Thursday, October 15, 2026

দুর্গোৎসব ২০২৬

সময় এসে পড়েছে 
নিরুত্তর যন্ত্রণার দাগগুলো ক্লোরোফিল শুন্য ফ্ল্যাশব্যাক ।
সময়ের শুকনো ঝরাপাতায় অসংখ্য বাতানুবাদ 
সময়ের ঝলমলে তেল রঙ, মায়ের মুখ 
ক্রমশ প্রকাশ্য 
আগমনী।
.
আবার একটা পুজো, নতুন রং, নতুন পোশাক 
গড়িয়াহাট, সন্তোষ মিত্রস্কয়ার ,বাদামতলা 
সিংহীপার্ক, কুমোরটুলি , টালাপার্ক সার্বজনীন 
চেনা নাম ,চেনা বদনাম 
শহরের ভিড়,ট্র্যাফিক জ্যাম ।
প্যান্ডেলের রিমেকি সুর আইগিরি নন্দিনী 
কিংবা পুরনো মেলোডি নতুন ধারা 
সবটাই সার্বজনীন 
শুধু তুমি শুধু ,তুমি ছাড়া।
.
তবু কেন অচেনা ব্যথা বুকের বাঁধন ছেঁড়া পাখি
আকাশের নিমিত্তে বিশ্বাস খুঁজে মরা 
তবু সেই রবি ঠাকুরের গান 
     " আমার মুক্তি আলোয় আলোয় "
তবু সেই ধ্রুপদী মোহাম্মদ রফি
 "পাখিটার বুকে যেন তীর মেরো না "
কোলাহল ,খুব কোলাহল বড্ড দমবন্ধ লাগছে ।
চলন্তিকা আজ আগুনের খোঁজে প্যান্ডেলের মাঝে 
চলন্তিকা আজ  সময়ের দোষে সময়ের মাঝে 
চলন্তিকা সমাজ কল্যাণে মায়া-ময়ী, স্নেহময়ী আগমনী 
আর আমি আর আমি আর কুড়ি বছর 
শুধু অপেক্ষার বুকে লিখে চলা পাখি 
সময়ের কবিতায় 
সার্বজনীন দুর্গোৎসব ২০২৬ এর শুভেচ্ছাতে
তোমাদের কাছে 
তোমাদের ভালবাসায়
কবি এবং সেই পাখি।
.
দুর্গোৎসব ২০২৬ 
ঋষি

Friday, October 2, 2026

দূরে কোথাও ,

চিৎকারগুলো পুরোপুরি গাছ হয়ে গেছে
গাছের শিকড়গুলো জীবনের আরো ভিতরে 
আরো ভিতরে 
ক্রমশ পাথর।
সদ্য সদ্য পাহাড় ডিঙিয়ে হাঁটতে পারাটা 
আকাশের বুকে পা দিয়ে হাঁটাটা 
নিজের কাছে নিজের কৈফত। 
.
একদিন দেশলাই কাঠি দিয়ে এই শহরটাকে জ্বালিয়ে দেবো 
একদিন কেরোসিন তেলে ভিজিয়ে মনের ঘরগুলো পুড়িয়ে দেবো ।
একদিন রাস্তায় দাঁড়িয়ে আমি নিজের প্রতি চিৎকার করে নিজেকেই গালাগাল দেবো,
হারানো কথোপকথন, হারানো মুহূর্ত 
হারানো আমি তুমি আর বাদামের ঠোঙা। 
শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের কবিতা থেকে বাঁচিয়ে নেবো মেটোফরমেশন।
.
তারপর 
তারপর আমি নেই 
তারপর তুমি নেই 
তারপর আমরা কোথাও নেই
শুধু হৃদয় জুড়ে  ছাতিম ফুলের গন্ধে দূর থেকে শোনা যাবে
দূরে কোথাও ,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,দূরে দূরে।
এ যেন এক প্রতিধ্বনি ,এ কেমন পরিবর্তন ।
শুধু শব্দ পেরিয়ে অজস্র প্রতিশ্রুতির পাহাড় 
হঠাৎ কেন বদলে যাওয়া 
হঠাৎ কেন আসন্ন শরতের দু এক ফোঁটা বৃষ্টি,
আমি তো ভিজতেই চেয়েছিলাম 
কিন্তু এই শহরটা হঠাৎ কেন দুমড়ে মুচড়ে গলার কাছে আটকে গেলো।
.
দূরে কোথাও  
ঋষি।


