঠাৎ হঠাৎ চীৎকার করে কেউ বলছে জাগতে রওহো
শুনশান কলেজস্টীট,শ্যামবাজারের নেতাজী,ফাঁকা চায়ের দোকানের বেঞ্চি
সব যেন কবিতা এই মুহুর্তে 
রাস্তায় পাশে সার দিয়ে দাঁড়ানো বাস,ট্রাম ডিপোতে ট্রামগুলো 
রবীন্দ্রসদন, নজরুল তীর্থ,সাউথসিটি মল
সব যেন কবিতা।
কি মুশকিল 
ঘুম আসছে না, আমি যেন কবিতার শব্দের মত যন্ত্রনা
চোখ বন্ধ করছি
দরজা বন্ধ করছি
কবিতা বলে মেয়েটা দরজা থাবড়াচ্ছে
অথচ আমি জানি শহর ঘুমোচ্ছে,ঘুমোচ্ছে সম্পর্ক
ঘুমোচ্ছ তুমি,ঘুমোচ্ছে এ শহরের ক্লান্ত জীবন
অথচ আমি
ঘুম আসছে না। 
.
ঘুম আসছে না
.. ঋষি 



কিছু ভুল

সব পাওয়া মানে জীবনে ১০৮ টা ভুল
জীবনে ফুলস্টপ, দাড়ি,কমা, নষ্টালজিক হওয়া জরুরী
জীবনে সাইকেল স্পোকের মত অসংখ্য নির্মান
১৬ তলা বাড়ি, গাড়ি, বারান্দায় ফুল সব সত্যি
কিন্তু কি জানেন
একটা প্রশ্ন থাকেই 
মানুষটা,হ্যা মানুষটা কতটা জরুরী ? 
.
এ শহরের পায়ের উপর পা তুলেও ঠাসাঠাসি ব্যস্ততা
জুতোর তলা খসা ইনকাম প্রসেস,
তবুও জানেন কেউ কেউ ছবি আঁকেন, কবিতা লেখেন
গান করেন,নিজের বাড়ি সাজান, গুছিয়ে রান্না
কিন্তু শান্তি? কিন্তু সময়? 
সম্পর্কের প্রেসার কুকারে এডজাস্ট বলে শব্দ বাজে
এডজাস্ট মানে দেশের জনতা
শুধু মানছে, কারণ উপায় নেই। 
.
আমি কুইনবিল্ডিংএর আটাত্তর তলা থেকে আকাশ দেখি
দেখি রোহিনী, ধ্রুবতারা, কালপুরুষ আরও কত
নিজেকে অন্ধকারে পেঁচা মনে হয়
মনে হয় সম্পুর্নটা একটা অসুখের নাম
একটা না শেষ  হওয়া দৌড়।
চারিদিকে দেখি অবাক লাগে
পাশ করলে চাকরী চাই, চাকরী থাকলে উন্নতি
সাইকেল থাকলে বাইক চাই, বাইক থাকলে গাড়ি
কবিতা লিখলে মঞ্চ চাই,মঞ্চ থাকলে নাম 
বিড়ি টানলে সিগারেট, সিগারেট হলে মদ 
খেতে পেলে শুতে চাই, শুতে পেলে ঘুম 
কিন্তু ভালো থাকা ? 
.
যেন একটা পাগলামি চলছে শহর জুড়ে, দৌড় আর দৌড় 
যেন একটা বিশাল বড় গ্রাইন্ডারের ভিতর শহর 
জায়গা বদলাচ্ছি আমরা বারংবার, শান্তি নেই মনে, 
আসলে আমাদের সকলের ভীষণ অসুখ
মিথ্যা বলি না আমরা যতক্ষন সত্যি বলা যায়
চুরি করি না আমরা যতক্ষন না সুযোগ পাওয়া যায়
মানুষের পাশে থাকি তো যতক্ষন সুবিধা পাওয়া যায়
মানুষকে দি ততক্ষন যতক্ষন ফেরৎ পাওয়া যায়
শুধু টাকা,শুধু স্বার্থ, শুধু আমি, শুধুই কারণ 
এখানে ভালোবাসা নেই, এখানে সম্পর্ক নেই 
এখানে শুধু বিবেকহীন আমি, আমরা আর তুমি
সকলেই শুধু জিততে চাই, পেতে চাই
কিছুতেই বুঝি না
মাঝে মাঝে হেরেও জেতা যায়
          সবটুকু না পেয়েও ভালো থাকা যায়।
.
কিছু ভুল 
... ঋষি 




