একটা কবিতা আমি তুমি
শুধু কবিতার জন্য এই বেঁচে থাকা ,শুধুই চলন্তিকায় এই জন্ম....
Friday, October 2, 2026
দূরে কোথাও ,
Wednesday, September 30, 2026
আমি তোমাকেই ভালোবাসি
মাংসের দোকান
যারা ঘুমোতে চায় তারা ঘুমিয়ে পড়ে
যারা বাঁচতে চায় ,তারা ভিড় করে
মাংসের দোকানে।
আসলে মানুষ—
এই শব্দটিও একদিন সৌখিন আলমারির ভিতর
সাজানো শোপিস হয়ে যাবে।
আমরা ভাবি
আমরা বেঁচে আছি।
অথচ বুকের ভিতর থেকে রক্ত, মাংস, স্বপ্ন
এক এক করে খুবলে নিয়ে
আমরাই ঝুলে থাকি
লোহার হুকে মাংসের দোকানে।
রাত পৌনে দুটো কয়েক পেগের পর
মশারা ঘরের ভিতর
নিজেদের স্বাধীনতা ঘোষণা করে।
ঘুমন্ত শরীরটির দিকে তাকিয়ে
কোনও নেশা আসে না আর।
নেশা—
যা ছিল,
তা ফুরিয়েছে বহুদিন।
এখন AI-এর যুগ।
সবকিছুই
আরও নিখুঁত,
আরও পরিচ্ছন্ন,
আরও সফিস্টিকেটেড।
শুধু মানুষ শব্দটা ক্রমশ শরীর হয়ে যাচ্ছে।
চাহিদা অনুযায়ী
কাটা, ছাঁটা, সাজানো—
মাংসের দোকানের ভিতর একটি নিখুঁত প্রদর্শনী।
আমরা নিজেদের মিথ্যে বলি।
বলি—
আমরা ভালোবাসি।
কিন্তু ভালোবাসা কোথায়?
সে তো মাংসের দোকানে
লোহার হুকে গাঁথা
একটি দীর্ঘ অপেক্ষা।
তারপর—
কুকারে জল।
হলুদ।
নুন।
লঙ্কা।
তেল।
আগুন।
তারপর
সিদ্ধ হতে হতে
একটি রক্ত মাংসের শরীর
তার নাম হারায়।
তারপর রিসাইকেল।
তারপর পরিবেশন।
তারপর
কারও ক্ষুধা।
কী অদ্ভুত—
এটা মানুষের কবিতা নয়।
শহর থেকে মফস্বল,
মফস্বল থেকে ঘর,
ঘর থেকে রান্নাঘর—
সকল রক্ত-মাংসের শরীরে
একই অপেক্ষা।
কেউ ভালোবাসার জন্য অপেক্ষা করে,
কেউ মৃত্যুর,
কেউ স্পর্শের,
কেউ ক্ষুধার।
অথচ শেষ পর্যন্ত
উদ্যাপনের আরেক নামই—
আমার বাড়িতে মাংস রান্না হচ্ছে।
মাংসের দোকান
ঋষি
Sunday, July 19, 2026
শুঁয়োপোকা
রিংটোনে যা বাজে,
তা আসলে মাথার ভিতর শুঁয়োপোকার লিখে চলা কবিতা।
শুনলাম, বেশ কিছু জোঁক নাকি আবেদন জানিয়েছে
প্রজাপতি হতে চেয়ে।
ওদের আবেদনপত্রগুলো ছড়িয়ে পড়ছে
শুঁয়োপোকাদের অবশ্য এসব নিয়ে মাথাব্যথা নেই।
এদিকে এআই বিশ্লেষণে ধরা পড়েছে,
ময়ূরের নাচের সঙ্গে বর্ষার বৃষ্টির কোনো সম্পর্ক নেই
ওটা নেহাতই শেয়ার বাজারকে প্রভাবিত করার একটা চাল।
প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছে যে,
শুঁয়োপোকাদের প্রতিবাদ মিছিল করার
কোনো মৌলিক অধিকার নেই।
তাই এক ডালে পাঁচটির বেশি শুঁয়োপোকা থাকলে
সেটা বেআইনি বলে গণ্য হবে।
সূত্রের খবর অনুযায়ী,
রিংটোন থেকে ইদানীং শুঁয়োপোকাগুলো বেরিয়ে পড়ছে মানুষের মধ্যে,
তাই গাছের সংখ্যা কমে যাচ্ছে ক্রমশ।
বাড়ছে মানুষের গায়ে মানুষের জন্য চুলকানি।
দাবি উঠছে—
সংবিধানে লেখা হোক শুঁয়োপোকার নীতি।
এদিকে ক্রমশ আমার রিংটোন বাজছে।
মাথার ভিতর কে বোঝাতে চাইছে—
অপেক্ষা।
অথচ কবিতার শব্দগুলো
শুঁয়োপোকার মতো ক্রমশ এগোচ্ছে।
তবে কি প্রতিমুহূর্তে
এখন শুধু প্রজাপতি খোঁজা?
.
শুঁয়োপোকা
ঋষি
কল্পকের কল্পনা
কল্পককে আপনারা চেনেন
আরে আমার বান্ধবীর কলমে জন্মানো লোকটা
কল্পককে ওর ছেলে প্রায় ঠেঙায়
নেশা করার টাকা সে বাবার কাছে পায় না বলে
ওর হলুদ কালো স্ট্রাইপ দেওয়া সুতির পাঞ্জাবির পকেট ফুটো
ঘাবড়াবেন না
পকেটে টাকা না থাকলে পকেট ফুটো বলে লোকে।
.
হাউজিংয়ের রবীন্দ্র-নজরুল সন্ধ্যায় কল্পক চিফ গেস্ট
কি পড়বে ,কি পড়বে
পাঞ্জাবিটা কল্পনা কিনে দিয়েছিল ,
কল্পনা কে ?
আরে আমার কলমে তৈরী কল্পকের স্ত্রীর নাম ।
কল্পনা মরে গেছে দুবছর হল
সেবার ছেলেকে রি-হ্যাব থেকে নিয়ে এসে দেখেছিল,
কল্পনা আর নেই ।
.
প্রশ্ন করবেন নিশ্চয় কল্পনাকে মারলাম কেন
আসলে নিজের ভিতর মাঝে মাঝে বড্ডো জিঘাংসা কাজ করে
কল্পনা যেদিন মরে গেলো সেদিনও এই পাঞ্জাবিটা পরেছিল কল্পক
সেই থেকে আজ অবধি পরে আছে।
দিনে দিনে পাঞ্জাবিটা আরো উজ্জ্বল হয়ে উঠছে
কিন্তু পাঞ্জাবির পকেটটা ফুটো
কি আপনারা হাসছেন ,জানি আমার বান্ধবীও হাসছে
কিন্তু কেউ বুঝতে পারছেনা আমার বান্ধবী ছাড়া
পাঞ্জাবিটা আসলে কল্পকের বুকের কাছে ভাঁজ করে রাখা ডানা
একদিন কল্পক ঠিক ওই ডানা মেলে উড়ে যাবে
ছেলেটা পাগল হয়ে যাবে
কিন্তু কল্পক
উড়বে
উড়বে
আকাশের কল্পনায়।
কল্পকের কল্পনা
... ঋষি
Wednesday, June 3, 2026
খাঁচা
লাস্ট কল এই হল ...
পাশে এসে যে বসল ও মানে আমার চেনা অচেনা মানুষটা
উড়োজাহাজ ছাড়বার আগের মুহূর্তে যেমন কোলাহল ,
সাত ,আট বছর হবে
কার গলায় যেন শুনেছিলাম "যা পাখা উড়তে দিলাম তোকে "
শুনে কাঁদিনি স্তব্ধ হয়ে গেছিলাম।
আকাশটা আসলে খুব ছোট
বুকের ভিতর কেউ ডানা ঝাপটে বলে আছি তো
কারণ মানুষ প্রথমে কবিতার প্রেমে পড়ে
তারপর কবি সত্বার , তারপর একসময় না জেনেই অন্য কারও
কেমন যেন চেনা মানুষটা অচেনা হয়ে যায় ।
.
হুবহু সেই চোখ অথচ আমি নেই
ব্যস্ত শহরের মাটিতে আমার অদৃশ্য স্বপ্নের নৌকো
অদৃশ্য নয় সব অদৃষ্ট
হেমন্তের আকাশ কি ফিরিয়ে দেয় সব কিছু যেমন ধরো একলা নিজেকে ?
মানুষের জীবনে এমন কিছু সম্পর্ক আছে
যেগুলো শুরু হয় কোনো ঘোষণা ছাড়াই
প্রথম দিকে সেগুলিকে বন্ধুত্ব বলেই মনে হয়
অথচ ভিতরে ভিতরে অদৃশ্য শিকড় কখন যেন মাটির গভীরে পৌঁছোয়
"তুমি কেমন আছো চলন্তিকা ?"
ছোট্ট একটা প্রশ্ন হামিং বার্ড হয়ে ছটফট করে
বন্ধ খাঁচার বাইরে আপ্রাণ মুক্তি খুঁজতে থাকে
অথচ দমবন্ধ লাগে আর তখন বুকের রিংটোন লালন গায়
" খাঁচার ভিতর অচিন পাখি কেমনে আসে যায়। "
.
খাঁচা
,,,, ঋষি
Saturday, May 30, 2026
ঈশ্বর এবং আমার মৃত মুখগুলো
ঈশ্বর এবং আমার মৃত মুখগুলো
ঋষি
দূরে কোথাও ,
চিৎকারগুলো পুরোপুরি গাছ হয়ে গেছে গাছের শিকড়গুলো জীবনের আরো ভিতরে আরো ভিতরে ক্রমশ পাথর। সদ্য সদ্য পাহাড় ডিঙিয়ে হাঁটতে পারাটা আকাশের ব...
-
আমার মুক্তি ............. ঋষি সচকিত ভঙ্গিমায় তোমার আঁচলে আমার বিশ্বাস বাস করে। কোনো উড়ন্ত বিহঙ্গের মতো তোমার দৃপ্ত দৃষ্টিতে আমার মুক...
-
বৌদি তোমার জন্য .... ঋষি ==================================================== তোমাকে চিনি আমি বৌদি ঠিক আমার বাড়ির উল্টোদিকে ছাদে তুমি স...
-
মুখাগ্নির মন্ত্র ... ঋষি . এক শতাব্দী নিজস্ব অন্ধকারে লুকিয়ে থেকেছি এক শতাব্দী লাট খেয়ে পরে থাকা মৃতদেহ কুড়িয়েছি কুড়িয়েছি ভনভন পচে যাও...

