Thursday, February 27, 2025

সম্পর্ক

প্রচণ্ড কঠিন সময় যে মানুষটা কাছে থাকে
তাকে আগলে রাখাটা নিয়ম কিংবা ব্যাকরণ
আমি  সম্পর্কের মানে জানি না
শুধু জানি সর্বনাশের পরে ক্রিস্টোফার কলম্বাসও 
ডোমোনিকা আবিষ্কার করেন। 
আমি বিশ্বাস করি বাসনের শব্দ, ধুলোবালি, ঘরদোর 
সারা সপ্তাহে মারাত্মক কাজের প্রেশার 
উইক ডেইজে মুদি বাজার, ফুটপাতে চা আর বিস্কুট 
মধ্যরাতে ঘুম না আসা কবিতা
নতুন বইয়ের পাতা, অজস্র কথা কাটাকাটির পরেও
যে মানুষটা আগলে রাখে
তাকে জড়িয়ে থাকাটাই সম্পর্ক।
.
হঠাৎ আমার ভালো না থাকার ঈশ্বর 
হঠাৎ আমার লেখা না আসার বিরক্তি
হঠাৎ আমার যখন তখন মোবালিক রিংটোণ
হঠাৎ  আমার মধ্যরাতে দমবন্ধ হওয়া অভিমান
হঠাৎ আমার একগাদা অজুহাত দিয়ে ক্লারিফিকেশন 
যে মানুষটা হজম করে
যে মানুষটার কাঁধে রেখে রাক্ষসের স্বপ্ন
তাকে আর যাই হোক হারাতে পারবো না কিছুতেই
বরং এই কিটপতঙ্গের সংসারে আগলে রাখবো।
আসলে এটাকে একা থাকা বলে না
বলে সাথে থাকা,
সত্যি হলো মানিয়ে গুছিয়ে থাকাটা একটা নিয়ম 
আর নিয়ম হলো ক্যানভাসে আঁকা আকাশ
আমরা যে আকাশ দেখতে ভালো বাসি সকলে
কিন্তু কখনও সম্পর্কে মাঝে আকাশ খুঁজি না কেউ। 
.
সম্পর্ক
.. ঋষি 

Monday, February 24, 2025

যুক্তি তক্কো আর গপ্পো


তোমার জলজ রাশি জেনে 
বারংবার তোমার শরীর নিজের চিতা জ্বালিয়েছি 
যাতে শুষে নিতে পারি তোমার সমস্ত অমনিবাস ,
আমাকে আগুন ভেবে তুমিও চড়িয়েছো বেমিসাল মহব্বত 
বৃষ্টির মতো জড়িয়ে ধরেছো মুহূর্তের সুখ
অথচ আমরা কেউই সহজ হতে পারি নি। 
আমার প্রতিটা  সিংহনাদ বারংবার ভেঙেছে তোমার পাখির সুখ
এই দেহ ,এই গেহ পারাবারে এক পাশবিক সময় 
বারংবার ছিঁড়ে খেয়েছে তোমার পাখিদের পরিভাষা ,
বারংবার না চাইতে কিছু আক্রোশ সূর্য হয়ে সৃষ্টি পুড়িয়েছে 
সৃষ্টি করেছে দূরে  এক অন্য পৃথিবী 
অথচ আমরা কেউই দূরে থাকতে পারি নি। 
.
এক অক্লান্ত সঙ্গমের পরে অমনোযোগী আমরা 
মহানাগরিক হয়ে সাজিয়ে চলেছি নিজেদের দেবালয় ,
এ গল্প আমার তোমার না 
এক পৃথিবী মানুষের ভিড়ে লুকোনো আমাদের মতো কবিতাদের। 
অনিশ্চিত আগামীর রৌদ্রে আমরা পুড়েছি 
পুড়ে চলেছে মুহূর্তদের শোক ,আকাশের পাখি ঘর ,নিজস্ব পরিচয় 
এক ছন্নছাড়া হ্যামিলিনের বাঁশির শব্দ আমাদের তাড়িয়ে ফিরছে 
ছুঁচোলো বল্লমের মতো জীবনের আয়ু ,নাভিমূলে কিরাতের দাঁত
সম্বব অসম্ভব কেঁপে ওঠা ঠোঁট 
নিজস্বতা হারাচ্ছে শুকনো মরুভূমির সান্নিধ্যে। 
তবু আমাদের ধ্যানযোগ
তবু আমাদের যুক্তি তক্কো আর গপ্পো ফুরোবে না 
কারণ অন্য মানুষের মতো আমরাও দিনান্তে সাধারণ। 
.
যুক্তি তক্কো আর গপ্পো
... ঋষি  



 