Friday, November 15, 2024

ফুরোনো সময়

ক্রমশ  রাত্রি যখন দিন শেষে বাড়ি ফিরছে
ক্রমশ দিনগত পাপক্ষয় শেষে আমিও যখন পথে ক্রমশ কলকাতা প্রত্যাশিত শীত যখন ঘোমটা পরে
এক  মন্থর সন্ধ্যের কথা লিখছে 
তখন আমার মাথায় মানুষের ব্যর্থ জীবন ঘুরছে
ঘুরছে  মানুষদের ভাঙা-গড়া সম্পর্কের এক অমীমাংসিত খেলা।
.
পার্কের ঠিক দু'নম্বর গেটের সামনে ক্লান্ত হর্ন
আর  নিয়মিত অপেক্ষারত টোটোর লাইন 
পাশের বেঞ্চ থেকে একখানি কথা তরঙ্গবাহিত 
অথচ ভীষণ বেপরোয়া, 
এক আকুল যুবতী কাকে যেন ফোনে বলছে
" সবকিছু করছিস কর বারণ তো করিনি, 
কিন্তু আমাকে একটু সময় দে..." 
ব্যাস, এটুকুই
চমকে উঠলাম।
.
আমি বিচলিত নই, নির্লিপ্ত এবং ক্লান্ত
কারণ আগেও বহুবার হয়েছে,
এই নাটকের শেষাংশ বহুবার অভিনীত হয়েছে আগে  কখনও শ্রোতা , কখনও বক্তা , কখনও স্রেফ দর্শক হয়ে আমি এর মধ্যে দাঁড়িয়েছি
সেকারণেই আমি জানি, অথচ বলতে পারলাম না
বলতে পারলাম না সেই  যুবতীকে কিছুতেই
"সময় ফুরিয়েছে যে"।
যেমন ফুরোয় দিনান্তে রাত, রাত অন্তে দিন
যেমন ফুরোয় কথারা,কথার শেষে মুহুর্ত 
যেমন ফুরোয় প্রিয় মুখ দিনবদলের কবিতায়
আমি সেই যুবতীকে বলতে পারলাম না
এইবার তোমার সব স্বপ্নদের গায়ে ধুলো জমবে
এইবার তোমার বুকের ভাঁজে প্রজাপতিদের মৃতদেহ
এইবার তোমার সময় কাটবে এক অভিশাপে।
এরপরও এই কলকাতায় সন্ধ্যে হবে
আকাশের ধুলোর ফটোফ্রেমে চাঁদ হাসবে
কিংবা হাসবে না
এরপরও এই শহরের সম্পর্কের ভীড়ে সম্পর্করা বাঁচবে
কিংবা বাঁচবে না
কিন্তু তোমাকে তো বাঁচতেই হবে। 
.
ফুরোনো সময়
... ঋষি 

Monday, November 11, 2024

তোমার শব্দদের শুভেচ্ছা

তোমার প্রতি অব্যক্তকে শুভেচ্ছা 

শুভেচ্ছা তোমার কেটে যাওয়া কথপোকথনের রেশটুকুকে

শুভেচ্ছা আমার আলো -কাদা ঘাঁটাঘাটি করে

ভুল পথে হাঁটাহাঁটি করে ফিরে এসে দেখা

অন্য পাথুরে তুমিটাকে

করিডোরের একপাশে পরে থাকা স্মৃতিটুকুকে শুভেচ্ছা।

.

এভাবেই ঢেউখেলা ধানক্ষেতে তুমি শহর ছড়াও

এভাবেই অনবদ্য কবিতায় তুমি মৃত্যু আঁকো

এভাবেই আমি অবাক হই প্রতিবারে, হই স্তব্ধ 

তোমার অপার্থিব মুখে ফুটে ওঠে আমার যোগ্যতা,

আহত পাখির মতো আমি ডানা ঝাপটাই

তবূও বলতে ভুলি না অনন্ত শুভেচ্ছা এভাবে তোমার ভালো থাকাকে ।

.

ইদানীং  মনে হয় বহুদূরে আছি

কিছু মনে থাকে না আমার এই জীবনের ভুমিকায়

তবু থেকে যায় তোমার বেঁকে ওঠা ভুরুতে হঠাৎ বিরক্তি

তোমার নিঃশ্বাসে অকৃত্রিম  মৌরির নেশা

আর অনবদ্য কবিতার শব্দে এক অন্ধ বিপন্নতা।

জানি সময় নেই,

একদম সময় নেই একটা না ফুরোনো গল্পের কাছে

চরিত্ররা লণ্ঠনে মধু ঢেলে বেড়িয়ে পরে অবেলায়

আমদানি রপ্তানি হিসেবের শেষে

তোমার অসমাপ্ত গানে আমি অসম্পুর্ণ থেকে যাই,

তবু বলতে ভুলি না

শুভেচ্ছা তোমার বেঁহুশ শব্দগুচ্ছকে ।

.


তোমার শব্দদের শুভেচ্ছা

... ঋষি

Thursday, November 7, 2024

গর্ভপাত


সময়ের সমান্তরালে চলতে চলতে
সারা শহর জুড়ে ইদানীং  পচা গলা দুর্গন্ধ নাকে লেগে
চেনা আয়নায় পরিমাণ মতো দিনযাপনের পর
সারা শহর ঘুড়ে দেখি কিলবিলে হাজারো জোঁক
রক্ত শুষছে মানুষের
এই শহর জানে কি ভাবে মানুষ ভোলাতে হয়। P
.pllplppplppppppppppppppppppppppplpppplppllpllllllppppppppppppppppppllpppppppppppppppppppppppppppppppppppppppppp0a3l0al30al3pa2wwwll3lal0wwwww2wwwwwwww2wwwwwwwwwwwwwwwwwwwlllllllllllllp
আশ্বিন ফুরিয়ে গেলে শহর আর ইতরের মাঝে  তফাৎহীন, দূরত্বহীন এক ভাগাড়ে নিঃশ্বাস po po 00 a03333
এ যেন নিয়তি ও অভিশাপ,
ভেঙে পড়ে মেয়েটার অভিমান
আলতা হাতে উঠে দাঁড়ায় ফটোফ্রেমে তার পায়ের ছাপ
এই শহরই পারে একটা জ্যান্ত শরীরকে গিলে খেতে।
.
ইদানীং মনে হয় সমস্ত মায়ের কোল খালি হোক
তবে আর ভুলবে না কেউ,
সেই ধর্ষিত মেয়েটার চিৎকারে শ্মশান হোক শহর
তবে আর মনভোলাতে উৎসবে মাতবে না কেউ
এতগুলো জাদুবীজ, আইন আদালত, মিডিয়া 
হিজিবিজি সাজানো সময়
তবে আর মিথ্যা জাস্টিস খুঁজবে না কেউ।
শুধু অসংযত অন্ধকার, তারপরও বারবার
মিথ্যে তবে নদীর গর্ভপাতে শ্মশানের হাহাকার
অন্ধকার পাহাড়মুখে সে চোখ বিলুপ্ত সামিয়ানা
যাই হোক, সবটুকুই মিথ্যা তবে
মিথ্যা এক অসুখের অভিনয়ে থমকানো শহর  জাতিশ্বর বীজ
কিছু বদলায় না
পুরোনো আতরের মতো মিশে রয়েছে অবশেষ
সব্বাই ভুলছেন কি করে ?  ছি....।
.
গর্ভপাত
... ঋষি 