Wednesday, September 30, 2026

আমি তোমাকেই ভালোবাসি

জানো তো, আমার কিছু ভালো লাগছে না 
ভালো না লাগলে কি করা যাবে বলো ?
কিন্তু আমি তো তোমাকেই ভালবাসি 
কিন্তু সংসার 
কিন্তু কাজের মেয়ে কোনদিন আসে কোনদিন আসে না 
কিন্তু সন্তানের পড়া , ওনাকে অফিস পাঠাতে হয় 
কি করবো বলো ?
তার উপর আমার শরীরটাও ভালো নেই।
.
জানো তো, আমার তোমার সঙ্গে কথা বলতে ইচ্ছে হয়
ইচ্ছে হলেই হল ? কি করা যাবে বলো
আমার ফ্যামিলি কে টাইম দিতে হয়,
আমার সন্তানকে সময় দিতে হয় 
আমার নিজেরও একটা স্পেস আছে 
সন্তানকে স্কুল থেকে আনা , উনি অফিস থেকে এলে চা 
কি করবো বলো ?
কিন্তু আমি তো তোমাকেই ভালোবাসি।
.
জানো তো,আজ কত দিন তোমার সঙ্গে দেখা হয়নি 
আচ্ছা বলোতো, এতকিছু সামলে যখন তখন দেখা করা যায় 
সন্তানের পরীক্ষায় এসে পড়েছে ,তারও শরীরটা ভালো না ইদানিং 
সংসারে খরচা বাড়ছে, রান্নার মেয়েটাকে ছাড়িয়ে দেবো 
ভাবছি নিজেই রান্না করবো
কিন্তু আমি তো তোমাকেই ভালোবাসি।
.
হ্যালো, হ্যালো শোনো না
আরেকটু কথা বলো প্লিজ 
রাত জেগে কথা বললে শরীর আমার খারাপ হয় 
তাছাড়া ইদানিং উনি সকালে আমাকে আর সন্তানকে নিয়ে মর্নিং ওয়াকে যাচ্ছেন 
তুমি না বুঝলে কে বুঝবে বলো ?
কিন্তু আমি তো তোমাকেই ভালোবাসি বলো।
.
আমার আর ভালো লাগছে না 
তুমি এই দু নৌকায় পা দিয়ে আর কতদিন চলবে ?
আচ্ছা তুমি বলো সম্পর্কের শুরুতে কি এমন কথা হয়েছিল ?
তাছাড়া আমি মেয়ে মানুষ, 
মেয়েদের একটা সমাজ আছে, পাযে শৃঙ্খল।
এসব কথা বাদ দাও এখন
অনেক রাত হয়ে গেল কাল সকালে উঠতে হবে 
উনি যখন অফিসে যান ,সন্তান যখন স্কুলে থাকে 
তখন কথা বলো ,
রাত জেগে কথা বললে উনি বিরক্ত হন। 
.
আমি কি করবো ? আমাকে বলে দাও 
আর কতদিন অপেক্ষা ?
তুমি তো জানো
আমি তো তোমাকেই ভালোবাসি 
কিন্তু তোমাকেও তো বুঝতে হবে আমি অন্য লোকের বউ।
.
আমি তোমাকেই ভালোবাসি 
ঋষি




মাংসের দোকান


যারা ঘুমোতে চায় তারা ঘুমিয়ে পড়ে

যারা বাঁচতে চায় ,তারা ভিড় করে

মাংসের দোকানে।

আসলে মানুষ—
এই শব্দটিও একদিন সৌখিন আলমারির ভিতর
সাজানো শোপিস হয়ে যাবে।

আমরা ভাবি
আমরা বেঁচে আছি।

অথচ বুকের ভিতর থেকে রক্ত, মাংস, স্বপ্ন

এক এক করে খুবলে নিয়ে
আমরাই ঝুলে থাকি
লোহার হুকে মাংসের দোকানে।

রাত পৌনে দুটো কয়েক পেগের পর

মশারা ঘরের ভিতর

নিজেদের স্বাধীনতা ঘোষণা করে।

ঘুমন্ত শরীরটির দিকে তাকিয়ে
কোনও নেশা আসে না আর।

নেশা—
যা ছিল,
তা ফুরিয়েছে বহুদিন।

এখন AI-এর যুগ।

সবকিছুই
আরও নিখুঁত,
আরও পরিচ্ছন্ন,
আরও সফিস্টিকেটেড।

শুধু মানুষ শব্দটা  ক্রমশ শরীর হয়ে যাচ্ছে।

চাহিদা অনুযায়ী
কাটা, ছাঁটা, সাজানো—
মাংসের দোকানের  ভিতর একটি নিখুঁত প্রদর্শনী।

আমরা নিজেদের মিথ্যে বলি।
বলি—
আমরা ভালোবাসি।

কিন্তু ভালোবাসা কোথায়?