Friday, February 21, 2025

আমার মা

মা বলেন সারাদুপুর বাড়ি থাকি না কেন 
খাঁখাঁ করে বুকের ভিতর
একলা মেঝেতে  বর্ণদের বুকে শুয়ে থাকি
বর্ণ থেকে শব্দ, শব্দ থেকে থেকে বাক্য, তারপর ভাষা 
তারপর আরও পথ
সৃষ্টির সুখ
কাকে বোঝাবো সে কথা ? 
.
শব্দদের সঙ্গে আমার এক গভীর সম্পর্ক
যা বারংবার ঘর ছাড়া করেছে আমাকে,
ফুটো পকেট নিয়ে ভেসে বেড়িয়েছি তল্লাটে তল্লাটে
ফুটপাথে চায়ে ডুবিয়ে বিস্কুটে খুঁজেছি কবিতা,
শহরের রাস্তায় দাঁড়িয়ে একলা শুনেছি শব্দদের
ট্রেনে করে চলে গেছি নাম না জানা সবুজে
বুক পেতে সঞ্চয় করতে চেয়েছি শব্দদের
আমার এক অসুখ
বর্ণমালা, শব্দ,বাক্য,ভাষা,কবিতা,সৃষ্টি। 
.
কিছুতেই মন ভরে নি
কিছুতেই এই ভাষা ছেড়ে এগোতে পারি নি, 
কিন্তু ইদানীং ভাবি হাওয়া কোথা থেকে কোথায় যায়
চওড়া লালপেড়ে শাড়ি পরে কে জানে কোথায়? 
এখন কি করছে আমার মা? 
আমার ভাষা ? 
থমথমে একটা তুফান এখন জটপাকাচ্ছে সীমানায়
মাথার ভীতর কষ্টরা বুক থাপড়াচ্ছে,
কাঁটাতারের আড়ালে অপারেশন টেবিলে আমার মা
ছটফট করছে
আলো চাইছে, নি:শ্বাস চাইছে,চাইছে মুক্তি।
কিন্ত কাকে বলবো সে কথা ? 
কে বলবে সে কথা? 
যে ২১ শে ফেব্রুয়ারী একদিন গর্বিত করেছে মাকে
আজ বহুদিন কোথাও আমার সেই মা লাঞ্চিত। 
.
আমার মা
.. ঋষি 



Thursday, February 20, 2025

আরেকটা নষ্ট কবিতা

সারাদিন গড়াগড়ি খাই
প্রিয় কবিতার বইটা তুলে নিয়ে অগছালো পড়ি
ঈশ্বর ছেনি নেয়, কুড়ুল নেয়, কাঁচি ও চিরুনি
হঠাৎ আমাকে ছোট করতে থাকে
কখন যেন পৌঁছে যাই আবার একটা জন্মাবার মুহুর্তে 
জন্মদিন, জন্মাবার দিন, পৃথিবীর মুখ দেখার দিন 
একটা শুরুর দিন। 
.
আজ জন্মের এত বছর পরে
একবার নিজের দিকে তাকিয়ে পরীক্ষা করি
ভিতরের আমিটাকে প্রশ্ন করি 
প্রশ্ন করি বেহায়া রিপুদের, নিজের ঈর্ষা, উচ্চাশাকে
প্রশ্ন করি ভাষা আর আগুনের আদিম সঙ্গমের সুরকে 
ঠিক কতটা মানুষ হতে পেরেছি ? 
ঠিক কতটা এই পৃথিবীকে,তোমাকে ভালোবাসতে পেরেছি ? 
.
বারবার গুনে দেখছি, ঠিক কটা জন্মদিন হলো
মা মানে না কারণ ছেলে তার এখনও শিশু
ছেলে  মানে না কারণ বাবা তার চির যুবক
চলন্তিকা ধুলো, মাছি,পতঙ্গের শোক ভুলে সাথে থাকে
তার বাড়িয়ে দেওয়া বুকে  আমার পাগলামী
ছঁয়ে থাকা তার দৃষ্টির সাথে মানিয়ে নেওয়া চোখ
সে আমার সময়ের মুশকিল আসান।
সারাদিন গড়াগড়ি খাই
জানি ঈশ্বরের অবস্থা ইদানীং  ভালো না
তার কারবার আর ততটা চলে না, 
তবু কবিতা জন্মের অহংকার আমাকে মুগ্ধ করে
তবু বাঁচিয়ে রাখে চলন্তিকা ছায়া এই শহরের আদরের ঘুমে
তবুও জন্মদিনে পাকতে থাকা চুল,ওষুধের প্রেস্ক্রিপসন
মনে করায়
ঈশ্বর আর শুকপাখি পায়নি খুঁজে ঠিকঠাক ঘর,
তবু এ জন্মদিন নেহাতই ইলিউশন
শরীরের প্রতি ভাঁজে লুকোনো আরেকটা নষ্ট কবিতা
হ্যাঁ আজ আমার জন্মদিন। 
.
আরেকটা নষ্ট কবিতা
... ঋষি 