Wednesday, November 6, 2024

ওদের কথা

পরিচ্ছন্ন আকাশ নিয়ে গোধূলি ফুরোলো আজ 
আন্তরিক শুভেচ্ছা নিয়ে সময়টুকু কেটে গেলো
আমি ওদেরকে জানি , দূর থেকে জানি
দূর থেকে জানা ভালো, ডানাভাঙা পাখির মতন,
উড়তে চাওয়ার আগে পাশাপাশি হাঁটাটাই স্বাভাবিক 
তাই আকাশের রঙে আমি একমনে সাহস মেশাই
সাহস মিশিয়ে দিই এই শহরের নির্ঘুম রাতের মিছিলে।
..
অথচ আমার সাথে তোমারও যে কি ভীষণ মিল
তোমারও গোপনে লুকোনো অনবদ্য চুপকথা
আর আমার চুপকথায় লেখা সময়ের রুপকথা, 
আমার বাড়ির জানলা থেকে দেখা  নিঃঝুম গাছগুলো ফাঁকা পাতা, দিনলিপি আর 
রাস্তার হাজারো বাঁক
তুমিও পথিক জানি, অতএব, ঐ কথা থাক।
.
শেষ ট্রেন চলে গেছে, কোথাও আর যাত্রী নেই
ছেঁড়া মাদুরের পাশে ছিঁড়ে যাওয়া কাঁথা
প্রাচীন শৈশবগাঁথা,
এর পর একাধিক মালগাড়ি যায় আসে
তাই বলে কথার অভাবে, কথারা ফুরোয় না
অথচ ট্রেনলাইনের সিম্ফনিতে শোনা যায়
ক্রমাগত ওদের কথা। 
.
দৃশ্যরা ঝরে যায়, ঝরে যায় সময়
আঙুলেরা ছুঁয়ে যায় সময়ের চামড়ায় স্মৃতিঘোর
আমি ওদের চিনি,ভীষন কাছ থেকে চিনি
কাছ থেকে চেনা ভালো,সমুদ্রের কচ্ছপের মতন
তাই একমনে তারা সময় সমুদ্রে  পাশাপাশি হাঁটে
রাতের আকাশে ক্রমাগত বাঁকা চাঁদ হাসে
ওদের যে প্রবেশ নিষেধ, জানে সমুদ্র নীল,
.
জানো তো ওদের সাথে আমাদেরও যে ভীষণ মিল...
.
ওদের কথা
.. ঋষি 

Tuesday, November 5, 2024

ওরা কবিতা হতে চেয়েছিল

বাটিতে হালকা কিছু সুখস্মৃতি আর কিছুক্ষনের ঝগড়া চিবিয়ে ওরা বারান্দায় বসে
হাতে ওদের উষ্ণ পুরোনো সেই দিনের কথা  
নিষ্প্রভ চোখে তাকাচ্ছে ওরা সময়ের নিচের ব্যাস্ত রাস্তার দিকে
 পিঁপড়ের মতো জীবন 
অথচ স্বপ্নরা মরেও মরে না 
ওরা দুজনেই কবিতা হতে চেয়েছিল 
কিন্তু কলম ওদের জীবিত করতে পারেনি।
.
বক্তৃতার মঞ্চের নীচে প্যাচপ্যাচে আত্মসম্মানের উপর দাঁড়িয়ে আছে ওরা 
ঠেলাঠেলি করছে খাবারের প্যাকেটের লাইনে
হাততালি শব্দ , মাইকে জয়ধ্বনিরা   হাই তুলছে
নিলজ্জ জীবন 
ওরাও  সকলেই চেয়েছিল কবিতা হতে
চেয়েছিল কোনো অজেয় কবির কলমে সত্যির পতাকা লিখতে 
কিন্তু পাঠক ওদের অগ্রাহ্য করে পাতা উল্টে চলে গিয়েছে।
.
পানশালার আনাচে কানাচে টেবিলেটেবিলে গেলাসের সামনে  ঘোলাটে মন 
ওরা কেউ হাসছে, কেউ কাঁদছে, কেউ বা  খিস্তি দিচ্ছে অদৃশ্য সময়কে 
ওদের অস্পষ্ট চেতনা বুঝবার চেষ্টা করছে কিংবা  ভোলবার চেষ্টা করছে 
নিজেকে আরো অচেতন করার চেষ্টা করছে 
অকৃতজ্ঞ জীবন ,
ওরা আমায় বলেছিল, ওরাও কবিতা হতে চায়।
কিন্তু একলা মেঘ,শহরের কলরবের ভিড়ে ওরা  হারিয়ে গেলো শেষমেশ।
.
আসলে সকলেই কবিতা হতে চায় 
সকলেই কবিতার মতো সুন্দর একটা জীবন চায় 
সকলেই কবিতার ছন্দে নিজেকে দেখতে চায় 
কিন্তু কবিতা বড় অশান্ত নিজে 
তার সংসারে চিরকাল অভাব ,খিদে আর যন্ত্রনা 
সেখানে আধপেটা খাওয়া  এই মানুষগুলো সব প্রেতাত্মা 
এ যেন ঈশ্বরের অভিশাপ ওরা কবিতা হতে পারবে না কোনদিন । 
.
ওরা কবিতা হতে চেয়েছিল 
ঋষি