সে তো মাংসের দোকানে
লোহার হুকে গাঁথা
একটি দীর্ঘ অপেক্ষা।

তারপর—

কুকারে জল।

হলুদ।

নুন।

লঙ্কা।

তেল।

আগুন।

তারপর
সিদ্ধ হতে হতে
একটি রক্ত মাংসের শরীর
তার নাম হারায়।

তারপর রিসাইকেল।

তারপর পরিবেশন।

তারপর
কারও ক্ষুধা।

কী অদ্ভুত—

এটা মানুষের কবিতা নয়।

শহর থেকে মফস্বল,
মফস্বল থেকে ঘর,
ঘর থেকে রান্নাঘর—

সকল রক্ত-মাংসের শরীরে
একই অপেক্ষা।

কেউ ভালোবাসার জন্য অপেক্ষা করে,
কেউ মৃত্যুর,
কেউ স্পর্শের,
কেউ ক্ষুধার।

অথচ শেষ পর্যন্ত
উদ্‌যাপনের আরেক নামই—

আমার বাড়িতে মাংস রান্না হচ্ছে। 


মাংসের দোকান

ঋষি


Sunday, July 19, 2026

শুঁয়োপোকা

 রিংটোনে যা বাজে,

তা আসলে মাথার ভিতর শুঁয়োপোকার লিখে চলা কবিতা।

শুনলাম, বেশ কিছু জোঁক নাকি আবেদন জানিয়েছে
প্রজাপতি হতে চেয়ে।
ওদের আবেদনপত্রগুলো ছড়িয়ে পড়ছে
শুঁয়োপোকাদের অবশ্য এসব নিয়ে মাথাব্যথা নেই।

এদিকে এআই বিশ্লেষণে ধরা পড়েছে,
ময়ূরের নাচের সঙ্গে বর্ষার বৃষ্টির কোনো সম্পর্ক নেই
ওটা নেহাতই শেয়ার বাজারকে প্রভাবিত করার একটা চাল।

প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছে যে,
শুঁয়োপোকাদের প্রতিবাদ মিছিল করার
কোনো মৌলিক অধিকার নেই।
তাই এক ডালে পাঁচটির বেশি শুঁয়োপোকা থাকলে
সেটা বেআইনি বলে গণ্য হবে।

সূত্রের খবর অনুযায়ী,
রিংটোন থেকে ইদানীং শুঁয়োপোকাগুলো বেরিয়ে পড়ছে মানুষের মধ্যে,
তাই গাছের সংখ্যা কমে যাচ্ছে ক্রমশ।
বাড়ছে মানুষের গায়ে মানুষের জন্য চুলকানি।

দাবি উঠছে—
সংবিধানে লেখা হোক শুঁয়োপোকার নীতি।

এদিকে ক্রমশ আমার রিংটোন বাজছে।
মাথার ভিতর কে বোঝাতে চাইছে—
অপেক্ষা।

অথচ কবিতার শব্দগুলো
শুঁয়োপোকার মতো ক্রমশ এগোচ্ছে।

তবে কি প্রতিমুহূর্তে
এখন শুধু প্রজাপতি খোঁজা?

.

শুঁয়োপোকা

ঋষি 


কল্পকের কল্পনা

 


কল্পককে আপনারা চেনেন 

আরে আমার বান্ধবীর কলমে জন্মানো লোকটা 

কল্পককে ওর ছেলে প্রায় ঠেঙায় 

নেশা করার টাকা সে বাবার কাছে পায় না বলে 

ওর হলুদ কালো স্ট্রাইপ দেওয়া সুতির পাঞ্জাবির পকেট ফুটো 

ঘাবড়াবেন না 

পকেটে টাকা না থাকলে পকেট ফুটো বলে লোকে। 

.