একা লাগে

অনাহুত আবদারের হয়ে 
বারংবার জীবন থেকে প্রশান্তি চুরি করি
তারপর  কিছুক্ষন তাকিয়ে থাকি সবুজ গাছের দিকে
চারপাশ তখন ভীষণ শান্ত,নি:শব্দরা যেন কথা বলে
কথা বলে সবুজ গাছের পাতাগুলো বোহেমিয়ান।
তারপর কেন যে সব বদলায়
ইট, কাঠ, পাথরের শহরের ঈশ্বর  রাক্ষস সেজে
প্রচন্ড শব্দ করে গিলে খায়, 
তখন বড় একা লাগে
বড় একা লাগে বেঁচে থাকা। 
.
এ এক অলীক অসুখ বেঁচে থাকায়
ফ্রেমবন্দী মানুষগুলো সকলেই রবিনসন ক্রুসো
সকলেই নিজস্ব একলা দ্বীপে পরিত্যক্ত  
সকলেরই নুন আনতে পান্তা ফুরানো হৃদয় সংসারে
গলার কাছে আটকে থাকা কষ্ট গোপন না বলা।
এ দিকে দিকচক্রবালে নিয়ন করে দিন ফুরোয়
ভালো থাকার ইচ্ছেগুলো হাঁপাতে থাকে
ক্লান্ত শহর ক্রমশ অন্ধকার আর নিস্তেজ হতে থাকে
কিন্তু মরেও মরে না এ শহর
আশা হয়ে আবার বাঁচে আবারও মরে
কিন্তু এই বাঁচা আর মরার ফাঁকে ক্লান্ত লাগে
তখন বড় একা লাগে
বড় একা লাগে বেঁচে থাকা।
.
একা লাগে
... ঋষি 





Tuesday, February 18, 2025

বিরক্তি

সব নেইগুলোকে ধরতে থাকলে 
ক্রমাগত অভাবগুলো মাথাচাড়া দেয়
যাদের পথ চলতে পিছনে ফিরে তাকাবার অভ্যেস 
তাদের সামনের জনেদের হিসেবে মেলে না,
এ এক ভীষণ রোগ পিছুটান
স্মৃতির পাতা উলটে শুধুই উঁকি মারে সেই মুহুর্ত 
সেই মুখ,সাদা-কালো ছায়াছবি
কেন যে ফ্ল্যাশব্যাকে দাঁড়িয়ে বুকটা হুহু করে।
.
এই নেই, ওই নেই, সেই নেই
শুধু নেই নেই করে করে কত কাজ বাকি থাকে 
আবার শুধুমাত্র  মনের জোরে কাজটা করে ফেললেও 
হিসেব কিছুতেই মেলে না, 
কি যেন শব্দটা " স্যাটিসফ্যাকশন "
               আসে না কিছুতেই আসে না। 
.
প্রতিদিন একলা দাঁড়িয়ে তোমার চলে যাওয়া দেখি
অথচ ছায়ার মত কিছু একটা থেকে যায়,
ভীষণ এক বিরক্তি কাজ করে
ভীষণ এক বিরক্তি কাজ করে সারা মুহুর্ত ধরে 
তারপর নেই-ঘুমের রাত বারংবার বুঝিয়ে যায়
তোমার প্রতিটা কাছে আসা আসলে চলে যাওয়ার জন্য।
আসলে সব কবিতায় যেমন রবীন্দ্রনাথ থাকতে নেই
সব পেইন্টিংএ যেমন ভ্যানগগ থাকতে নেই
তেমনি তোমার চলে যাওয়াই ভালো
না হলে নেইগুলো আর ধরা হবে না
আর ভালো লাগাগুলো আর ধরা যাবে না
তার থেকে এই বিরক্তিই ভালো ।
..
বিরক্তি
... ঋষি 

 

Monday, February 17, 2025

একফালি হাসি

ফিরে এসো তুমি অনুমতি দীর্ঘ ছায়ার পরে 
তোমার  একলা মনে,
তোমার ঝলসানো বুকে টেনে নাও এক অনতিদীর্ঘ রাত 
ঘুম ভেঙ্গে এক মুখ হেসে বলো সুনীলের কোনো প্রেমের কবিতা 
তারপর নয় শুরু হোক দুনিয়া আফসানা  
তারপর নয় তোমার  অপাপবিদ্ধ প্রেম আমাকে নস্টালজিক করুক। 
.
আমি তো চাই সব সত্যিকে মিথ্যে বানিয়ে
তুমি আরেকবার জ্বলে ওঠো,
মিথ থেকে মিথ্যে,সিঁদ থেকে সত্যি 
সে বড়ো সহজ নয়,
জটিল ধাঁধার অস্ত্র ফেলে এবার না হয় তোমার অভিষেক 
এক অন্য শহর ,এক অন্য পরিচয়ে সময়ের জলফড়িং। 
.
ফিরে এসো তুমি নিশাচর কোনো বিজীত আত্মদর্পনে 
সেই পিশাচিনী,সেই রাক্ষসী ,সেই অনবদ্য কবিতা 
একফালি হাসি। 
ছায়াখানি রেখে তোমার মাংসের ভেতরের অপমান
তুমি তাকে ক্ষমা করে দেও
সময়ের  চোখে আঁজলা ভরে তুমি ছিটিয়ে দেও 
অমৃতপ্রেমের সুখ।
এই শব্দহীন পৃথিবীতে যখন কিছু বলার নেই
তখন পোড়ার শব্দটুকুই বা কেন ? 
তখন জ্বলার শব্দটুকু বা কেন ?
বরং তোমার নষ্ট সুখের  জন্মবিরহ নিয়ে 
আজীবন তোমার মুখে থাকুক এক সুপ্রভাতের সুখ । 
.
একফালি  হাসি 
... ঋষি

Thursday, February 13, 2025

১৪ই ফেব্রুয়ারী

কয়েক বসন্ত আগে বলেছিলে ভালোবাসা আর চুমু
অথচ চুমুরা কয়েকঘন্টা পড়ে স্পর্শ হয়ে থাকলেও
ভালোবাসা বধির হয়ে যায়। 
ভাবছিলাম সৃষ্টিদের একটা দেশ হওয়া দরকার 
কারণ ভালোবাসাই তো মুক্তির পথ,
হা ভ্যালেন্টাইন শেষে তুমি পাখি হয়ে গেলে
আমি হৃদয় দিয়ে পাখি আঁকলাম, তুমি খাঁচায় বন্দী
মনের উঠোনে বাসা আর ফুটপাতে গিয়ে বসা
মাঝখানে শহরের আদিখ্যেতা জুড়ে ১৪ ই ফেব্রুয়ারী।
.
এই মুহুর্তে শহরের আকাশে লাল ছোপ
আসলে মানুষ হারাতে ভয় পায় না কিন্তু ঠকতে? 
নির্জনতা পুরানো বন্ধুর মত,গৃহস্থালি বাসোকোসন
কয়েক মিনিট তারপর সে হাঁপিয়ে গেলো
আমি মুখ থুবড়ে পড়লাম তোমার বুকে,
তোমার  নিভৃতে কবিতা লেখার কথা ছিলো 
মেঘ কিনে বাড়ি ফিরে দেখি, বর্ষাতি নিয়েই গন্ডগোল সামনে একলা তুমুল হাইফেন রাত দাঁড়িয়ে আছে
প্রমাণ নেই অথচ চুমুর ঠোঁটগুলো সব অদৃশ্য।
১৪ ই ফেব্রুয়ারী 
সুরগুলোকে শব্দেতে লেখা যায় কিন্তু ভালোবাসা? 
তুমি আর আমি শুধু অষুধের বিকল্প
প্রমাণ ভুলে যাওয়াটা খুব সহজ কি?  
মনেতে যে থাকে তাকে মনে করাটা বোকামি 
হৃদয়ে লাল রঙ আছে  কিন্তু শরীর
বলতে নেই। 
কি রঙ ধরায় তোমার ঠোঁটে বিপন্ন অলিয়েন্ডার ?  
বাংলায় বললে রক্তকরবী,
হাজারো ভাষার মাঝে ভালোবাসা ভাষাহীন 
তবুও তার উদ্‌যাপন 
ইংরেজিতে ১৪ই ফেব্রুয়ারী তা বেশ
কিন্তু বাংলায় তো সেই ভালোবাসাই। 
.
১৪ই ফেব্রুয়ারী 
... ঋষি 



Monday, February 10, 2025

মন বিলাপ

অবশেষে বসন্ত
এই অসময়ের শহরে ভালোবাসা বাড়ছে কি কমছে 
জানি না,বলতে পারবো না,
তবে জানি জানুয়ারীর পর ক্ষুদ্রতম ফেব্রুয়ারিতে
আরেকটা বইমেলা সাজানো শহরে বই বিক্রি করলো,
মানুষ বই কিনলো কিন্তু পড়বে ঠিক  কতটা জানি না 
তবে জানি মনের ভিতর ফ্রয়েড বাজলে শাহজাহান
আর বসন্ত এলে মন বিলাপ। 
.
গভীরে মনের সীমানা বরাবর কয়েক ভোর হাঁটা পথ
আয়না প্রতিচ্ছবির,দোদুল্যমান শব্দস্রোত নিরিবিলি
পালহীন খেয়ার গল্পের পাতায় কথাদের ভীড়,  রূপকথারা লুকিয়ে থাকে মনের ভাঁজে বিজনবাসে
ওয়াশ পেইন্টে ধুঁয়েমুছে যাওয়া অবশিষ্ট রঙে
ক্যানভাসে জীবন শেষ ছবি আঁকে নিজস্বতায়
বাঁচি কিংবা মরি কিংবা ভালো থাকা নিয়মের সর্বনাশে,
তারপর কোথায় যেন বিরহ প্রমাণ
" তুমকো দেখা তো ইয়ে খেয়াল আয়া
জিন্দেগী ধুপ তুম ঘনা সায়া। "।
.
তার কথা মনে এলে খুশি ছড়িয়ে যায়
আকাশে, বাতাসে,গড়াতে গড়াতে ঘর পেরিয়ে রাস্তায় 
তাকে দেখলেই নিজের চোখ চেপে রাখতে হয়
কারণ আমার চোখের ভেতর আস্ত মরুভূমি 
আর তার চোখে টলটলে দীঘির জল।
জানি তো এতটা কাছে আসার পরও বসন্ত ছুটি নেবে
কোন  ভাষাতেই  মনের কথা বলা হবে না আর
বসন্ত সে যে কারো নয়, সে যে বিন্দাস
সে যে বিজন রাতে,লাল মাটি পথে দিশাহীন বাউল গোপন প্রেম,ছন্দহীন বন্দিশ
while I breathe, I হোপ
.
মন বিলাপ
.. ঋষি 


Friday, February 7, 2025

সব ঠিক হয়ে যাবে

একদিন সব ঠিক হয়ে যাবে
আজ বিগত এতগুলো বছর বাইনোকুলারে চোখ
এক শিংওয়ালা বাইসন দেখেছি,দেখেছি টাইসনকে
দেখেছি সেই ডুগডুগির ফেরিওয়ালাকে,দুধওয়ালাকে
আমার পাশের ঘরে আগুন লাগতে দেখেছি
বাঙালি হওয়ার দায়ে মানুষগুলো পুড়তে দেখেছি
নিজের বয়স ক্রমশ আয়নায় বাড়তে দেখেছি
ধর্ষন, খুন,রাহাজানি,গদি বদল, সম্পর্ক সব দেখেছি
কিন্তু কিছুই বদলায় নি,কিছুই ঠিক হয় নি। 
.
আরিন্দমের ছবছরের প্রেম ছাড়াছাড়ি হলো
ক্রিস্টোফারের প্রেমিকা অন্যের সাথে পালালো
পাড়ার সিংজীর স্ত্রী বাচ্চা হতে গিয়ে মারা গেলো 
অঞ্জনদার ২৪৪১১৩৯ নাম্বারটা আর বাজলো না
রঘুদার চায়ের দোকানটা কর্পোরেশন গুড়িয়ে গেলো
চিনি বলে তিনবছরের বাচ্চাটা ক্যানসারে মারা গেলো
জীবনানন্দ দাশ ভালোবেসে লিখলেন বনলতা সেন
অথচ সেই কবি লোকটা অভাবে মরে গেলো 
বলুন তো কি ঠিক হলো? 
.
এদিকে চন্দনদা জেলে বসে পাঁচতলা বাড়ি করলো
পাড়ার সরকারী স্কুলটার সামনে গাঁজার ঠেক হলো
বিল্টুদা পাড়ার ফাংশনে কবিতা বিজয়ী হলো
রংপুর খাল থেকে কবিতার শরীরটা পাওয়া গেলো
মন্দা বলতে বলতে কারখানাগুলো সব বন্ধ হলো ।
জয়াদীর ভাষনে অমিতাভ বচ্চন বললেন আপনা দেশ
তিলোত্তমার শরীরটা সেদিন রক্ত মেখে ফিরে এলো
শান্তিনিকেতনের উপাসনা গৃহে  কন্ডোম পাওয়া গেলো
ধর্মদ্রোহীতার কারণে লেখিকা দেশ ছাড়া হলো
প্রতিবাদ করতেই বুলেটে সেই মাষ্টারমশাই খুন হলো
চুপ থাকতে থাকতে মানুষগুলো বোবা হয়ে গেলো দেশের লোকসংখ্যা ১২১ কোটি ছাড়িয়ে গেলো
দেশ গড়তে কখন জানি দেশের মানেটাই বদলে গেলো
উচ্চারণ বিক্রি হলো
সম্পর্ক মুখোশ হলো
মোমবাতি মিছিল হলো
মহাভারতের যুদ্ধ হলো
রোবট আবিষ্কার হলো
সীতার পাতাল প্রবেশ হলো
দেশ দশের না বশের হলো
সময় জুড়ে মিথ্যের বাস হলো। 
.
এবার আপনি বলুন তো তবে কি ঠিক হলো? 
কেন তবে আজ আমার পিঠ থাবড়ে বলছেন 
সব ঠিক হয়ে যাবে।
.
সব ঠিক হয়ে যাবে
... ঋষি 