Saturday, November 2, 2024

সবার ভালো হোক

সবার ভালো হোক
এর ওর তার সকলের 
আমার ওপর যাদের রাগ, যাদের হা  হুতোশের জ্বালা সব্বার ভালো হোক
একটা বয়সের পর এমন একটা ভাব আসে সকলের 
একটা সময়ের পর পৃথিবীর পবিত্রতা নিয়ে মাথা ব্যাথা হয় না 
বরং দিন গুজরানে দিনগুলো কেটে যাক এমন মনে হয় । 
.
তাই ইদানিং মনে হয় 
সবার ভালো হোক 
সেই মেয়েটার ভালো হোক যে প্রথম আমাকে বলেছিল ভালোবাসি 
কিন্তু ছেড়ে চলে গেছিলাম হঠাৎ কারণ ছাড়া, 
সেই টাকমাথা লোকটার  ভালো হোক যে আমাকে চাকরীর ইন্টাভিউতে বলেছিল 
আমি নাকি অতি সাধারণ ,আমার চাকরী হবে না 
সেই ছেলেটার ভালো হোক যে অফিসটাইমের বাস থেকে আমাকে ঠেলে ফেলেছিল 
সেই মহিলার ভালো হোক যে বলেছিল বাবা এই দুনিয়ায় আমরা সকলেই ক্রীতদাস
সেই বৃদ্ধের ভালো হোক যে শান্তিনিকেতনে আজও একতারা বাজিয়ে গান করে 
ভালো হোক সেই মাতালের ,সেই রিক্সাওয়ালার ,সেই রাস্তার 
ভালো হোক তোমার ,তোমাদের ,সারা দেশের ।  
,
কিন্তু যা কিছু নিভৃত
সেসব আমার থাক ,সেখানে আমি একলা থাকি 
কিন্তু যা কিছু যন্ত্রণার 
সে সব সময়ের  থাক ,সেখানে আমি একলা বাঁচি 
কিন্তু যা কিছু মুহূর্তের 
সে সব হৃদয়ে থাকে ,সেখানে আমি একলা কাঁদি। 
মনোরম দূরত্বের আকুলতা আরও গভীর হোক 
গভীর হোক আমার নিভৃত সমাধি নিজের গোপনে 
এই শহরের ব্যাকুলতার নতুন ঠিকানা হোক এডজাস্টমেন্ট 
এই হৃদয়ের নতুন ঘর হোক সাজানোগোছানো সফিস্টিকেট 
তবু মুখে হাসি থাকুক ,থাকুক মিথ্যে সফলতা 
সবার ভালো হোক 
নচেৎ দু'টি ঝরাপাতার দেখা যাবে না জীবনে 
হাঁটা যাবে না জীবনের অনুর্বর তোমার উপস্থিতিতে। 
.
সবার ভালো হোক 
... ঋষি

Wednesday, October 30, 2024

গালাগাল

কাল রাতে নবারুণ স্যার স্বপ্নে এসে উদোম গালাগাল দিল 
বললো হতভাগা ,তুইও ?
গালাগালগুলো তোমার মুখেও অবিকল একইরকম শুনেছিলাম 
তাই ঘাবড়ায় নি মোটেও 
মানুষের অভ্যেসের দাস ,আমি  ঘুরে দাঁড়িয়ে বললাম 
স্যার আমি পুরুষ ,আমার পুরুষ কামান জাগাটা কি অপরাধ ?
তোমাকে বললাম শুধু অভিমান হয় 
কারণ তোমার চোখে আমি পুরুষ রয়ে গেলাম। 
তারপর মাঝরাতের কবিতায় আমার ঘুম উড়ে গেলো 
আমি কবিতা লিখতে চাইলাম ,শব্দরাও গালাগাল দিল। 
.
নবারুণ স্যার বললেন কি লিখছিস এসব এসব এতদিন ধরে  
কবিতা না ছাইপাশ ?
তোমার মুখেও শুনেছিলাম তার আগেই অবিকল একই রকম 
তাই ঘাবড়ায় নি মোটেও
আমি সটান নবারুণ স্যারের চোখের দিকে তাকিয়ে বললাম 
আমি খুব সাধারণ  ,আমি কবিতা লিখতে চাই নি 
লিখতে চেয়েছিলাম দেশ ,মানুষ ,সময় ,ভালোবাসা আর জীবন 
আমি কোনো জ্ঞানপীঠ পুরস্কার কিংবা আনন্দ পুরস্কার পেতে চাই নি 
পেতে চাই নি কবিতার মঞ্চ ,বিজ্ঞাপন 
আর তোমাকে বলার ছিল চলন্তিকা 
আমি ধর্ষণ করি নি
আমি শুধু ধর্ষিতার বিচার চেয়েছি বারংবার কবিতায়। 
.
তারপর কি হলো জানি না ,মাথাটা গেলো বিগড়ে 
আমি নবারুণ স্যারকে সটান প্রশ্ন করলাম 
আচ্ছা বলুন তো এত বড় কবি সব  ,সাহিত্যিক সকলে 
প্রতিটা মঞ্চে ,প্রতিটা বিজ্ঞাপণে ,বইমেলায়। একাডেমিতে এত দাপট তাদের 
তিলোত্তমার বলে মেয়েটিকে ধর্ষণ করে খুন করা হলো 
 কিন্তু তারা কেউ প্রতিবাদ করলো না কেন ?
আমি তোমাকে প্রশ্ন করলাম আমি সত্যি না ওরা ?
নবারুণ স্যার আবার আমাকে  গালাগাল দিয়ে বললেন 
যারা চাটে তারা ইস্পাত লিখবে কি করে কবিতায় 
আর তুমি বললে তুই মিথ্যে তবে সত্যি শুধু আমার 
ভালোবাসতে চাই তোকে শুধু কবিতায়।  
.
গালাগাল 
... ঋষি