 হাউজিংয়ের রবীন্দ্র-নজরুল সন্ধ্যায় কল্পক চিফ গেস্ট 

কি পড়বে ,কি পড়বে 

পাঞ্জাবিটা কল্পনা কিনে দিয়েছিল ,

কল্পনা কে ?

আরে আমার কলমে তৈরী কল্পকের স্ত্রীর নাম । 

কল্পনা মরে গেছে দুবছর হল

সেবার ছেলেকে রি-হ্যাব থেকে নিয়ে এসে দেখেছিল,

কল্পনা আর নেই ।

.

প্রশ্ন করবেন নিশ্চয় কল্পনাকে মারলাম কেন 

আসলে নিজের ভিতর মাঝে মাঝে বড্ডো জিঘাংসা কাজ করে 

কল্পনা যেদিন মরে গেলো সেদিনও এই পাঞ্জাবিটা পরেছিল কল্পক 

সেই থেকে আজ অবধি পরে আছে। 

দিনে দিনে পাঞ্জাবিটা আরো উজ্জ্বল হয়ে উঠছে 

কিন্তু পাঞ্জাবির পকেটটা ফুটো 

কি আপনারা হাসছেন ,জানি আমার বান্ধবীও হাসছে 

কিন্তু কেউ বুঝতে পারছেনা আমার বান্ধবী ছাড়া 

পাঞ্জাবিটা আসলে কল্পকের বুকের কাছে ভাঁজ করে রাখা ডানা

একদিন কল্পক ঠিক  ওই ডানা মেলে উড়ে যাবে 

ছেলেটা পাগল হয়ে যাবে 

কিন্তু কল্পক 

উড়বে 

উড়বে 

        আকাশের কল্পনায়। 


কল্পকের কল্পনা 

... ঋষি

Wednesday, June 3, 2026

খাঁচা

 লাস্ট কল এই হল ...

পাশে এসে যে বসল ও মানে আমার চেনা অচেনা মানুষটা 

উড়োজাহাজ ছাড়বার আগের মুহূর্তে যেমন কোলাহল ,

সাত ,আট বছর হবে 

কার গলায় যেন শুনেছিলাম  "যা পাখা উড়তে দিলাম তোকে "

 শুনে কাঁদিনি স্তব্ধ হয়ে গেছিলাম। 

আকাশটা  আসলে খুব ছোট

বুকের ভিতর কেউ ডানা ঝাপটে বলে আছি তো 

কারণ মানুষ প্রথমে কবিতার প্রেমে পড়ে

তারপর কবি সত্বার , তারপর একসময় না জেনেই অন্য কারও

কেমন যেন চেনা মানুষটা অচেনা হয়ে যায় ।

.

হুবহু সেই  চোখ অথচ আমি নেই 

ব্যস্ত  শহরের মাটিতে আমার অদৃশ্য স্বপ্নের নৌকো 

অদৃশ্য নয় সব অদৃষ্ট 

হেমন্তের আকাশ কি ফিরিয়ে দেয় সব কিছু যেমন ধরো একলা নিজেকে ?

মানুষের জীবনে এমন কিছু সম্পর্ক আছে

যেগুলো শুরু হয় কোনো ঘোষণা ছাড়াই

প্রথম দিকে সেগুলিকে বন্ধুত্ব বলেই মনে হয়

 অথচ ভিতরে ভিতরে অদৃশ্য শিকড় কখন যেন মাটির গভীরে পৌঁছোয় 

"তুমি কেমন আছো চলন্তিকা ?"

ছোট্ট একটা প্রশ্ন হামিং বার্ড হয়ে ছটফট করে 

বন্ধ খাঁচার  বাইরে আপ্রাণ মুক্তি খুঁজতে থাকে 

অথচ  দমবন্ধ লাগে আর তখন বুকের রিংটোন লালন গায় 

" খাঁচার ভিতর অচিন পাখি কেমনে আসে যায়। " 

.

