Friday, October 2, 2026

দূরে কোথাও ,

চিৎকারগুলো পুরোপুরি গাছ হয়ে গেছে
গাছের শিকড়গুলো জীবনের আরো ভিতরে 
আরো ভিতরে 
ক্রমশ পাথর।
সদ্য সদ্য পাহাড় ডিঙিয়ে হাঁটতে পারাটা 
আকাশের বুকে পা দিয়ে হাঁটাটা 
নিজের কাছে নিজের কৈফত। 
.
একদিন দেশলাই কাঠি দিয়ে এই শহরটাকে জ্বালিয়ে দেবো 
একদিন কেরোসিন তেলে ভিজিয়ে মনের ঘরগুলো পুড়িয়ে দেবো ।
একদিন রাস্তায় দাঁড়িয়ে আমি নিজের প্রতি চিৎকার করে নিজেকেই গালাগাল দেবো,
হারানো কথোপকথন, হারানো মুহূর্ত 
হারানো আমি তুমি আর বাদামের ঠোঙা। 
শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের কবিতা থেকে বাঁচিয়ে নেবো মেটোফরমেশন।
.
তারপর 
তারপর আমি নেই 
তারপর তুমি নেই 
তারপর আমরা কোথাও নেই
শুধু হৃদয় জুড়ে  ছাতিম ফুলের গন্ধে দূর থেকে শোনা যাবে
দূরে কোথাও ,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,দূরে দূরে।
এ যেন এক প্রতিধ্বনি ,এ কেমন পরিবর্তন ।
শুধু শব্দ পেরিয়ে অজস্র প্রতিশ্রুতির পাহাড় 
হঠাৎ কেন বদলে যাওয়া 
হঠাৎ কেন আসন্ন শরতের দু এক ফোঁটা বৃষ্টি,
আমি তো ভিজতেই চেয়েছিলাম 
কিন্তু এই শহরটা হঠাৎ কেন দুমড়ে মুচড়ে গলার কাছে আটকে গেলো।
.
দূরে কোথাও  
ঋষি।


Wednesday, September 30, 2026

আমি তোমাকেই ভালোবাসি

জানো তো, আমার কিছু ভালো লাগছে না 
ভালো না লাগলে কি করা যাবে বলো ?
কিন্তু আমি তো তোমাকেই ভালবাসি 
কিন্তু সংসার 
কিন্তু কাজের মেয়ে কোনদিন আসে কোনদিন আসে না 
কিন্তু সন্তানের পড়া , ওনাকে অফিস পাঠাতে হয় 
কি করবো বলো ?
তার উপর আমার শরীরটাও ভালো নেই।
.
জানো তো, আমার তোমার সঙ্গে কথা বলতে ইচ্ছে হয়
ইচ্ছে হলেই হল ? কি করা যাবে বলো
আমার ফ্যামিলি কে টাইম দিতে হয়,
আমার সন্তানকে সময় দিতে হয় 
আমার নিজেরও একটা স্পেস আছে 
সন্তানকে স্কুল থেকে আনা , উনি অফিস থেকে এলে চা 
কি করবো বলো ?
কিন্তু আমি তো তোমাকেই ভালোবাসি।
.
জানো তো,আজ কত দিন তোমার সঙ্গে দেখা হয়নি 
আচ্ছা বলোতো, এতকিছু সামলে যখন তখন দেখা করা যায় 
সন্তানের পরীক্ষায় এসে পড়েছে ,তারও শরীরটা ভালো না ইদানিং 
সংসারে খরচা বাড়ছে, রান্নার মেয়েটাকে ছাড়িয়ে দেবো 
ভাবছি নিজেই রান্না করবো
কিন্তু আমি তো তোমাকেই ভালোবাসি।
.
হ্যালো, হ্যালো শোনো না
আরেকটু কথা বলো প্লিজ 
রাত জেগে কথা বললে শরীর আমার খারাপ হয় 
তাছাড়া ইদানিং উনি সকালে আমাকে আর সন্তানকে নিয়ে মর্নিং ওয়াকে যাচ্ছেন 
তুমি না বুঝলে কে বুঝবে বলো ?
কিন্তু আমি তো তোমাকেই ভালোবাসি বলো।
.
আমার আর ভালো লাগছে না 
তুমি এই দু নৌকায় পা দিয়ে আর কতদিন চলবে ?
আচ্ছা তুমি বলো সম্পর্কের শুরুতে কি এমন কথা হয়েছিল ?
তাছাড়া আমি মেয়ে মানুষ, 
মেয়েদের একটা সমাজ আছে, পাযে শৃঙ্খল।
এসব কথা বাদ দাও এখন
অনেক রাত হয়ে গেল কাল সকালে উঠতে হবে 
উনি যখন অফিসে যান ,সন্তান যখন স্কুলে থাকে 
তখন কথা বলো ,
রাত জেগে কথা বললে উনি বিরক্ত হন। 
.
আমি কি করবো ? আমাকে বলে দাও 
আর কতদিন অপেক্ষা ?
তুমি তো জানো
আমি তো তোমাকেই ভালোবাসি 
কিন্তু তোমাকেও তো বুঝতে হবে আমি অন্য লোকের বউ।
.
আমি তোমাকেই ভালোবাসি 
ঋষি




মাংসের দোকান


যারা ঘুমোতে চায় তারা ঘুমিয়ে পড়ে

যারা বাঁচতে চায় ,তারা ভিড় করে

মাংসের দোকানে।

আসলে মানুষ—
এই শব্দটিও একদিন সৌখিন আলমারির ভিতর
সাজানো শোপিস হয়ে যাবে।

আমরা ভাবি
আমরা বেঁচে আছি।

অথচ বুকের ভিতর থেকে রক্ত, মাংস, স্বপ্ন

এক এক করে খুবলে নিয়ে
আমরাই ঝুলে থাকি
লোহার হুকে মাংসের দোকানে।

রাত পৌনে দুটো কয়েক পেগের পর

মশারা ঘরের ভিতর

নিজেদের স্বাধীনতা ঘোষণা করে।

ঘুমন্ত শরীরটির দিকে তাকিয়ে
কোনও নেশা আসে না আর।

নেশা—
যা ছিল,
তা ফুরিয়েছে বহুদিন।

এখন AI-এর যুগ।

সবকিছুই
আরও নিখুঁত,
আরও পরিচ্ছন্ন,
আরও সফিস্টিকেটেড।

শুধু মানুষ শব্দটা  ক্রমশ শরীর হয়ে যাচ্ছে।

চাহিদা অনুযায়ী
কাটা, ছাঁটা, সাজানো—
মাংসের দোকানের  ভিতর একটি নিখুঁত প্রদর্শনী।

আমরা নিজেদের মিথ্যে বলি।
বলি—
আমরা ভালোবাসি।

কিন্তু ভালোবাসা কোথায়?

সে তো মাংসের দোকানে
লোহার হুকে গাঁথা
একটি দীর্ঘ অপেক্ষা।

তারপর—

কুকারে জল।

হলুদ।

নুন।

লঙ্কা।

তেল।

আগুন।

তারপর
সিদ্ধ হতে হতে
একটি রক্ত মাংসের শরীর
তার নাম হারায়।

তারপর রিসাইকেল।

তারপর পরিবেশন।

তারপর
কারও ক্ষুধা।

কী অদ্ভুত—

এটা মানুষের কবিতা নয়।

শহর থেকে মফস্বল,
মফস্বল থেকে ঘর,
ঘর থেকে রান্নাঘর—

সকল রক্ত-মাংসের শরীরে
একই অপেক্ষা।

কেউ ভালোবাসার জন্য অপেক্ষা করে,
কেউ মৃত্যুর,
কেউ স্পর্শের,
কেউ ক্ষুধার।

অথচ শেষ পর্যন্ত
উদ্‌যাপনের আরেক নামই—

আমার বাড়িতে মাংস রান্না হচ্ছে। 


মাংসের দোকান

ঋষি


Sunday, July 19, 2026

শুঁয়োপোকা

 রিংটোনে যা বাজে,

তা আসলে মাথার ভিতর শুঁয়োপোকার লিখে চলা কবিতা।

শুনলাম, বেশ কিছু জোঁক নাকি আবেদন জানিয়েছে
প্রজাপতি হতে চেয়ে।
ওদের আবেদনপত্রগুলো ছড়িয়ে পড়ছে
শুঁয়োপোকাদের অবশ্য এসব নিয়ে মাথাব্যথা নেই।

এদিকে এআই বিশ্লেষণে ধরা পড়েছে,
ময়ূরের নাচের সঙ্গে বর্ষার বৃষ্টির কোনো সম্পর্ক নেই
ওটা নেহাতই শেয়ার বাজারকে প্রভাবিত করার একটা চাল।

প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছে যে,
শুঁয়োপোকাদের প্রতিবাদ মিছিল করার
কোনো মৌলিক অধিকার নেই।
তাই এক ডালে পাঁচটির বেশি শুঁয়োপোকা থাকলে
সেটা বেআইনি বলে গণ্য হবে।