Thursday, February 6, 2025

কিছু বলি নি

ইচ্ছে করে  সমস্ত কাটাকুটি ছেড়ে পাখি হয়ে উড়ি
কোন পাহাড়িয়া নদীর তালে তাল মিলিয়ে নাচি
তারপর,
ভাগ্যিস আমার জন্য কেউ অপেক্ষায় নেই
ভাগ্যিস যত্নে আদরে কেউ আমাকে রং কিনে দেয় নি
তবেই তো  তুলির আদরে অসময়ের মেঘ
মেঘের আঁচড়ে কান্না
না আমি আর কিছু বলি নি। 
.
স্কুল -চক-ডাস্টার-ক্লাসরুম-প্রেয়ারলাইন আর কতকিছু
অংকের মাষ্টার বলতেন সংখ্যাগুলো সব পাখি
কিন্তু পাখিগুলো খাঁচায়বন্দী,
আমি ইদানীং দেখি মানুষেরা সব পাখি
আর জীবনগুলো খাঁচায়বন্দী।
অথচ অংকগুলো কেন জানি মেলার জন্য জন্মায়
অথচ  মানুষের অংকগুলোয় যত গরমিল
অংকের মাষ্টার গুনতে শেখালেন কিন্তু বাঁচতে নয় ।
.
খারাপ লাগে 
কাছের মানুষ যখন জোর করে কাছে থাকে
তারপর,
ভাগ্যিস জিতে যাওয়ার পর হেরে যাওয়াটা কষ্টের
ভাগ্যিস প্রতিদ্বন্দ্বীতায় আমি নিজেই বন্দী
জনি তো দাগগুলো আর মোছা যায় না
মানুষ চুপ মানে বন্দী পাখি
না আমি আর কিছু বলি নি। 
.
কিছু বলি নি
.. ঋষি 

Wednesday, February 5, 2025

স্পর্ধা

বারংবার একটা স্পর্ধা আমাকে আতংকিত করে
তুমি শব্দটা উচ্চারণের স্পর্ধা
আমার অনঅভিজ্ঞ উচ্চারণে বারংবার ব্যাকরণে ভুল 
আমাকে লজ্জিত করে আমার সমাধিতে।
শব্দের মৃতস্থুপে ইদানীং শুকিয়ে যাওয়া কবিতারা
মইচারাইজার খোঁজে তুমি শব্দটাই
অথচ গিলি গিলি ফু:
মানুষের কবিতায় আমি মানুষ লিখতে গিয়ে 
কেন যে  লিখে ফেলি সম্পর্ক বারংবার। 
.
একটা স্পর্ধা আমাকে ইদানীং বড্ড একলা করে
তুমি শব্দটা উচ্চারণের স্পর্ধা
প্রাপ্তবয়স্ক শীতের মতো আমার ফুরিয়ে আসা জ্বর
কুয়াশা সরিয়ে আমাকে একলা দাঁড় করায়,
হঠাৎ এলোমেলো ভাবনারা বইয়ের পাতা উল্টোয়
পরিচয় করায় পুরনো একটা উচ্চারণে
"তুমি" একটা স্পর্ধা
উচ্চারণ করলেই কেন জানি নিজেকে ঈশ্বর মনে হয়। 
তারপর মানুষের মুখগুলো আসে 
একের পর এক সারি দেওয়া আবর্তন 
কিছু মারাত্নক সব স্মৃতি যেন বিদ্রোহ করে বারুদ বুকে
তারপর সুট আউট
একের পর এক মৃত মানুষের লাশ
সত্যি  তো 
তুমি শব্দটা উচ্চারণেও ইদানীং স্পর্ধা করতে হয়। 
.
স্পর্ধা
... ঋষি 

Tuesday, February 4, 2025

এমন কিছু

আমি এমন একটা বাড়ি খুঁজছি
আর কিছু না হোক এমন একটা আশ্রয়,
যেখান থেকে আমাকে  কেউ যাতে তাড়াতে না পারে।
সময় বদলালে না পারে বলতে "না হলে "
কিংবা ভয় দেখিয়ে কেউ  না বলে এখানে সব আমার
আর কিছু না হোক সে বাড়িতে যাতে দমবন্ধ না লাগে ।
.
আমি এমন একজন মানুষকে খুঁজছি
যাকে আমার জন্য কিছুই করতে হবে না 
শুধু তুমুল অসুস্থতার দিন মাথায় হাত রেখে সে বলবে
আমি তো আছি, তুই ঠিক হয়ে যাবি,
কিংবা তুমুল বৃষ্টিতে ভিজে গেলে বলবে " ঈশ ভিজে গেছিস তো "
সত্যি তো,
আসলে বাঁচতে গেলে সত্যিটা যে ভীষন  জরুরী।
.
আমি এমন একটা দেশ খুঁজছি
যেখানে সবুজ জীবনের মানে অভিনয় নয়
যেখানে সম্পর্কের মানে কোন পলিসি নয়
যেখানে হাসির মানে কোন কারণ নয়
যেখানে প্রতিমা গড়তে প্লাস্টিক নয় শুধু মাটি লাগে
যেখানে মানুষগুলো ছাঁচে তৈরী পাথুরে নয়।
যেখানে দিনগুলো মানে কোন বশ্যতা নয়
রাতগুলো মানে বাধ্যবাধকতা নয়,
যেখানে মানুষ হাসে,মানুষ কাঁদে,মানুষ বাঁচে,মানুষ মরে
শুধুমাত্র 
শুধুমাত্র কবিতায় নয়
যেখানে দেশ মানে আমি, তুমি আমরা
যেখানে সংবিধান মানে মানুষের স্বাধীন অধিকার।
.
কিন্তু মুশকিল হলো
মানুষ সত্যি দেখতে ভয় পায় কিংবা বলতে।। 
.
এমন কিছু
.. ঋষি 

Sunday, February 2, 2025

ঘুরে দাঁড়ানো

কনক : হুজুর বদচরিত্র লোক না হলে বাড়িতে সতীলক্ষ্মী বৌকে ছেড়ে আমাদের মতো মেয়েছেলের কাছে কেউ আসে । 

উকিল  : তুমি ওনাকে বদচরিত্র বলছো কেন ? তোমাকে যতটুকু প্রশ্ন করা হয়েছে ততটুকু বলো। 

কনক : বদচরিত্র বলবে না ,বলে কিনা বৌ আদর করে না ,কতদিন শুই নি ,এদিকে এখানে এসে জানছি বৌটাকে খুন করেছে ,ঘরে তিনটে বাচ্চা। বলি না শুলে বাচ্চাগুলো কি হাওয়ায় হলো ?

উকিল  : আচ্ছা কনক তুমি কতোদিনধরে এই কাজ করছো ? সুশান্ত কি তোমার কাছে প্রতিদিন যেত ?

কনক : সেই যখন ১৬ বছর বয়স সেই  শহরের মরোদটা আমাকে বিয়ে করবে বলে এই শহরে নিয়ে এসে বেঁচে দিল। এ কি দেখছেন ,দেখতে তখন আরও সুন্দরী ছিলাম ,গতরে আরও মাংস ছিল। 

জজসাহেব : ভদ্র ভাবে  কথা বলো না হলে জেলে পুরবো ,এটা কোর্ট। 

কনক : শুনুন হুজুর বাজারি মেয়েছেলের আবার ভদ্রতা ,সেই ১৬ বছর বয়স তখন কষ্ট হতো চিৎকার করতাম কিন্তু জন্তুগুলো কি বুঝতো ভদ্রতা ? ছিঁড়ে খেয়েছে ,তারপর এতগুলো দিন শুধুও পিশে চলেছি ,কত নাগর এলো ,কত স্বপ্ন দেখালো ,কত খেলা খেললো কিন্তু বাজারি মানে বাজারি। বাজারি মেয়েছেলের বিয়ে হয় না ,সন্তান হতে নেই ,কষ্ট হতে নেই শুধু কাস্টমার ঘরে এলে শাড়ি খুলে দাঁড়াতে হয় ,তারা কামড়ে ছিঁড়ে ভোগ করবে বদলে কতগুলো টাকা ,খিদে বাবু খিদে কি করবো ?

উকিল  : আচ্ছা থামো ,সুশান্তকে কতদিন চেনো তুমি ? কতদিন ধরে ও তোমার ঘরে যায় ?

কনক : অতো নির্দিষ্ট করে বলতে পারবো না ,তবে প্রায় তিনবছর মোটামুটি সপ্তাহে তিনবার ,রাত্রি করে  আসতো প্রচুর মদ খেয়ে ,তারপর আমাকে ন্যাংটো করে হামলে পরতো শরীরটায় ,মদের ঘোরে বলতো আমাকে নাকি বিয়ে করবে। হা হা ,ওর মতো কত নাগর এলো আর গেলো। হা হা এই যে হারটা দেখছেন সোনার এটা সুশান্ত দিয়েছে।

উকিল  :   জজসাহেব এই সেই হার যা নিয়ে সুশান্ত আর বৌয়ের ঝগড়া শুরু হয়েছিল আর এর জন্য সুশান্ত সেই রাতে রাগের মাথায় বৌয়ের মাথায় রড রড দিয়ে আঘাত করে। 

কনক :  ইশ এই সেই হার আমি এটা আমি গলায় পরে ঘুরছি ঘুরছি ,ছি ছি। আমরা ছোটলোক বাজারি মেয়েছেলে পেটের জ্বালায় বিপাকে পরে শরীর বেচি কিন্তু কারোর সংসার ভাঙতে চাই না ,কোনো মেয়েকে আমরা ছোট করতে চাই না ,বুঝি বাবু সুশান্তর বৌয়ের জ্বালাটা। এই সমাজ কাছে আমরা পণ্য ,এই সমাজের পুরুষের কামের খাবার আমরা কিন্তু সুশান্তর মতো মানুষকে আপনারা ক্ষমা করবেন না ,এই হার আপনি রাখুন বাবু আমার চাই না।

.

ঘুরে দাঁড়ানো (কথোপকথন)

...

ঋষি  

বলতে নেই

 বলতে নেই আমি কেমন আছি 

বলতে নেই ভালোবাসা বিবাগী হলে মানুষ কেমন থাকে 

বলতে নেই চাঁদ উঠলে সূর্যের ডোবা  মিথ্যে 

বলতে নেই আকাশ কুসুম স্বপ্নে আসলে স্পর্শরা  মিথ্যা 

বলতে নেই মিথ্যা সম্পর্কের আগুনে পুড়ে মানুষের  ঘুরে দাঁড়ানো

বলতে নেই মিথ্যে তাসের ঘরে মুখোশের মিছিল। 

.

বলতে নেই কুকুরে সঙ্গমে মানুষের সংভোগ 

বলতে নেই তোমার বুকের তিলে শুধুমাত্র জোকারের বাস 

বলতে নেই জোকের মতো লেগে থাকে তুমি আসলে অনেক দূর '

বলতে নেই এই শহরে ভালোবাসারা  মিথ্যে। মানুষ মিথ্যে। সম্পর্করা  মিথ্যে 

বলতে নেই মানুষরুপি শকুনেরা সব তোমার আশেপাশে 

বলতে নেই তুমি পুরুষ নও ,নারী নও ,শুধুই সময়ের ক্রীতদাস। 

.

বলতে নেই তোমার গলা না শুনলে মন খারাপ করে 

বলতে নেই তোমায় বহুক্ষন না দেখলে মনের কোনে মৃতদেহ 

বলতে নেই তুমুল অভাবের ঘরে মনখারাপ হয় 

বলতে নেই হঠাৎ তুমুল তুমিতে পৃথিবীকে কটুকথা 

বলতে নেই বিশ্বাসী কথাদের আগুন থেকে সমুদ্রে।

বলতে নেই তুমি কেমন আছো 

বলতে নেই ভালোবাসা পাপ ,লোভ ,না কল্পনার মনের মানুষ 

 বলতে নেই সময় মানে শুধু পৃথিবীর আবর্তন আর দিনবদল 

বলতে নেই প্রতিটা হাসির পিছনে সাজানো মানুষ 

বলতে নেই সম্পর্কের চোরাবালি মানুষকে বৃদ্ধ করে 

বলতে নেই আগুনে ঘি দিলে সময় পুড়ে যায় 

বলতে নেই দুর্ঘটনা আসলে কোনো ঘটনার অন্যরূপ 

তাই তো সত্যি বলতে নেই 

বলতে নে জীবনে বাঁচাটা একটা আর্ট 

আর আমরা শুধুই অভিনয়ে। 

.

বলতেনেই 

... ঋষি   



 

 


বাড়ি

হুট করে সরে আসার পর স্পর্শের আকাঙ্খা বাড়ে  আমাদের প্রত্যেকের আলাদা বাড়ি অথচ ঘর একটাই  সেই ভিতরের ঘরে বাড়তে থাকা আলাপ  আমাদের আরও কাছে আনে , ...