Tuesday, October 29, 2024

জারজ

সমস্ত দৃশ্য আর অদৃশ্যের মাঝে এক দেওয়াল
কবিতারা যেন কবুতর ছটফট করে 
আলো 
আলো
আলো
অথচ মৃত বৃহন্নলার ঘরে শরীর আঁকড়ায় 
হাঁটু গেড়ে বসে কিছু প্রাচীন স্বভাব। 
.
অভাবের ঘরে স্বভাব
খাঁচার ভিতর অচিন পাখি নীল আকাশে গায়ে
কবিতার দেওয়াল থেকে রোদচশমার আড়ালে
বয়স নিমন্ত্রন,
নিমন্ত্রন পুরনো ফুসফুস ঘেঁষে সিগারেটের দোষ
সময় এখানে বারুদের ঘরে বেঁচে থাকা
আর তোমার ঘরে শ্মশানের চিতা কাঠ। 
.
দৃশ্য অদৃশ্য খুঁজে ভালো আছি
ভালো আছি একটা রোগের মতো কিছু কাঠবেড়ালি যেন
সুস্থতা খুঁজি,খুঁজি তোমার ঠোঁটে হাসি
আর সমস্ত সংক্রমনের পরে বেঁচে থাকা
ভালো থাকা একটা রোগ। 
স্পিডমিটার ছুঁয়ে ১০০ কাঁটা পেড়িয়ে আগুন জ্বলে
বুকের ভিতর নিকোটিন ক্রমশ নির্ভরশীলতা
আমার প্রতিটা মৃত্যুর দায় তোমার,
সাদা পাতায় শান্তি ছাড়িয়ে একজোড়া কবুতর 
ছটফট করে
অথচ জীবনের এক্সরেপ্লেটে ধরা পড়ে ভালোবাসা জীবিত
কিন্তু তোমার ভ্রুণে আমি জারজ ও মৃত। 
.
জারজ 
... ঋষি 

ব্ল্যাকহোল

রাস্তার শেষ দেখা যায় না

গন্তব্য সেও ঘড়ির কাঁটার মতো বিরক্তিকর ইদানীং

ধুলোর মাঠ, কালবৈশাখী ,একলা বৃষ্টিতে অভ্যস্ত জীবন

মানুষ নেই, আমিও নেই

শুধু তুমি আছো ধারালো ছুড়ির মতো অপেক্ষায়,

তোমার বাড়ির দরজায় বারংবার ধাক্কা খেয়ে ফেরা

যেন কাঁচ ভাঙা কিন্তু জোড়া লাগে না।

.

অন্ধকারের ভেতর কোথাও তুমি ছিলে

আমি জানি অন্ধকার আসলে আলোর না থাকা,

তবু শব্দ শেষ হয়, ফসল উঠে যায় সময় মতো ঋতুতে

তবুও তুমি ফিরেও ফেরো না।

তোমার মুখের ছায়া আমার মধ্যে থেকে যায়

অথচ বাতাসের ছায়ায়, হাওয়ার বুকের নীচে ছেঁড়া পকেট

সেখানে তোমার কোনো ফেরা নেই। 

.

আমি সাজিয়ে গুছিয়ে নিজেকে মিথ্যা বলি

মিথ্যা বলা অপরাধ নয়

অপরাধ নয় নিয়ম করে যুদ্ধ থেকে হেরে ফেরা প্রতিদিন

কারণ নিজের সাথে যুদ্ধ করাটা একটা আর্ট

যেখানে উল্টো দিকে তুমি এক ব্ল্যাকহোল।

অন্ধকারের ভেতর তোমার ছায়া পড়ে

ছায়ার ভেতর আমি দেখি তোমার ছলছলে দুটি চোখ

যা আমাকে ঋণী করে যায়, 

তুমি ভাবো, বড্ড বেহায়া আমি তাই ফিরি বারংবার

আর আমি জানি আমি ফিরি কারণ

পথ আর গন্তব্য দুটোই ইদানীং বড্ড ছটফট করে।

.

ব্ল্যাকহোল 

... ঋষি 

Saturday, October 26, 2024

আমি বেঁচে

আমার চারিদিকে এত শব্দ
প্রায় স্বপ্ন দেখি আমি শব্দের মধ্যে দিয়ে হেঁটে চলেছি
এগিয়ে চলেছি কবিতার বইয়ের পাতায়
যেখানে ভাবনারা কল্পনা থেকে তুলে আনে রঙিন মানুষ
কিন্তু কবিতার শব্দদের কে যে দেয় রঙ? 
কে যে দেয় মুগ্ধতা এই ইট, কাঠ, পাথরের জীবনে। 
.
মাঝে মাঝে ভাবি পৃথিবী যদি গোলাকার না হলে কি হতো
তাহলে কি কেউ আর ফিরতে পারতো না, 
তাহলে কি ফিরে আসার অপেক্ষায় রাতের নক্ষত্র দেখবে বলে
কেউ কিনতো না আর টেলিস্কোপ?
কিংবা কবিতার বইয়েরপাতার ডলফিনটির মত
দিত না কেউ নীল জল থেকে বহুদূরের ডাক?
.
প্রায় স্বপ্ন দেখি খালি পায়ে জ্বলন্ত কাঠকয়লার উপর দিয়ে হাঁটছি    যাব
আমার পাশে আলতা পায়ে হাঁটছে কবিতা নামে সেই মেয়েটা
তার পায়ের মত আমার পায়েতেও ফুটেছে লাল রঙ
সেই আভায় ভরে যাচ্ছে আমার সন্ধ্যে হয়ে আসা ঘর।
মাঝে মাঝে ভাবি আমার ঘরের দেওয়াল জুড়ে হাজারদুয়ারী লিখবো
কখনো পেনসিলে, কখনো রক্তে
কখনো ছবিতে, কখনো গানে
কখনো ভালোবেসে,কখনো বা দ্রোহে
লিখবো মানুষের কবিতা, তোমার কবিতা 
বৃষ্টির নিষ্পাপ রঙহীন শব্দে লিখে দেবো সময়ের কবিতা। 
তারপর কান পেতে শুনি শব্দদের
এরা কেউ আমার কাছে কোলাহল নয়
সব যেন এক একটা না জন্মানো কবিতা 
কিংবা উপস্থিতি
আমি বেঁচে।
.
আমি বেঁচে
..ঋষি 

মুগ্ধ অনুরাগ

ছেলেটি মেয়েটিকে বলেছিল ভালোবাসি মেয়েটি বলেছিল রাজি তারপর বেলা গড়ালে, আটপৌরে হাওয়ায় উড়তে থাকা মন কিন্তু কতক্ষণে ? হায় রে প্রেম ! হায় রে মুগ্ধ অনুরাগ ! ভালোবাসা আজ বিছানা,বালিশ, শরীর ছাড়িয়ে পুরাতন কোন চমক নেই, কখন যেন একটা অভ্যেস পথ ভুলে নিয়ম হয়ে যায়। . মেয়েটি ছেলেটিকে বললো এই প্রেম চেয়েছিলে বুঝি ?গোনাগুনতি নিঃশ্বাসের জীবন ? শহরের রাস্তায় বারংবার বিষ জমানো বুকে আজ বেঁচে থাকা, খানিক আগেই,আশা অনুরাগে আকাশের পেঁজা তুলোর মতো মেঘ ভীষন বৃষ্টি মধ্যবিত্ত ফুটো ছাদের চাঁদ, প্রেম জানলা গলে যায়। . জীবনের আলখাল্লার গায়ে অসংখ্য ছেদ সেখানে বেহিসাবি প্রেম অগোছালো হতে হতে,এখন নিরুদ্দেশ এখন দিগন্ত বিস্তারি মাঠে অদ্ভুত বিষণ্ণ কোনও আলো আঁধারিতে ছেলে মেয়ে দুটি হাত ধরে হাঁটে, হাত ধরতেই হবে সেটা কথা নয় কথা হলো ভালোবাসলে হাত ধরতে হয়। ছেলেটি মেয়েটিকে বলেছিল ভালোবাসি আজ পশ্চিমে কালি মেঘে হঠাৎ মেয়েটা চিৎকার করে উঠলো তোমাকে ভালোবেসে জীবনটা শেষ হয়ে গেল কি পেয়েছি আমি? ছেলেটা মধ্যবিত্ত দেওয়ালের ক্যালেন্ডারের দিকে তাকিয়ে ভাবলো এ মাসের মাইনে পেতে অনেকটা দেরী। . মুগ্ধ অনুরাগ ঋষি


Thursday, October 24, 2024

আরেকটা নষ্ট কবিতা

সারাদিন গড়াগড়ি খাই
প্রিয় কবিতার বইটা তুলে নিয়ে অগছালো পড়ি
ঈশ্বর ছেনি নেয়, কুড়ুল নেয়, কাঁচি ও চিরুনি
হঠাৎ আমাকে ছোট করতে থাকে
কখন যেন পৌঁছে যাই আবার একটা জন্মাবার মুহুর্তে 
জন্মদিন, জন্মাবার দিন, পৃথিবীর মুখ দেখার দিন 
একটা শুরুর দিন। 
.
আজ জন্মের এত বছর পরে
একবার নিজের দিকে তাকিয়ে পরীক্ষা করি
ভিতরের আমিটাকে প্রশ্ন করি 
প্রশ্ন করি বেহায়া রিপুদের, নিজের ঈর্ষা, উচ্চাশাকে
প্রশ্ন করি ভাষা আর আগুনের আদিম সঙ্গমের সুরকে 
ঠিক কতটা মানুষ হতে পেরেছি ? 
ঠিক কতটা এই পৃথিবীকে,তোমাকে ভালোবাসতে পেরেছি ? 
.
বারবার গুনে দেখছি, ঠিক কটা জন্মদিন হলো
মা মানে না কারণ ছেলে তার এখনও শিশু
ছেলে  মানে না কারণ বাবা তার চির যুবক
চলন্তিকা ধুলো, মাছি,পতঙ্গের শোক ভুলে সাথে থাকে
তার বাড়িয়ে দেওয়া বুকে  আমার পাগলামী
ছঁয়ে থাকা তার দৃষ্টির সাথে মানিয়ে নেওয়া চোখ
সে আমার সময়ের মুশকিল আসান।
সারাদিন গড়াগড়ি খাই
জানি ঈশ্বরের অবস্থা ইদানীং  ভালো না
তার কারবার আর ততটা চলে না, 
তবু কবিতা জন্মের অহংকার আমাকে মুগ্ধ করে
তবু বাঁচিয়ে রাখে চলন্তিকা ছায়া এই শহরের আদরের ঘুমে
তবুও জন্মদিনে পাকতে থাকা চুল,ওষুধের প্রেস্ক্রিপসন
মনে করায়
ঈশ্বর আর শুকপাখি পায়নি খুঁজে ঠিকঠাক ঘর,
তবু এ জন্মদিন নেহাতই ইলিউশন
শরীরের প্রতি ভাঁজে লুকোনো আরেকটা নষ্ট কবিতা
হ্যাঁ আজ আমার জন্মদিন। 
.
আরেকটা নষ্ট কবিতা
... ঋষি 

Friday, October 18, 2024

মৃত্যুদন্ড



নিজেকে সুখী প্রমাণ করার জন্য আমরা কি না করি
সময়ের অপব্যবহার করে স্মৃতি কণা থেকে কুড়োয়
কয়েক ফোঁটা ভালো থাকা,
রঙিন ছবির স্টলে কাঞ্চনজঙ্ঘার দিকে তাকিয়ে অবিশ্বাসী পৃথিবীকে বলি
          ভালো আছি। 
.
নিজেকে ভালো রাখতে নিজেকেই কতটা মিথ্যে বলি
মরুভুমির গরম মাটিতে উটের পিঠে চড়ি
সবচেয়ে অপছন্দের মুহুর্তে  দেবশিশুর মতো হাসি
বরফের আটলান্টিকে সাঁটার কাটি আর বলি
জীবন কি সুন্দর
কি সুন্দর  কাঁকড়ার মতো আমরা পাশাপাশি হাঁটি ।
.
নিজেকে সুখী প্রমাণ করার জন্য আমরা কি না করি
শান্তি ভেবে দুরদুরান্তে হাজারো প্রাসাদ বানাই
ছুটি পেলেই লং ড্রাইভে কিংবা দূর মফসসলে, 
স্যুট-টাই আর নীল বেনারসি পরে বিবাহ-বাসরে  
আহ্লাদে আটত্রিশ পাটি দাঁত বের করি
তারপর ভাবি এই তো জীবন। 
.
নিজেকে ভালো রাখতে নিজেকেই কতটা মিথ্যে বলি
শেষ বয়সে ব্যাংক ও বীমায় জমিয়ে রাখি জীবন
তবু রাতের বিছানা বালিশ জানে
আমার বালিশে নেই তোমার চুলের গন্ধ,
তোমার বিছানায়ও নেই পুরুষের রঙিন দীর্ঘশ্বাস, ঘাম 
শুধু যুক্তি আর তর্কে নিজেদের ভালো রাখা ।
.
নিজেকে সুখী প্রমাণ করার জন্য আমরা কি না করি
এক একদিন মাঝরাতে নিজেরাই যুদ্ধে মরি
অতর্কিতে আমাদের ঘিরে ফেলে সত্যির দেবতারা, বাইবেলের পৃষ্ঠা থেকে নেমে আসা শয়তান মিথগুলো
মায়াবী হাসি আর আমাদের মিথ্যে ছবিদের অপরাধে যারা আমাদের আজীবন মৃত্যুদণ্ড দিতে চায় ।
.
মৃত্যুদন্ড
... ঋষি 

তুই পায়(২)

ইদানীং অসুখ হলে বড্ড বেশি তুই পায়
ইদানীং সুখের জানলা খুলে দু:খগুলো আসে, 
আসলে মানুষের অসুখের একটা জানলা থাকা দরকার
যেখানে দমকা হাওয়া আসে, যেখানে কবিতার  পাতাগুলো উড়তে থাকে
যেখানে আকাশের পাখিগুলোর সব মনখারাপ
সেখানে বড্ড বেশি তুই পায়। 
তখন চোখের পাতাগুলো ভারী হয়ে আসে 
দূরে কোথাও একটা ট্রেন যেন উল্টোমুখে ছোটে
ভাতের ফ্যান গালতে, নিজের কাপড় কাচতে শিখে যায় সময়
আমিও সবকিছুর পর হাজারো ফিসফিস শুনতে পাই 
একলা ঘরে শুনতে পাই তোর গলা
ইদানীং আমার অসুখ হলেই বড্ড বেশি তুই পায়। 
.
কত কথা মনে পড়ে, কত হাসি, কষ্ট হয় না আর
বারংবার মনে হয় হিসাবী হতে গিয়ে এতগুলো বছর কাটলো
তবু হিসেব মিললো কই,
শুধু তখন অভ্যাসগুলো কষ্ট হয়ে ফিরে আসে‌  
বুকের ভিতর ব্যথা নয় বরং জীবন থেকে দূরত্ব বেড়ে যায়। 
ইদানীং আমার অসুখ হলেই তুই আসিস
সমস্ত না-এর ব্যারিকেড ভেঙে মিশে থাকিস আমার বুকে
তখন অন্ধকার আমার প্রিয় হয়ে যায়
মনে হয় আর কীসের ভয়? 
শুধু চোখ বোজার অপেক্ষা। বাকিটা তুই সামলে নিবি। 
.
জানি প্রতিটা মানুষের একলা একটা জানলা থাকা দরকার
দরকার একটা শেষ ট্রেনের অপেক্ষা
সেই জানলা দিয়ে শীতল দমকা হাওয়া ঢুকুক
আমার ভীষন শীত করুক 
মনে হোক তুই দরকার, ভীষন দরকার 
আর স্যারিডন না 
বরং ব্যথার মাঝে তুই ছড়িয়ে পড়ুক
কি করবো ইদানীং আমার অসুখ হলেই বড্ড বেশি তুই পায়। 
.
তুই পায় (২)
..ঋষি 

স্পর্শ নয়

চলন্তিকা তুমি বলেছিলে
যে মানুষ বিপদে আগলাতে পারে না,পাশে থাকতেও না
তার তোমাকে ভালোবাসার অধিকার নেই,
আমি বিচলিত হয়েছিলাম কিন্তু বিষণ্ণ না
কারণ তুমি আমার শতবর্ষের তপস্যা,আমার ব্রত
আমার লেখা, আমার সৃষ্টিরা শুধু তুমি চলন্তিকা। 
.
চলন্তিকা তোমাকে  আঁকড়াই বলে 
আমার কলমের নিবে তুমি ভরা শরৎ এর মতো
যেন মৃৎ-শিল্পীর হাতের স্পর্শে তোমার মুর্তি,
অথচ বারংবার তোমায় লিখি কিন্তু মন ভরে না
কারণ তোমার মূর্তিটা হৃদয়ের ক্যানভাসে ঠিক লিখতে পারি না, 
তোমার অলৌকিক সৌন্দর্যকে প্রতিদিন প্রণাম করি
তোমার গভীরে যে অতল জলের রহস্য লুকোনো
তাকে নিত্যদিন স্পর্শ করি
কিন্তু কিছুতেই বুঝতে পারি না। 
.
আমার বাউন্ডুলে জীবন-যাপন 
একলা সন্ন্যাসীর মতো ব্যক্তিগত কল্পনায় তুমি 
এক রক্তক্ষয়ী ভালোবাসা, 
পৃথিবীর বর্বর পুরুষের মতো আমি পারি না
পারি না তোমায় হাতে পায়ে বেড়ি পরিয়ে দিবারাত্র তোমতে বীর্যপাত করতে।
আমি তোমার জন্য আমার হৃদয়ে শীতলপাটি বিছোই আমি বিশ্বাস করি 
এক অলোকময় সুবর্ণ-লগ্নে তুমি আসবে, 
সেদিন রবীন্দ্র-গানের মন্ত্র উচ্চারণ করে
তোমাকে আমি জড়িয়ে ধরবো,
কিন্তু সেই স্পর্শে কোন পাপ নেই, নেই কোন লোভ
শুধু অধিকার বাঁচবে সেদিন। 
তারপর এক পবিত্র সকালে চলন্তিকা তুমি ঘুম থেকে উঠে দেখবে ঠিক
তোমার পড়ার টেবিলে আমার কবিতারা অপেক্ষায়
আর  আমার কলম চুইয়ে তোমাকে ভালোবাসা
মোটেও স্পর্শ নয়, এক পুজো। 
..
স্পর্শ নয়
... ঋষি 


Thursday, October 17, 2024

আমার কবিতা তুমি



সময় এলে বোঝা যায় আয়নারা ও কত একা
কাঁচের পারদের পিছনে মুহুর্তগুলো ছটফট করে
গল্পগুলো বহু পুরাতন,
     তবু ঘেঁটে যাই বারংবার আমি
যখন গল্পের চরিত্রগুলো স্মৃতি থেকে উঠে মুখ ভেংচায়
তখন হঠাৎ তোমায় মনে পরে।
.
তখন হঠাৎ স্মৃতির ভিতর অসময়ের বৃষ্টি
বৃষ্টিতে ভেসে যাওয়া এক হাঁটু জলের ভিতর জীবন তখন শহরটা ভীষণ একলা,
তখন তুমি জল টপকে আমার দিকে এগিয়ে আসো
যেন এই হাভাতে শহরে ছড়িয়ে পড়া ভাতের গন্ধ
যেন একটা অসুখ কিংবা সুখ
বুঝি না ঠিক 
শুধু বুঝি তুমি তো আমার কবিতা।
.
নিয়ম করে গীতবিতান খুলে বসি 
রাত বারলে বেবাক জীবন একলা লোকাল ট্রেনের মত
স্টেশন ছাড়ে আবার স্টেশনে, 
যেন বেলুনের মত উড়তে থাকা কষ্ট ফানুশ
যেন সুখ পাখি তখন তোমার গন্ধে,ছেঁড়া অজুহাতে
জাম মাপে, খিল্লী হাসি তে.....  
.
আমার কবিতা তুমি
...ঋষি 

Monday, October 14, 2024

এক নগ্ন বিসর্জন



গত কয়েকদিন শহর ঢলে পড়েছিল রাস্তায় ঠিক
তবু প্রতিবাদ থামে নি
মানুষের মুশকিল, মানুষের মায়া বরাবর অক্ষমতা
তবু প্রতিবাদ থামে নি,
উৎসবে ছিলাম, উৎসবেই আছি, উৎসবের আজ ৬৬ দিন
তবু তিলোত্তমার বিচার এখনও আসে নি। 
.
আমাদের মুখোমুখি আজ আমরা 
ভুলি নি,ছাড়বো না , সারা শহরে টাঙানো প্রতিবাদ 
WE WANT JUSTICE। 
.
অনুষ্টুপ,তনয়রা আজ রাস্তায়
রাস্তায় আজও আমরা,
আসলে সত্যি হলো ব্যথারাও সংযম বোঝে
তাই তনয়াদের নি:শ্বাসগুলো আজ আগুনে
এই গভীর নির্যাস থেকে ধুলোবালি ঘেঁটে
তাদের মৃত্যুমুখী প্রতিবাদে শহর রাত জাগুনে । 
.
জানি শরীরে আয়ুযোগ থেকে ব্যথারাও আজ দাপুটে 
হৃদয়ে প্রতিবাদ এলে কষ্টরাও বন্ধু 
কে যেন আজ বলছে এই সময়ের ঘরদোর থেকে
কে যেন চিৎকার করছে ভাঙাচোরা মন্ডপের থেকে
কে যেন জাগছে গলে যাওয়া দেবীর চালচিত্র থেকে
একটা ভাঙাচোরা রক্তমাখা মায়ের মুখ
এই সমাজের পাঁকে ডোবা নষ্ট কাঠামো থেকে
এক নগ্ন বিসর্জন
কারণ মেয়েটা আজও ফেরে নি । 
.
তাই উৎসবের আঙিনা থেকে বলছি
তাই অনুষ্টুপ,তনয়াদের পাশে দাঁড়িয়ে বলছি
তাই রাস্তায় দাঁড়ানো মানুষের মাঝখান থেকে বলছি
শুভ বিজয়ার কার্নিভাল থেকে বিজ্ঞাপন জারি থাকলেও
শুভ বিজয়া এখন বলবো না
             ব ল বো
  WE WANT JUSTICE। 
.
এক নগ্ন বিসর্জন
... ঋষি 



বাড়ি

হুট করে সরে আসার পর স্পর্শের আকাঙ্খা বাড়ে  আমাদের প্রত্যেকের আলাদা বাড়ি অথচ ঘর একটাই  সেই ভিতরের ঘরে বাড়তে থাকা আলাপ  আমাদের আরও কাছে আনে , ...