খাঁচা 

,,,, ঋষি 



Saturday, May 30, 2026

ঈশ্বর এবং আমার মৃত মুখগুলো




ঈশ্বরের সাথে বসেছিলাম চায়ের টেবিলে 
হঠাৎ দেখলাম উল্টোদিকের চেয়ারটা ফাঁকা 
হঠাৎ শুনলাম হাসির শব্দ ,তারপর অনুভব করলাম বুকে ব্যাথা 
তারপর দেখতে দেখতে বুকের অন্ধকার থেকে বেরিয়ে আসতে লাগলো কারা যেন 
শুনতে পেলাম ঈশ্বরের হাসির শব্দ। 
দেখলাম তারা সবাই আমাকে ঘিরে বসলো 
প্রত্যেকের মুখগুলো আমার মতো ,কিন্তু বড্ড সাদা ফ্যাকাশে 
বুঝলাম সব এরা মৃতদেহ । 
.চিনতে পারছিলাম আমার গত ও আগামীর  মুখগুলো 
শিশু ,যুবক ,বৃদ্ধ ,নারী ,পাথর ,ঘাস ,কবিতা 
যেন এক ক্ষুদ্র গ্যালাক্সীর মাঝে আমি। 
.
ওদের মধ্যে থেকে একজনের চোখে স্বপ্ন 
সে বললো আমি স্বপ্ন দেখেছিলাম ভালো মানুষ হবো ,কিন্তু ব্যর্থ 
একজন আবার বললো আমি অরণ্য হত চেয়েছিলাম ,কিন্তু ব্যর্থ 
একজন বললো আমি সমস্ত আয়না থেকে প্রতিচ্ছবি মুক্ত করতে চেয়েছিলাম 
কিন্তু দেখছি পৃথিবীতে মানুষের থেকে প্রতিচ্ছবি বেশি ,
একজন বললো আমি আকাশ হতে চেয়েছিলাম কিন্তু এখন তো বদ্ধ আকাশ। 
ওরা সবাই কথা বলতে লাগলো 
আমি বুঝতে পারলাম এরা সকলেই আসলে মৃত সম্ভবনাকে 
 অথবা এরা সবাই সেই  লুপ্ত হয়ে যাওয়া বয়ফ্রেন্ড, গার্লফ্রেন্ড, ফিলোজফিকাল গাইড বা লিভইন পার্টনার।
আমি বোকার মতো প্রশ্ন করলাম " আপনাদের শেষ ইচ্ছে কি ? '
হঠাৎ নীরবতা ,হঠাৎ শূন্যতা 
ভিতর থেকে অনুভব করলাম ঈশ্বর বলছেন  'বাস্তবতা। "
.
আমি চোখ খুললাম অবাক হলাম ,ম্যাজিক নাকি 
আমার চারপাশে কেউ নেই 
টেবিলে চায়ের কাপের তলানিতে কেমন শীতলতা 
আমি অনুভব করলাম কোনো গল্পই কখনও শেষ হয় না
গল্পগুলো  কেবল নিজের ভিতরে কোনো গভীরে লুকোনো মৃতদেহ 
কিন্তু মাঝে মাঝে তারাও সত্যি হওয়ার দাবী জানায়। 
.

ঈশ্বর এবং আমার মৃত মুখগুলো 
ঋষি 


 

Saturday, May 9, 2026

সোনার বাংলা

রাজা আসে রাজা যায় 
কবি হাসে 
দিন বদলায়, দিন বদলাবেই দিনান্তে।
কবি কাঁদে 
সূর্যাস্তের পর নতুন দিনের অপেক্ষা 
সূর্যোদয়ের পর এ বাংলাকে সূর্য পোড়ায় নিয়মিত।
.
প্রশ্ন করে তারা
প্রেম কই, মানুষ কই, কোথায় মানুষের হাসি?
লজ্জা করে শুনতে 
পার্কস্ট্রিট থেকে সন্দেশখালী তারপর আরজিকর
শুধু শব্দ, শুধু শব্দ 
কবির কলম থেকে একাডেমি 
সারা বাংলার স্কুল, কলেজ, হাসপাতালে হেঁটে চলে খেঁকশিয়াল 
লজ্জা এই মানুষের বেঁচে থাকার।
রাজা চোর, রাজা বদলায় 
পিসি, ভাগ্নে, দাদারা খায় মানুষের রক্ত  
কবি ঈশ্বর, কবি নশ্বর এক ইতিহাস।
.
ভোটবাক্সে জমা হয় মানুষের বিশ্বাসের দলিল 
রাজা আসে, রাজা যায়
অপেক্ষা সুদিনের।
দুঃখ যেন পোষা পাখি মানুষের ