Wednesday, September 30, 2020
prithibite dutO jat
Monday, September 28, 2020
kotha chil
কথা ছিল
... ঋষি
.
আমাদের এমন থাকার কথা ছিল না
কথা ছিল সাত সাগরের পাড়ে কাঁচের জানলায় দাঁড়িয়ে তোমাকে দেখার ,
আমার কথা ছিল তোমাকে ভালো রাখার
আমার কথা শহরের ছিল শহরের ধুলোয় সেই ভিখিরি মাটার বুক আঁকড়ে বলা
এই মা শোন তুই ছাড়া তো আমার কেউ নেই
কাঁদিস না !
.
তোর কথা ছিল এক সমদ্র রূপকথা বুকে
চার দেওয়ালে কাঠের দেরাজ খুলে পুরোনো চিঠিতে আমাকে খোঁজার ,
কিংবা তোর কাঠের আলমারির শাড়ির তাকেতে ময়ূরপঙ্খী খুঁজতে খুঁজতে
আমাকে বলা
দেখ তো আয়না আমি হাসলে কেমন লাগে ?
দেখ তো আয়না ময়ূরপঙ্খী না স্বপ্ন ?
.
আমাদের সত্যি কি এমন থাকার কথা ছিল ?
কথা ছিল বুকের খেলনাবাটি খুলে তোর বুকে একটা আমার আদরের ঘুমের ,
কথা ছিল গীতবিতানের প্রেমপর্যায়ের গায়ে হাতবুলিয়ে
হঠাৎ না ভুলতে পারা গান গুনগুনিয়ে ওঠার।
কথা ছিল কোন সন্ধ্যা পার্কসার্কাসের পাঁচ মাথায় দাঁড়িয়ে
কিংবা মনুমেন্টের উপর দাঁড়িয়ে চিৎকার করার
ভালো বাসি তাই
আরো কাছে যেতে চাই।
তুই তখন হয়তো সন্ধ্যা প্রদীপ জ্বেলে দরজায় দাঁড়িয়ে সিঁথিতে সিঁদুর
তুই হয়তো আমার সব সম্পর্কের নারী একলা ভীষণ ,
আর আমি
শুধু অপেক্ষায় সময়ের ভিড়
শহরের ধুলোয় একলা কবিতায়
আমাদের তো ভালো থাকার কথা ছিল ।
Sunday, September 27, 2020
কবিতার কথা
মারিজুয়ানা
Saturday, September 26, 2020
সম্পর্কের ডিকশনারি
সম্পর্কের ডিকশনারি
.. ঋষি
.
পৃথিবীর শেষ মুহূর্তে দাঁড়িয়ে
খুঁজে পাচ্ছি না সম্পর্ক বলে একটা ডিকশানারি,
পুরোনো ডিকশনারিতে আলফাবেটিকলি সাজানো সম্পর্কের মানেগুলো
আজ নিয়ম আর হিসেবের আড়ালে কারণ খুঁজছে।
খুঁজে পাচ্ছি না তাই আগামী পৃথিবীতে আমি ছাড়া অন্য কাউকে
সেখানে তুমি ,তোমরা ,আপনি , আপনারা, ব্রাত্য।
.
বছরের সতেরোর ছেলেটা রোজ নিয়ম করে তার বাড়িতে দেখে
এক রাক্ষস ,রাক্ষসীর ঝগড়া ,
তার বাবা ঝগড়া করলে আর মানুষ থাকে না
আদিম মানুষের মতো নিতান্ত ছোট কারণে কামড়াকামড়ি করে।
সম্পর্ক আর ঝগড়া
ছেলেটা পালাতে থাকে সম্পর্ক থেকে দূরে।
.
পৃথিবীটা ক্রমশ কেমন পাথরে হয়ে যাচ্ছে
পাথর মানুষ ,পাথরের মন ,পাথুরে চাহিদা আর বাঁচার কারণ ,
বছর ষোলোর মেয়েটা তার বান্ধবীকে দেখে ভালোবেসে রক্তাক্ত হতে
মেয়েটাও পাথর হয়ে যায়
ভালোবাসা বলে সত্যি কি কিছু আছে ,সত্যি ?
বছর আটত্রিশের লোকটা পুরোনো সম্পর্কের ডিকশনারি খুঁজে ভাবতে থাকে
কোথায় সে দাঁড়িয়ে ?
হঠাৎ হাউমাউ করে কাঁদতে কাঁদতে ছুটতে থাকে নিয়মিত জীবনে
ক্লান্ত ,শান্ত একটা মানুষ পাথর হয়ে যায় বাঁচার চাকরি করতে করতে।
.
বছর ছাব্বিশের সদ্য বিবাহিত যুবতী
ছাদের দড়িতে রাত্রের বাসি ভিজে শাড়িটা নাড়তে নাড়তে আকাশ দেখে
ভিতর থেকে দুমড়ে মুচড়ে ওঠে কান্না
বিয়ে আসলে একটা রূপকথা
তার কাছে যা আজ ভয়াবহ নিয়ম ছাড়া আর কি ?
.
প্লিজ ঘাবড়াবেন না আপনারা
প্রতিটা বদলের আগে একটা ঝড় ওঠে
এই কবিতা আগামী সংবাদ পত্রের হেডলাইন হতে চলেছে
যেখানে মানুষের সাক্ষাৎকারে বলতে শুনবেন
আগামী প্রজন্ম বলছে
ভালোবাসা মাই ফুট
সম্পর্ক মাই ফুট
আরে বাবা লিভিং করবো
চাঁদের মাটিতে একলা দাঁড়িয়ে নিজের ললিপপ চুষবো
বাচ্চাকাচ্চার কি দরকার মশাই।
Thursday, September 24, 2020
রেডফ্লায়ার
রেড ফ্লাওয়ার
... ঋষি
আমার বাবাকে দেখছি রৌদ্র পিঠে করে বই পড়ছে
সারা দিন সারা রাত্রি
আর ঘোড়া ছুটছে দিগন্তে বোধহয় সেই রেড ফ্লাওয়ারের খোঁজ ,
মা রান্না ঘরে তখন থেকে খুটখাট
আজ এতগুলো দিন প্রায় সাতহাজার বছর
ওরা একসাথে আছে
শুধু ওদের মাঝে রেডফ্লায়ারটা সময়ের সাথে পুরোনো হয়েছে।
.
জঙ্গলে আগুন
মোগলির রেড ফ্লাওয়ার আমার বুকে অদ্ভুত একটা আকুতি ,
ছোটবেলায় পাড়ার ল্যামপোস্টগুলোর আলো জ্বলতেই বুঝতাম
দিনের আলোর ডিপারচারের সিগনেচার পড়ে গেছে।
সেসব পুরনো হয়ে গেছে দিন
রৌদ্র ,পিঠ ,বই পড়া , আমার বাবা ,পাখিদের ডানা থেকে রৌদ্রের গন্ধ
রান্নাঘরের মেয়ের অবিরত খুটখাট
সব মুছে অতি আধুনিক ক্ল্যাসিকাল লাইফ স্টাইল থেকে ।
তখনও সন্ধ্যা আর নামেনা আদৌও
হাত পা ধুয়ে সবে পাটিগণিতের পাতায় আমি আগামী জীবন আঁকছি
মা বলছেন তোর দ্বারা হবে না
সন্ধ্যে হলেই ঢুলে পরা ,আয় আমরা গান করি
পুরোনো হারমোনিয়াম ,মায়ের গলায় রবিঠাকুর
আমি বনলতাকে দেখি
" চুল তার কবেকার অন্ধকার বিদিশার নিশা "
চিৎকার করতে ইচ্ছে করছে
হারিয়ে যাচ্ছে আমার রেড ফ্লাওয়ার।
.
ডিজিটাল প্লাটফর্ম জুড়ে সাজানো আসরে কবিতা উচ্চারিত হয়
আমার দিগন্তে উচ্চারণ রেড ফ্লাওয়ার ,
সেই মফস্বল থেকে আমি আজ শহরের পাতায়,
ঘড়ির কাঁটাগুলো কখন যেন বয়সের চুল পাকিয়ে দেয়
যেন এক অবিচ্ছিন্ন শোক ,
অন্তরালে বাঁশি বাজে গোধূলির রঙে আলোর ডিপারচারের।
রাত্রির যুবতী দেহে বাহারি পোশাক ঝলকায়
আমি তবু বাবার দিকে চেয়ে থাকি
শুনতে থাকি মায়ের গলা
হারিয়ে যায় সব
খোঁজ আজও রেড ফ্লাওয়ার।
আমার তুমি
আমার তুমি
... ঋষি
.
মাঝে মাঝে আগুন লেগে যায়
পবিত্র সঙ্গমের মতো স্বপ্নে দেখতে পাই তোমায়,
আজ উত্তরের জানলা খুললে পায় না আর শীতল বাতাস
ঋতু বদলায়,
বুকের রক্তে একলা মেশা প্রেম
শহরের ধুলোয় কালো হয়ে জমে যায় প্রতিটা আত্মহত্যার পর।
.
মাঝে মাঝে নিজেকে বড়ো অসহায় লাগে
তোমার বাড়তে থাকা ব্রায়ের মাপে নিজেকে লাগে অপগন্ড ,
অদ্ভুত এক সম্মোহন
নিরুপায় জীবনের পর্যায় সম্পর্কগুলো টিট ফোর ট্যাট।
চশমার কাঁচে ধুলো মাখে শহরের ব্যস্ততা
বাসস্ট্যান্ডে দঁড়িয়ে হঠাৎ একা লাগে।
.
মাঝে নিজেকে হত্যা করতে ইচ্ছে করে
আয়নার সামনের দাঁড়িয়ে চেনা মুখটা বড়ো বেশি কীটের মতো ,
মেরুদন্ডহীন একটা সময়ের সাক্ষী।
তোমার ঠোঁটের লালায় লেগে থাকা আমার তৃষ্ণাটুকু
অনিয়মের বৃষ্টি হয়ে শুকনো মাটি ভেজায়।
আসলটা কেউ বুঝতে চায় নি মানুষেৱ বাঁচার জন্য অনেকে থাকে
কিন্তু মরার জন্য একজনই থাকে ,
মানুষের সাথে থাকার জন্য চারপাশে হাজারো চোখ
কিন্তু বুকের ভিতর একজোড়া।
গূঢ় তত্ব ,আরো গভীর গাছের পাতা
শিকড়ের মাটি সরে গেলে গাছ দাঁড়াবে কোথায় ,
সবকিছু ব্রাত্য হয়ে যায়
সবুজ সালোকসংশ্লেষ ,
জীবন অপরাহ্নে নিজেকে বড় অপাংতেয় লাগে
জানি না এই পৃথিবীটা কজন আছে বুক বাজিয়ে বলতে পারে
আমার তুমি।
Tuesday, September 22, 2020
একটি বিয়ের বায়োডাটা
ছ হাজার ছশো সতেরোবার
অপেক্ষা
Monday, September 21, 2020
টোটেম
অভিমানী কবিতা
Sunday, September 20, 2020
চলন্তিকা আর চশমা
Saturday, September 19, 2020
ছদ্মবেশে
ছদ্মবেশে
... ঋষি
লুকিয়ে দেখে যাবি শহর
আমি বুক ভাঙতে পারি না ,পারি না লিখতে উপনিষদ
আগামী কোনো দিনে তোর কণ্ঠে আমি শুনবো কি নিজেকে ?
সব গুলিয়ে যাচ্ছে
তাসের দেশের বাদশা অদৃষ্ঠের গোলাম সেজে
তোষোমোদ করছে সময়কে।
.
জিন্দেগী ইস কদর ডরতি হ্যা তুঝসে
জিন্দেগী ইস কদর মহব্বত করতি হ্যা তুঝসে
সব বিন্দাস
শুধু ডিকশনারির বাইরে আমার পা রাখতে নিষেধাক্ষা যক্ষের।
সমস্ত উজাড় করে ঈশ্বর খোঁজা
আর ঈশ্বর হওয়ার তফাৎ ভাবনায় ,
আমি পারি না
তুই পারিস।
.
এই কবিতায় কেউ কোত্থাও নেই
এই কবিতায় কেউ কোথাও আসতে পারে না কখনো ,
এই কবিতায় আমি তুই দাঁড়িয়ে জীবন নামক ছাদের পাঁচ তলার ছাদে
আকাশে একলা চাঁদ
আর আমরা মুখোমুখি একলা যেন হাজারো তারা।
ভাবনারা বদলে গেলে মানুষ কেমন জানি বেওয়ারিশ হয়ে যায়
ভাবনারা বদলে গেলে মানুষ আরো একলা হয়ে যায়
যেমন অন্ধকার আকাশ আর আমরা।
এরপর ও শহর খুঁজতে তুই আমার শহরে পথ হাঁটবি হরবোলা
এরপর ও আমার শহরের বিক্রি মুখোশের কিছু অবিকৃত থাকবে
এরপর ও কিছু মানুষ একলা হয়েও সঙ্গে থেকে যাবে
এরপরও কোনো গৃহস্থের ঘরে জন্মাবে সন্তান
এরপরও রাস্তার কুকুরদের ভাদ্র মাস হবে।
শুধু জীবন বদলাবে না
তারা খসাদের দেশে একলা রাত্রে কিছু তারা
জানিয়ে দেবে তুই আছিস আমার শহরে।
সুকৌশল
সুকৌশল
.... ঋষি
.
দূর থেকে চুমু ছুঁড়ে মারলে
আমার পায়ের ফাঁকে ওরাংওটাং বলে
আকাশ ভরা বৃষ্টি।
শব্দ স্রোত বেশ কমিউনিকেশনে লেখা ছিল
গুলাবী আঁখে মে তেরি দেখু ,
তারপর ক্রমশ রক্তে মিষ্টির মাত্রা দৈর্ঘ্য প্রস্থ তোর মতে দেখতে
কথা দিচ্ছি দেখা হলে এক নিঃশ্বাসে চুমু খাবো তোকে।
.
ভাবনারা বদলায় না সত্যি
আমার বুকের দেরাজে খামে ভরা চিঠি মনখারাপের ঠিকানায় ,
আজকাল যখন তখন বৃষ্টি নামে শহরে
শহরের জলের পরিমানের ছোঁয়া লাগে মানুষের চোখে
টুপ্ করে এক বিন্দু জল
ঝরে পরে
তোকে বলা হয় নি তোর চোখটা বড়ো মিস করি আজও।
.
পাহাড়ি ট্রেনে ঘুরে ঘুরে ,হাজারো বছর পর
এমনি বাজে টেলিফোন ,
কিছু কথা পরে থাকে রাস্তার পাশে খুব সস্তা মানুষের মতো
আর কিছু কথা গোপনে তোর কফি কাপে পাহাড় ছুঁয়ে যায়।
তোকে বলা হয় নি
তোর কোমরের মাপের একটা শব্দ আমার খুব প্রিয়
যার প্রতিশব্দ তুই নিজে।
তারপর আসছি আমি আপনাদের কথায়
ভদ্র মহোদয় ,মহাশয়া গণ
ভদ্রলোকের ভাষা মতো স্ত্রী হলো দেশ আর স্বামী স্বদেশ
অতঃপর মাঝরাতে ঘুম ভেঙে যায়
যে শিশু শুয়ে থাকে দুজনের মাঝে
তার নাম সকলের চেনা
সুকৌশল,
আর বাকিটুকু তুই জানিস
যেটা যন্ত্রনা।
বসন্ত-টসন্ত
বসন্ত-টসন্ত
.... ঋষি
এসব বসন্ত-টসন্ত নিয়ে আর মাথাব্যাথা নেই
যতো ব্যাথা এখন হাঁটুর নিচে
কারণ হাঁটুর নিচে নামলেই মানুষ বুঝতে পারে যন্ত্রনা কাকে বলে
খিদে কাকে বলে
কাকে বলে বেঁচে থাকা।
মানুষের বাঁচার জন্য দুটো ভাবনা কাজ করে
এক পেট আর এক মেঘ ,
পেট শব্দটা ডিকশনারিতে ছোট হলেও খিদে শেষ হয় না
আর মেঘ সে যে অসামাজিক
কখন যে কাকে ভেজায়
কখন কাকে একলা দাঁড় করিয়ে রাখে মেঘলা বেলায়।
সত্যি বললে শুধু হয় না
সত্যিকে যে বিশ্বাস করতে হয় এই কথা আজকে কমিনউনিকেশনে একলা ,
শহরের বিহারি পানোওয়ালেকে প্রশ্ন করুন
বাঁচা কাকে বলে ?
সে বলবে " গাওমে দু বিঘান জমিন বেচনা পরা লড়কিকে সাদি কে লিয়ে
ভগবান লড়কি কিউ পেইদা হোতি হে "।
সেবার গ্রামে গিয়েই জানতে পেরেছিলাম
জাঙিয়ার শব্দটা কতটা বেখাপ্পা রহিম চাচার কাছে
রহিম চাচা বলে " কবুতর যদি বেঁধে রাখো বাবু দানা খাবে কি করে ?"
আমি হাসি আর ভাবি
আমরা শুহুরেরা কেন যে বেঁধে রাখি সত্যিগুলো ?
.
ওপাড়ার রাখাদা চায়ের দোকানে বসে ভাঙা গলায় গেয়ে ওঠেন
"তোরা যে যা বলিস ভাই আমার সোনার হরিণ চায় "
আমি হাসি
রাখাল দা বোধহয় জীবনে কোনোদিন হরিণ দেখেনি
সেখানে সোনার হরিণ।
মোদ্দা গল্প হলো সালা জীবন মানে হলো খিদে
সে পেট কিংবা মেঘ যায় হোক না কেন
আর সেখানে
বসন্ত নিয়ে মাথা ব্যাথা
খ্যেপার পেট ব্যাথার মতো।
তাহাদের কথা
তাহাদের কথা
... ঋষি
সবার আগে জন্ম নিয়েছি আমি পাখি
তারপর ডানা ঝাপটাতে ঝাপটাতে কালো পাহাড়ের গায়ে ,
আমার ভুলে যাওয়াগুলো
আমার প্রেমিকার মতো পবিত্র রিস্তায় পাথুরে রাস্তা।
খালি পায়ে হাঁটা
তারপর ভুলে যাওয়া নিজেকে একলা করে।
.
এই কটা লাইন লিখতে গিয়ে একলা হয়েছে
একলা হয়েছে আমার বুককেসে রাখা প্রিয় কবিদের ভাবনা ,
একলা দেরাজে তোমার চিঠি
ভালো লাগে ,
ভালো লাগে মায়ের কাছে বসে তোমার গল্প শুনতে
কিংবা তোমার যে সব দু:খ বোধ,
আমার মতো,তাদের একলা করতে ।
কফিশপে মুখমুখি বসে
আমি উদ্বাস্তু এক ,মারিয়ানা নেশায় বুদ্ কবিতার পাতায়,
গল্প হয় তোমার সাথে নদী নিয়ে,
কিংবা মরে যাওয়া আমার পুরোনো বাড়ির ভিতের র গাছটাকে নিয়ে।
সব ফুরিয়ে যায়
চামড়ার ভাঁজে ক্রমশ ধরা পরে প্রত্নতত্ব
শুকনো শিরায় শুয়ে থাকে আমাদের কথা পবিত্র গ্রন্থে ।
তারপর কমল কুমার মজুমদার লিখে ফেলেন " তাহাদের কথা "
সেটা নিয়ে সিনেমা করেন বুদ্ধদেব দাসগুপ্ত
একটা ফিল্ম ফেয়ার এওয়ার্ড জুটে যায় হঠাৎ
কিন্তু আমাদের কথা বদলায় না
জনতা হাততালি দেয়।
ডিস্কো ড্যান্সার
ডিস্কো ড্যান্সার
... ঋষি
হিসেবের বাজারে ঢুকে নিজের গায়ে চিমটি কেটে দেখি
ভুল নয়
টিকে থাকতে তোমার মতো আমারও ভালো লাগে।
চলন্তিকাকে বলা হয় নি
বেইজ্জত খবর পাতার শেষ অংশে লেখা ছিল দু এক লাইন
খিদের জ্বালায় স্বামী ,স্ত্রী
হিসেবের ই এম আর জ্বালায় স্বামী স্ত্রী আত্মহত্যা করেছে এই শহরে
পাশাপাশি ঝুলছিল দুটো শরীর।
সেদিন সময়ের বেগুনওয়ালার কাছে জানতে পারলাম
সুদিন আসছে
বিদেশ থেকে ফ্লাইটে চেপে আসছে ও দেশের সস্তা এবং স্বাস্থ্যকর খাবার
সুদিন আসছে
রেড কার্পেটের পাশে ফুল হাতে ঢুকে পড়ছে বলিউডের হাজারো সিতারও
কে কাকে বেগুন গুজলো সে খবর বেগুন ওয়ালার কাছে ছিল না।
.
দাঁড়িয়ে ভাবছি হিসেবের বাজারে
আমার পাশে লবন যুগ দাঁড়িয়ে পাশাপাশি জটলা করছে অমিতের মুদিখানায় মানুষগুলো মুখ খুলছে
চোখ দিয়ে নুন ঝরলো।
অথচ পাশের বন্ধ কারখানায় গত রাতে বিশ্বকর্মা পুজোর ফ্যাংশানে শুনতে পেয়েছি
বাপ্পি দা গাইছে আই এম এ ডিস্কো ড্যান্সার
আর তার সাথে শুনতে পারছিলাম অবিশ্রান্ত খিস্তি পাড়ার দাদাদের
মাগীটাকে ছাড়বে না নাকি
শালা এত বড়ো সাহস এম এল কাছে নালিশ করে।
.
আমি হিসেবের বাজারে একলা দাঁড়িয়ে ভাবি
শালা দ্যেশ এগোচ্ছে
আর আমি কেন এত পিছিয়ে আলু ,বেগুন আর টমেটোর হিসেবে
এবার বরং একটু মিঠুন চক্রবর্তী হলে হতো
মিনিমাম সময়ের দাদারা কোমর তো দোলাতো।
দুটো কুকুর
দুটো কুকুর
... ঋষি
আমি আমার সময়ে দুটো কুকুর দেখতে পাই
একটা সাদা ,একটা কালো
সাদা চায় ভালোবাসা আর কালো চায় স্তূপাকৃত মাংস।
ঘাবড়াবেন না একদন
সেদিন এক একুশ বছরের তন্বীকে স্বপ্নে আমন্ত্রণ করলাম
সে কবিতার সাথে শোয় নি কোনোদিন
সেখানে আমার সাথে শোবে কি করে ?
.
তারপর কালো কুকুরটা আমাকে তাড়া করলো
আর অদ্ভুত হলো সাদাটা সোজা দৌড়ে গিয়ে ঢুকে পড়লো
প্রেমিকার পাহাড়ের খাঁজে ,
আমি স্বপ্নে সব দেখতে পাই ইচ্ছে মতো
কিন্তু আজ অবধি কেন জানি আমি আমার প্রেমিকাকে নগ্ন দেখলাম না
দেখলাম একবারও রগরগে সস্তার মাংসের মতো
অথচ কালো কুকুরটা আমাকে কামড়ায় বারংবার।
.
আমি সময়ে দুটো কুকুর দেখতে পাই
তাই আমি সেই একুশ বছরের তন্বীকে স্বপ্নে দেখি পাড়ার রতনের সাথে ঘুরতে
সেদিন দেখি মেয়েটি মিউজিয়ামের ১১৮ টা কঙ্কাল ঘুরে এসে জানালো
মাটিচাপা লাশের সাথে আমার তফাৎ বিরল।
নৈতিকতার খৈনি চিবিয়ে পাড়ার বিহারী পানওয়ালা
তাকে এগিয়ে দিলো পান ,
তারপর মাটিতে থুকলো
দেখি মেয়েটা শুয়ে আছে উলঙ্গ সভায় দ্রৌপদী হয়ে।
সময়ের গলা ভর্তি শর্ত
আর আর শর্তের দালাল সেজে
দুটো কুকুরের সাথে বাস করি আজ বহুদিন।
Friday, September 18, 2020
অপ্রত্যাশিত
কার বাপের কি
কার বাপের কি
... ঋষি
সারাদিন মেধার আশ্রয়ে একলা বেড়েছে লালন
চেনেন আপনারা মেধা পাটেকরকে ?
আরে রে কি হবে চিনে তাই তো
" নর্মদা বাঁচাও আন্দোলন ", কার বাপের কি ?
আমরা খালি পেটে আছি
তাতেই খুশি।
.
এলাচ দর্পে যখন কোনো প্রতিবেশী বাড়িতে সানাই বাজে
পাড়ার সকলে নোলা ঝরে ,
আরে পাত্র আসলে পাক্কা জুয়াড়ি ,বিশ্ব মাগিবাজ
পাত্রী এখনো আঠারো পেরোয় নি ,
তাতে আপনার আমার কি
আমাদের খালি পেটে খাওয়া ,মোগলাই বিরিয়ানি
জানি মশাই মশাই জানি আমি সাধারণ।
.
কত ধানে কত চাল
বাপ্ ,মা মরা মেয়েটা রোজ নিয়ম করে বিছানা সাজায় ,
বিছানা তোলে কাকুর ঘরে।
না না বৌদি আপনাকে কেউ বলে নি তার দুঃচরিত্র কাকুর কথা
কিংবা আপনার ঘরে যে লোকটা সেও যে কতটা দুঃচরিত্র।
অরে কার বাপের কি
যতক্ষন মিথ্যা অন্ধকারে ধামা চাপা
ততক্ষন তাই সত্যি।
দেখুন না অগণন ফেনা শ্যাম্পু সেরে উঠে আসা দুপুরের নিসর্গ রোদ্দুরে
পাশের বাড়ির সদ্য পাশ করা যুবকের চোখে দূরবীন
হাতে পুরুষাঙ্গ
তাতে কি রাস্তার ওপারের মহিলা মায়ের বয়সী।
বীজগাণিতিক ধারাপাত
যতক্ষণ নামছে চোখের আড়ালে নামতে দিন
কিন্তু সত্যিকে বাড়তে দেওয়া যাবে না।
.
সন্ধেবেলা আলাপচারিতা
ভবিষ্যৎ রোমান ঘড়ির সংখ্যায় বিকোনো মাতৃভাষায় আমরা সভ্য
প্লিজ ফাক করবেন না
বরং কথায় কথায় সময়কে বলুন ফাক ইউ ।
ভবিষ্যৎ প্রাদেশিকতার ভিন্ন মতবাদে সভ্যতার গলি ,মোহল্লা ,পাড়াতে
আমরা বীজ বুনছি মিথ্যের ভালো থাকায়
প্লিজ ভালো থাকুন
আপনার বাপের কি।
আলো কাহিনী
আলো কাহিনী
... ঋষি
.
উজ্জ্বল রোদ্দুর চা বাগিচার সামনে আলো এসে দাঁড়ালো
ফিরে তাকালো কর্মরত সেই জন খাঁটা বস্তি যুবতী ,
গায়ে গতরে বেশ পুরুষ্ট শরীরে সেই যুবতী আলোকে বললো
" বুঝলে আমার বস্তিতে আলো থাকে না গো
তুমি বস্তিতে যেও আমার সাথে "।
আলো মুখ টিপে হাসলো ,মনে মনে বললো
আমি কি মাগনায় আসি ,কি পাবো সেখানে ?
আমি একবার প্রশ্ন করেছিলাম আলোকে
তুমি কার ?
উত্তর পেয়েছিলাম শ্যামবাজারে সেই কানা,খোঁড়া জহর ভিখারির কাছে ,
বেশ সে গান করে বলে দিল
কয়েকটা টাকা দিয়ে যান বাবু ,বাড়িতে ভরন্ত বৌ
সামনে দাঁড়িয়ে একজন সম্ভ্রান্ত মহিলা এমন করে তাকালেন
যেন ভিখিরির বৌ কোনো বৌ থাকতে নেই ,
থাকতে নেই কোনো আলোর গাঁথা বোবা অন্ধকারে।
.
গৃহস্থের ঘরে কে রে ?
বারবনিতার ঘরে কে রে ?
টাটা ,বিড়লা কিংবা মোগলাইয়ের ঘরে কে রে ?
আলো মুখ টিপে হাসে
আলোর শরীরে বেশ টিপটপ পোশাক ,গায়ে ফরাসি সেন্ট ,পায়ে দামি জুতো
সে দর্পে পা বাড়িয়ে হেঁটে যায় এই সভ্যতার লাল জাজিমে ,
মাটিতে পা পরে না তার
পা পরে না ধুলো জমা এই নোংরা শহরের অলিতে গলিতে।
লাবণ্যে আলো থাকে
রূপে আলো থাকে
আলো থাকে এই সভ্যতার পাঁচতারা সাজানো হোটেলে,
অথচ সাধারণ গৃহস্থের অন্ধকারে রুগ্ন বেড়াল ডাকে
অথচ কারখানার স্ট্রাইকে আলোর পুলিশ হাঁকে ফায়ার
লুটিয়ে পরে একটা অন্ধকার শরীর একলা কান্নায়।
.
যেহেতু আলোর কোনো শব্দ থাকে না
সেহেতু আমি তুই সব বিশাল বড়ো বোদ্ধা হয়েও শ্যাম্পুর ফেনাতে এল খুঁজি
চামড়া উপর ঘষে তুলে ফেলি অন্ধকার।
আসলে আলো এমন করে আসে না
আলোকে আনতে হলে সকলকেই সত্যি বলতে হবে
আর আলো জানে সে কথা।
ঘুম আসছিলো না
ঘুম আসছিলো না
... ঋষি
.
ঘুম আসছিলো না তোমার কথা ভেবে
ঘুম আসছিলো না আমার রাষ্ট্রের কথা ভেবে
মুঠো ভরা তাপমান
হঠাৎ শরতের রোদে মেঘ করে আসা অন্ধকার আকাশের কথা ভেবে।
ঘুম আসছিলো না তোমার কথা ভেবে
সভ্যতার দূরে একটা অসভ্য সময়ের মুখোশে আমি নিতান্ত সামাজিক।
.
আলগোছে সরিয়ে রাখা সম্পর্কের ভার
শহরের প্রতিটা প্রাঙ্গনে , সিঁড়ি পারে কেঁপে ওঠে বহুতল ঘুম,
অন্ধকার এই সভ্যতায় বড় একান্ত
কাছে আসে বাসরাস্তা শব্দের রাজপথ ধরে কোনো বিষণ্ণ রাত্রি ,
হাইওয়ের ঘুম হারিয়ে যায়
খোঁজে সবুজ বুক ,খোঁজে সবুজ রাষ্ট্র।
.
ঘুম আসছিলো না
সংকেতে শেখা অনুভূতির চিত্রমালা শুধু কাছে দূরে ,
কতটা জটিল হয় শৈশবে ফিরে আসা অন্য শৈশবের হাত ধরে?
শিশু তো সরল অর্থে সারাদিন শব্দে থাকে
এবং জটিলে সুখ ও স্বপ্ন লেখে কাঁপা কাঁপা হাতের অক্ষরে।
কতটা জটিল হয় একান্ত যৌবন যদি শুয়ে থাকে মাইলফলক বুকে নিয়ে
যদি যৌবনের অধিকার দীর্ঘ ছায়া ফেলে জলে নেমে যায়
যদি যৌবনের ব্যাভিচার ঠোঁটে তুলে নেয় মোম
অকাল বিপ্লব
অকারণ তাপমানে ডুবে যায় তোমাকে লেখা চিঠিগুলো
ফিরে আসে চেনা রিংটোন রাস্তা বন্ধ করে।
.
ঘুম আসছিলো না
ঘুম আসবে না আর কোনোদিন আমার চোখের পাতায়
জীবন শব্দটা হতভম্ব করে দেয়,
কবিতা লেখার মতো শব্দগুলো ডানা ঝাপটে পাখি হয়ে বসে রাষ্ট্রের ডালে ,
এখন তো সভ্যতায় গাছ শব্দটা বোকামির নাম
এখন তো সভ্যতায় গাছ শব্দটা বাড়ন্ত শহরে মৃত্যুর নাম ,
পাখি আকাশে বসে গাছ পায় না
শুধু ডানা ঝাপটায়
হ্যাঁপিয়ে যায় একসময়
তুমি বলো চলন্তিকা শান্ত ,সম্মোহনের ঘুম আসবে কি করে এই সময়।
এখন শেষ সন্ধ্যায়
এখন শেষ সন্ধ্যায়
... ঋষি
.
সমুদ্র এত সহজে পেরিয়ে যেতে পারি
এত প্রেম কুড়িয়েছি রৌদ্র দগ্ধ জীবনের জলছবিতে নিস্তরঙ্গে ।
এত বাতাসের গন্ধ
এত বাতাসের কটু গন্ধ সারা সময় জুড়ে ,
তবুও দাঁড়িয়ে আমি বড়ো অসহায় তোমাকে শুনবো বলে
এখন শেষ সন্ধ্যায়।
.
মন খারাপের ইশারায় ফিরে এসেছি বিকেলে সাদা পাতায়
জনশ্রুতির কলরবে পা ফেলে হেঁটেছি সারা শহর
বয়সের কাঁচা পাকা চুলে আজ বাড়ন্ত শৈশব
তোমাকে দেখতে চায় বিশ্বাসে
এবং
অগাধ ত্রিভুজের গড়ে ওঠা নিঃশ্বাসে
জীবনের অন্যমস্ক স্বভাব আজ নতুন দিনে।
.
ভাবছি ঘুরে দাঁড়ানো ভালো
চলে যাওয়া বসন্তের আশ্বাসে, ছড়ানো কফির কাপে
সেই মেয়েটি দিনলিপি লিখে নিজের মতো করে
সেই মেয়েটা একলা এসে দাঁড়ায় যেখানে সমস্ত মুহূর্তরা জড়ো করা।
ইদানিং আর সকাল দেখতে ইচ্ছে করে না
এখন সন্ধ্যাতে আমি গিয়ে দাঁড়ায় ,
যদিও ভোরের গন্ধ কড়া নাড়ে সদর দরজায়,মনে হয়, জেগে উঠি
মনে হয় এইবা বুঝি জীবনের স্যাক্সোফোনে নতুন সুর
নতুন সরগম।
.
প্রিজমের পরত পেরিয়ে আরও ঝুঁকে যায় আলো
কুড়নো শব্দের রাশি স্তূপাকৃত আমার লেখার টেবিলে
মাথা নিচু করা রাইটিং ল্যাম্প
যেন আমি দাঁড়িয়ে।
আর সেই মেয়েটা প্রতি সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে যায় আজও
আমাকে সম্বল করে
প্রতিদিন
একই সন্ধ্যায় আমিও গিয়ে দাঁড়ায় ভাবনার মোড়ে।
Thursday, September 17, 2020
কবি আর ঈশ্বর
খোঁয়াড়
সমুদ্রে মুখোমুখি ঈশ্বর
সমুদ্রে মুখোমুখি ঈশ্বর
এক থালা ভাত
Tuesday, September 15, 2020
পাহারাদার
রুপকথার শহর
Sunday, September 13, 2020
তুমি ছাড়া (২)
তুমি ছাড়া
Thursday, September 10, 2020
একলা বৃষ্টি
একলা বৃষ্টি
... ঋষি
বৃষ্টি পড়ছে ওখানে
আমি জানি ,আমাকে জানতে হয় সময়ের তাপমাত্রা
খুব কালো করে আকাশ ঢেকেছে মেঘ
কিন্তু এ মেঘে বৃষ্টি,,, হবে না।
সময় কই
বৃষ্টি চিরকাল মেঘেদের সই
আমার তো আর মেঘ হওয়া হলো না এ জীবনে।
.
আমার এখানেও বৃষ্টি হয় চলন্তিকা
রং ছাড়া ,গন্ধ ছাড়া বৃষ্টি। .......ডিসগাস্টিং ,অনবরত।
তুমি কোথায় থাকো চলন্তিকা?
বৃষ্টির কি ঘর থাকে ?
সে তো শুধু মানুষের ভাবনায় অদ্ভুত এক স্বপ্নিল উপলব্ধি।
সত্যি কি তাই ?
তোমার ঘর আমার সাথে মিশে গেছে ,,,,,ঘর বদল।
.
ঘরে তো থাকা হয় না কোনোদিন আমার
আমার তো হৃদয়ের গভীরে পুকুরে বাস ,স্মৃতিতে বাস
শহরের চ্যাটচ্যাটে চেতনায় মানুষ কৃত অন্ধকারে আমি থাকি
চিরকাল।
সে হোক না বৃষ্টির ছাতা
কিংবা শীতের কমলালেবু অথবা তোমার সেই চোখ
যা আমাকে ডাকে
বলে ঘরে আয় বাউন্ডুলেপনায় জীবন কাটে না।
দুপাশে নদী ,সময়ের ঘরদোর
সারা শহর হারিয়ে যায় বসন্তের সাথে নির্দ্বিধায় চুক্তিতে
অথচ আমি নিরুদ্দেশ
আমি বানভাসি তোমার বুকের প্লাবনে খয়েরি রঙের তিলে।
.
বৃষ্টি পড়ছে ওখানে
আমি তোমাকে শুনতে পাচ্ছি মনের গভীরে নিরিবিলি জীবনে।
এই বৃষ্টি চিরকাল
কথা বলতে ইচ্ছে করছে ,
হাতের মুঠো ফোন ইশারায় তোমার সেই আদিম গন্ধ।
শুনতে পারছো আমায় ?
কন্ঠ পেলে মুখোমুখি বসা যায় ?
গভীরে গভীরে দুঃখকে ছোঁয়া যায়?
আমার একলা মেঘে।
একলা রৌদ্র
একলা রৌদ্র
... ঋষি
বেড়াতে যাবো
রৌদ্র হবো ,ভাঙা বাড়িটার চালে একলা আমি ,
হ্যা একলা রৌদ্র।
বহুদিন সীমানার বাইরে পা দি নি
আজ বহুদিন তাই বোধ হয় মন ভালো নেই
আজ বহুদিন তোমাকে ছাড়া কেমন একলা লাগে।
.
আমি রাত্রে ঘুমোয় না
ঘুম আসে না দিনের পর দিন একলা এই শহরের সমুদ্রে ,
তাই বোধ হয় আর শরীর চলে না
চলে না বুকের ভিতর স্পন্দনে হঠাৎ বেড়ে ওঠা একলা আকাশ।
পাখি খুঁজছি
কিন্তু জানা নেই কবিরা পাখি হয় কিনা
কি কখনো আমি নবারুণ ভট্টাচার্যকে পাখির খোঁজ করতে দেখি নি।
.
তবে কি আমি পাথর হয়ে গেছি
পাথরের গায়ে দাঁত দিয়ে টেনে চলেছো অসংখ্য কবিতার মতো কিছু,
অথচ আমার কেন যেন পাখি হতে ইচ্ছে হয়
রোদদুপুরে আমি হঠাৎ গামছা ছড়িয়ে পাখি হয়ে যায়
হয়ে যায় রৌদ্র ,
ভোর সন্ধ্যাতে আমি পাখি ঝাঁপটায়
আর রাত্রি হলে কেন যেন বন্দি আমি এই শহরের খাঁচায়।
মাঝে মাঝে মনে হয় পাখিদের কি সংসার থাকে
মনে হয় পাখিরা সত্যি দাঁড়িপাল্লায় জীবন মাপে আমাদের মতো
নাকি আকাশের মাঝে উড়ে চলে গন্তব্যের ইশারায়।
তাই তো আমার কোথাও যাওয়া হয় না
তাই তো আমার অপেক্ষায় গন্তব্য থমকে নিয়মের বাড়িতে
আর আমি রৌদ্র চিরকার
সেই ভাঙা বাড়িটার চালে একলা আমি।
হেডলাইন
হেডলাইন
... ঋষি
মুখ লুকিয়ে রাখবে বলে ছদ্মবেশ নিল যে মেয়েটি
তাকে আমি চিনি ,
তার বুকের ভিতর কাঁচের বয়ামে বন্ধ প্রজাপতিগুলোকে
আমি আয়নায় দেখেছি ,
দুঃখ আসে নি তার জন্য
ফিরে এসেছে আমার গোধূলিবেলায় একলা শহর
সেই মেয়েটা আমি দেখেছি শহরের কোনো অজানা বাস স্ট্যান্ডে।
.
আগুনের তাতে হাত সেঁকে নিচ্ছে মানুষ
শহরের ছোট ছোট গর্তে ব্যস্ত হয়ে যাচ্ছে মানুষের ছোট আনন্দগুলো ,
শ্মশানে ডোম তুলছে ঘেমো শরীর মৃত উত্তাপ
অথচ মৃতদের আঙ্গুলগুলো দিচ্ছে আগুন।
শহরের কোনো ডিনার টেবিলে তোলা হচ্ছে ঝলসানো পাখি
পাখিটি ঝলসে উঠেছিল সংসারে আসার আগে
সংসার গিলছে
গিলছে পাখি
.
সামান্য দামে বিক্রি হওয়া মুখোশ ওয়ালার স্বপ্ন
দেওয়া টাঙানো ,
আমি সেই মেয়েটাকে চিনি মুখোশ ছাড়া,
যে নিজের ঘরের খোঁজে হন্য হয়ে ঘর খোঁজে শহরের মুখোশওয়ালার ঘরে।
সেই মেয়েটা একলা দাঁড়িয়ে অজানা বাস স্ট্যান্ডে
অপেক্ষা করে গন্তব্যের।
.
আমার শহরে একটা নদী আছে
একবার মরে যাবার আগে সেই মেয়েটাকে আমি জড়িয়ে ধরবো ,
জড়িয়ে ধরবো নিয়মের ডিনারে সার্ভ হওয়া সেই পাখিটাকে
নেশার চোখে।
আসলে নেশা ছাড়া তাকে ছোঁয়ার স্পর্ধা আমার নেই
স্পর্ধা নেই বয়ামের প্রজাপতিগুলোকে আকাশ দেবার।
তাই মাঝে মাঝে অসহ্য আমি
এই শহরে বড় কোনো বিজ্ঞাপনী বোর্ডে পড়ে ফেলি
লুকোনো হেডলাইন
সেই মেয়েটাকে আমি ভালো রাখতে পারি নি।
ট্রেন আর ট্রেন লাইন
ট্রেন আর ট্রেন লাইন
... ঋষি
সবার ভিতর একটা ট্রেন লাইন পাতা
সেই জন্ম থেকে সকলেই শুনতে পায় ট্রেনের ভোঁ
দেখতে পায় একটা খালি স্টেশন ,
ট্রেন থামলো
মুহূর্তের কোলাহল
আবার শান্ত স্টেশন।
.
ট্রেন আসে ঝালমুড়ি ওয়ালা ,সিঙ্গাড়া ওয়ালা ,লজেন্স ,টফি ,কাবুলিওয়ালা
কত শব্দ
গরম চায় ,বাবু বিরিয়ানি ,জলের বোতল ,গ্রিন স্যিগনাল ,রেড স্যিগনাল
স্যিগনাল ম্যান
ট্রেন আর পাঁচ মিনিট প্ল্যাটফর্মে .
তারপর
হঠাৎ ফাঁকা ,শুনশান ,মানুষহীন
যেন হঠাৎ পৃথিবীটা থেমে যায় এমন করে।
.
সবার ভিতর একটা ট্রেন লাইন পাতা
সেই লাইনে আসা বিশেষ ট্রেনটাকে সকলে ধরতে চায় ,
রাতের আকাশের নীচে কাশের হিল্লোলে ডুবে যাওয়া সেই ফটোফ্রেম
অপু ও দুর্গাকে দেখতে পায় সকলেই ছুটতে
ঝমঝম ছুটে যাওয়া রেলগাড়িদের পিছনে।
বিকেলের নিভু নিভু আলো মেখে বাগানের নারকেল সুপুরি আর জাম গাছ
সময়ের শৈশবে সকলে ফিরতে চায়
ছুটতে চায় পিছন ফিরে।
আমার একার গভীরে জানালা জুড়ে আজও রোজ আমি সেই স্টেশন দেখি
ছেলেবেলা জুড়ে সেই বৃষ্টিকণারা
মেঘের দল ,নরম মেঘ ,
গা ভর্তি তুলোর মতো হাসি নিয়ে ভেসে আসে সোনালী রোদ।
বাইরে বাইরে সকলে ছুটছি, উড়ছি ,পুড়ছি তবুও
গভীরে ট্রেন ছুটছে বুকের উপর পাতাটি লোহার পাত ধরে
প্রতিদিন
আর আমরা সকলে সেই ট্রেনটা ধরতে চাই।
কাঁচের টুকরো
কাঁচের টুকরো
... ঋষি
তখন আমি একুশ নাকি পঁচিশ ,ত্রিশ হতে পারে
মনে পরে না ,
মনে পরে একটা পথ চলতি মিছিলে সামিল আমি
হেঁটে চলেছি অনেকের সাথে।
গলা মেলাচ্ছি ,জিন্দাবাদ ,মুর্দাবাদ
কিন্তু কিসের মিছিল ?
স্লোগানে স্লোগানে সারা সময় জুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে রিনরিনে কথকতা
কাঁচের টুকরো ,পায়ে ফুটছে।
.
রক্তাক্ত পায়ের দাগগুলো রাস্তার ধুলোতে
হঠাৎ সামনে পুলিশের ভেন ,
হঠাৎ এলোপাথারি লাঠি চলছে ,চলছে কাঁদানো গ্যাস
কিন্তু মানুষ তো এমনি কাঁদছে ,
তবুও।
আমি পালাচ্ছি অনেকের সাথে ,শহরের সাথে সময়ের সাথে
কিন্তু কেন পালাচ্ছি ?
.
কার প্রতিবাদ ? কিসের প্রতিবাদ ?
আমার মতো লোকটা সেই পালাচ্ছে আর এই পালাচ্ছে
পালিয়ে চলেছে ,
সবচেয়ে আশ্চর্য আজ আমি বুঝেছি সেই মিছিল আমার বিরুদ্ধে
সেই স্লোগান আমার মতো লোকের বিরুদ্ধে
সেই পুলিশগুলো ,সেই কাঁদানো বোমাটা আর কেউ না
আমারি নিজের লোক।
.
তাই তো আজ আমি ধ্বংসকে ভালোবাসি
ভালোবাসি মাল্টিস্টোরেড বিল্ডিং ,কর্পোরেট লাইফ
কিংবা শহরের অলিতে ,গলিতে বিক্রি হওয়া সেই সাজানো শরীরগুলোকে
যাদের শরীরে ব্যাধি ,যাদের হৃদয়ে জখম।
আর যারা ব্যবহার করে ডিওড্রেন তাদের প্রতি আমার করুনা হয়
হাসি পায়
শালারা সময় ঢাকতে অসময়ে লাগিয়ে ফেরে।
আমি বুঝে গেছি বহু আগে
প্রতিটি বিপ্লবের আঙুল আমার দিকে তাক করা
প্রতিটি সময়ের অসুখের জীবাণু আমি
কারণ আমি সময়ের দারিদ্রতাকে মানি নি কোনো দিন
কারণ আমি কচুরিপানা দেখলে মুগ্ধ হই
কারন আমি বৃষ্টি দেখলে একলা ভিজি
কারণ চলন্তিকাকে চিঠি লিখি রোজ আমার দিনান্তে
কারণ আমি ধর্ম মানি না
কারণ আমি রাষ্ট্রের সাজানো নিয়ম মানি না
কারণ আমি গণতন্ত্র মানি আর রাজতন্ত্রের ছেবলামিকে খিস্তি দি
কারণ আমার সাঁইত্রিশ বছর বয়সে আমি জানতে পেরেছি
আমি আদৌ মানুষ না
আর এই পৃথিবী আমার না।
তুমি হাসলে বলে
তুমি হাসলে বলে
... ঋষি
.
শব্দরা অনুপ্রাণিত হয়ে ওঠে হঠাৎ
হঠাৎ নিয়ম ছাড়া বুকের ভিতর পাখিদের কিচিরমিচির,
ছায়া ফেলে রৌদ্র বিকেলের বারান্দার টবে রাখা ম্যানিপ্ল্যান্টে
সবুজ বেড়ে ওঠে মনে গভীরে ,
আঁচড়ে ফুটে ওঠে শব্দমাফিক একটা স্কেচ সাদা পাতায়
তুমি হাসলে বলে।
.
তুমি হাসলে বলে
সারা শহর জুড়ে হঠাৎ ছড়িয়ে পরে গন্ধ ও রঙ,
লুকোনো বেদনাগুলো ঝরে গোটা পৃথিবীর বেরঙিন বৃষ্টির মতো।
তাকিয়ে থাকা দৃষ্টান্তস্বরূপ
ফুরোনো সূর্যের আলোর গাছের সবুজ পাতাগুলো আনন্দে মাতোয়ারা
আমার দুঃখের গবেষণা, সময়ের মাপজোক
সব অকারণ মনে হয় তোমার মুখের হাসিতে।
.
শব্দরা অনুপ্রাণিত হয়ে ওঠে
দায়হীন নিয়ম বহির্ভূত একটা আয়নায় নিজেকে কেমন সুখী মনে হয় ,
আল্পসের শিখরে তখন সূর্যের শেষ বিকেলের আলোকরশ্মি
তখন আমাকে আনমনা করে।
তুমি হাসলে বলে
হরিণীর কস্তুরী গন্ধ , সদ্য জন্ম নেওয়া আকাশের তারাগুলো
যেন জন্মের মতো মনে হয়
ক্ষণজন্মা।
জানি না এই পৃথিবীতে কে এসেছিলো প্রথম এমন প্রশান্তি নিয়ে
জানি না আমার রাত জাগা স্বপ্নগুলো আজকাল কেন জানি সত্যি মনে হয়
অপার ঢেউয়ের স্তনে,ঢেকে রাখা বরফ
এমন করে শীতল করো না আমায়।
.
জানি ভালোবাসা সময়ের মরশুম কিনা
এই মুহূর্তে আঁচলে পেতেছে চাঁদ, শব্দের অদ্ভুত অনুবাদ
ঠোঁট, আঙ্গুল ,সারা মুহূর্ত জুড়ে তুমি
ছাই লোভী ভিখিরি আমি
তাকিয়ে আছি খুব দূরে যেখানে এই শহর শেষ
এই নগর শেষ ,এই দূরত্ব শেষ
শুধু তুমি হাসলে বলে।
Tuesday, September 8, 2020
বরফের কবিতা
সময়ের অং ক
নতুন কি আর
Monday, September 7, 2020
সৌজন্যে সুনীল বাবু
Sunday, September 6, 2020
তোমাকে বলছি শোনো
আমার হাতের সিগারেটে আমার বুক পোড়ে নি কখনো ,
বুক পুড়েছে বারংবার আমার
তুমি যখনি অন্ধকারে বসে হাতে তুলে নিয়েছো অন্ধকার সিম্ফনি ,
তখনি মহাকাল কেঁপে উঠেছে
প্লাবনে ভেসে গেছে বাঁকুড়ার প্রত্যন্ত গ্রামে হাজারো চাষির সংসার।
.
প্রশ্ন করতে পারো চাষি কেন ?
আমার উত্তরে দাঁড়াবে আমি সারাদিন কি করি বলোতো
হিসেব করে প্রতি ইঞ্চিতে তোমাকে চাষ করি ,
জানো তো কলকাতায় লেজ মোটা কবিরা ভাবে
শব্দের চাষে তারা খুব সহজে খুলে ফেলতে পারে সময়ের অন্ডকোষ
অথচ আমার মাথায় তুমি সবুজ জমিতে একলা দাঁড়িয়ে খুলে ফেলো ডালপালা
আমি মুগ্ধ হয়ে দেখি আলোর জন্ম।
.
এমন হয় কখনো কখনো
এই শহরের রাস্তায় তুমি পাথরে মাথা রেখে শুয়ে খোঁজ আমার বুক
মৃত সন্তান
মৃত সন্তান
... ঋষি
প্রতিটা বিপ্লবের পিছনে একটা কুঁড়েঘর থাকে
প্রতিটা সন্তানের অভিভাবক ভাবে
আগামীতে হয়তো তাদের জন্মটা অনেক ইচ্ছার সুবাদে হবে ,
সময় বদলায়
মানুষের স্বপ্নের কুঁড়েঘরে স্বপ্ন বোনে ইচ্ছা
আর জানোতো ইচ্ছেরা কখনো সতন্ত্র হতে পারে না।
.
আবছা চোখে হাজারো ভিড়েতে হারানো শৈশব সকলে সন্তানের গভীরে খোঁজে ,
খোঁজে মিথ্যে হলেও একটা দিন বদল সন্তানের বুকে ,
অদ্ভুত গন্ধ না
অদ্ভুত ওম না
অথচ আজ আমার পাড়ার ভিখিরিনী মা ভীষণ কাঁদছে
কারণ তার বুকে স্থির ,পাথর হয়ে গেছে তার সন্তান।
.
আমি সময় খুঁজছি না
শুধু ভিখিরিনীর খোলা শাড়ি সরে যাওয়া বুকে দেখতে পাচ্ছি নিজেকে
আর ভিখিরিনীর চোখে দেখছি মৃত ভারতবর্ষ ,
তিলতিল গড়ে ওঠা স্বপ্নগুলো যদি হঠাৎ ভেঙে যায়
নিজের বুকের মাটির সন্তান যদি হঠাৎ হারায়
কি ভাবছেন ?
বিপ্লবের মৃত্যু হয় প্রতিবার মানুষের ভাবনায়
.
ভিখিরিনীর আবার সন্তান !
বিপ্লব যখন স্পর্ধা নিয়ে আকাশে কাগজের এরোপ্লেন ওড়ায়
তখন আমরা বড়রা বলি খাতার পাতার ছিঁড়িস না এমন করে
অথচ বিপ্লব ভাসতে থাকে আকাশে
সন্তান বাঁচতে থাকে
অথচ আমরা সময়ের মা বাবা কুঁড়ে ঘরে ফেনা ভাতে
দুঃখ খুঁজি
খুঁজি হিসাব
আমরা কি আদৌ জানি মৃত সন্তান কখনো ফিরে আসে না।
.
Saturday, September 5, 2020
প্রেম ফুরোয় না
বাড়ি
হুট করে সরে আসার পর স্পর্শের আকাঙ্খা বাড়ে আমাদের প্রত্যেকের আলাদা বাড়ি অথচ ঘর একটাই সেই ভিতরের ঘরে বাড়তে থাকা আলাপ আমাদের আরও কাছে আনে , ...
-
বৌদি তোমার জন্য .... ঋষি ==================================================== তোমাকে চিনি আমি বৌদি ঠিক আমার বাড়ির উল্টোদিকে ছাদে তুমি স...
-
মুখাগ্নির মন্ত্র ... ঋষি . এক শতাব্দী নিজস্ব অন্ধকারে লুকিয়ে থেকেছি এক শতাব্দী লাট খেয়ে পরে থাকা মৃতদেহ কুড়িয়েছি কুড়িয়েছি ভনভন পচে যাও...
-
নোংরা মেয়ে ... ঋষি মেয়েটা দাঁত কেলিয়ে শাড়ি সরিয়ে দাঁড়ায় যার যোনিতে বাস করে অজস্র বীর্যপুত্রের ছড়ানো সমাজ। মেয়েটা পথ চলতি লোকের গা...