সূত্রের খবর অনুযায়ী,
রিংটোন থেকে ইদানীং শুঁয়োপোকাগুলো বেরিয়ে পড়ছে মানুষের মধ্যে,
তাই গাছের সংখ্যা কমে যাচ্ছে ক্রমশ।
বাড়ছে মানুষের গায়ে মানুষের জন্য চুলকানি।

দাবি উঠছে—
সংবিধানে লেখা হোক শুঁয়োপোকার নীতি।

এদিকে ক্রমশ আমার রিংটোন বাজছে।
মাথার ভিতর কে বোঝাতে চাইছে—
অপেক্ষা।

অথচ কবিতার শব্দগুলো
শুঁয়োপোকার মতো ক্রমশ এগোচ্ছে।

তবে কি প্রতিমুহূর্তে
এখন শুধু প্রজাপতি খোঁজা?

.

শুঁয়োপোকা

ঋষি 


কল্পকের কল্পনা

 


কল্পককে আপনারা চেনেন 

আরে আমার বান্ধবীর কলমে জন্মানো লোকটা 

কল্পককে ওর ছেলে প্রায় ঠেঙায় 

নেশা করার টাকা সে বাবার কাছে পায় না বলে 

ওর হলুদ কালো স্ট্রাইপ দেওয়া সুতির পাঞ্জাবির পকেট ফুটো 

ঘাবড়াবেন না 

পকেটে টাকা না থাকলে পকেট ফুটো বলে লোকে। 

.

 হাউজিংয়ের রবীন্দ্র-নজরুল সন্ধ্যায় কল্পক চিফ গেস্ট 

কি পড়বে ,কি পড়বে 

পাঞ্জাবিটা কল্পনা কিনে দিয়েছিল ,

কল্পনা কে ?

আরে আমার কলমে তৈরী কল্পকের স্ত্রীর নাম । 

কল্পনা মরে গেছে দুবছর হল

সেবার ছেলেকে রি-হ্যাব থেকে নিয়ে এসে দেখেছিল,

কল্পনা আর নেই ।

.

প্রশ্ন করবেন নিশ্চয় কল্পনাকে মারলাম কেন 

আসলে নিজের ভিতর মাঝে মাঝে বড্ডো জিঘাংসা কাজ করে 

কল্পনা যেদিন মরে গেলো সেদিনও এই পাঞ্জাবিটা পরেছিল কল্পক 

সেই থেকে আজ অবধি পরে আছে। 

দিনে দিনে পাঞ্জাবিটা আরো উজ্জ্বল হয়ে উঠছে 

কিন্তু পাঞ্জাবির পকেটটা ফুটো 

কি আপনারা হাসছেন ,জানি আমার বান্ধবীও হাসছে 

কিন্তু কেউ বুঝতে পারছেনা আমার বান্ধবী ছাড়া 

পাঞ্জাবিটা আসলে কল্পকের বুকের কাছে ভাঁজ করে রাখা ডানা

একদিন কল্পক ঠিক  ওই ডানা মেলে উড়ে যাবে 

ছেলেটা পাগল হয়ে যাবে 

কিন্তু কল্পক 

উড়বে 

উড়বে 

        আকাশের কল্পনায়। 


কল্পকের কল্পনা 

... ঋষি

Wednesday, June 3, 2026

খাঁচা

 লাস্ট কল এই হল ...

পাশে এসে যে বসল ও মানে আমার চেনা অচেনা মানুষটা 

উড়োজাহাজ ছাড়বার আগের মুহূর্তে যেমন কোলাহল ,

সাত ,আট বছর হবে 

কার গলায় যেন শুনেছিলাম  "যা পাখা উড়তে দিলাম তোকে "

 শুনে কাঁদিনি স্তব্ধ হয়ে গেছিলাম। 

আকাশটা  আসলে খুব ছোট

বুকের ভিতর কেউ ডানা ঝাপটে বলে আছি তো 

কারণ মানুষ প্রথমে কবিতার প্রেমে পড়ে

তারপর কবি সত্বার , তারপর একসময় না জেনেই অন্য কারও

কেমন যেন চেনা মানুষটা অচেনা হয়ে যায় ।

.

হুবহু সেই  চোখ অথচ আমি নেই 

ব্যস্ত  শহরের মাটিতে আমার অদৃশ্য স্বপ্নের নৌকো 

অদৃশ্য নয় সব অদৃষ্ট 

হেমন্তের আকাশ কি ফিরিয়ে দেয় সব কিছু যেমন ধরো একলা নিজেকে ?

মানুষের জীবনে এমন কিছু সম্পর্ক আছে

যেগুলো শুরু হয় কোনো ঘোষণা ছাড়াই

প্রথম দিকে সেগুলিকে বন্ধুত্ব বলেই মনে হয়

 অথচ ভিতরে ভিতরে অদৃশ্য শিকড় কখন যেন মাটির গভীরে পৌঁছোয় 

"তুমি কেমন আছো চলন্তিকা ?"

ছোট্ট একটা প্রশ্ন হামিং বার্ড হয়ে ছটফট করে 

বন্ধ খাঁচার  বাইরে আপ্রাণ মুক্তি খুঁজতে থাকে 

অথচ  দমবন্ধ লাগে আর তখন বুকের রিংটোন লালন গায় 

" খাঁচার ভিতর অচিন পাখি কেমনে আসে যায়। " 

.

খাঁচা 

,,,, ঋষি 



Saturday, May 30, 2026

ঈশ্বর এবং আমার মৃত মুখগুলো




ঈশ্বরের সাথে বসেছিলাম চায়ের টেবিলে 
হঠাৎ দেখলাম উল্টোদিকের চেয়ারটা ফাঁকা 
হঠাৎ শুনলাম হাসির শব্দ ,তারপর অনুভব করলাম বুকে ব্যাথা 
তারপর দেখতে দেখতে বুকের অন্ধকার থেকে বেরিয়ে আসতে লাগলো কারা যেন 
শুনতে পেলাম ঈশ্বরের হাসির শব্দ। 
দেখলাম তারা সবাই আমাকে ঘিরে বসলো 
প্রত্যেকের মুখগুলো আমার মতো ,কিন্তু বড্ড সাদা ফ্যাকাশে 
বুঝলাম সব এরা মৃতদেহ । 
.চিনতে পারছিলাম আমার গত ও আগামীর  মুখগুলো 
শিশু ,যুবক ,বৃদ্ধ ,নারী ,পাথর ,ঘাস ,কবিতা 
যেন এক ক্ষুদ্র গ্যালাক্সীর মাঝে আমি। 
.
ওদের মধ্যে থেকে একজনের চোখে স্বপ্ন 
সে বললো আমি স্বপ্ন দেখেছিলাম ভালো মানুষ হবো ,কিন্তু ব্যর্থ 
একজন আবার বললো আমি অরণ্য হত চেয়েছিলাম ,কিন্তু ব্যর্থ 
একজন বললো আমি সমস্ত আয়না থেকে প্রতিচ্ছবি মুক্ত করতে চেয়েছিলাম 
কিন্তু দেখছি পৃথিবীতে মানুষের থেকে প্রতিচ্ছবি বেশি ,
একজন বললো আমি আকাশ হতে চেয়েছিলাম কিন্তু এখন তো বদ্ধ আকাশ। 
ওরা সবাই কথা বলতে লাগলো 
আমি বুঝতে পারলাম এরা সকলেই আসলে মৃত সম্ভবনাকে 
 অথবা এরা সবাই সেই  লুপ্ত হয়ে যাওয়া বয়ফ্রেন্ড, গার্লফ্রেন্ড, ফিলোজফিকাল গাইড বা লিভইন পার্টনার।
আমি বোকার মতো প্রশ্ন করলাম " আপনাদের শেষ ইচ্ছে কি ? '
হঠাৎ নীরবতা ,হঠাৎ শূন্যতা 
ভিতর থেকে অনুভব করলাম ঈশ্বর বলছেন  'বাস্তবতা। "
.
আমি চোখ খুললাম অবাক হলাম ,ম্যাজিক নাকি 
আমার চারপাশে কেউ নেই 
টেবিলে চায়ের কাপের তলানিতে কেমন শীতলতা 
আমি অনুভব করলাম কোনো গল্পই কখনও শেষ হয় না
গল্পগুলো  কেবল নিজের ভিতরে কোনো গভীরে লুকোনো মৃতদেহ 
কিন্তু মাঝে মাঝে তারাও সত্যি হওয়ার দাবী জানায়। 
.

ঈশ্বর এবং আমার মৃত মুখগুলো 
ঋষি 


 

দূরে কোথাও ,

চিৎকারগুলো পুরোপুরি গাছ হয়ে গেছে গাছের শিকড়গুলো জীবনের  আরো ভিতরে  আরো ভিতরে  ক্রমশ পাথর। সদ্য সদ্য পাহাড় ডিঙিয়ে হাঁটতে পারাটা  আকাশের ব...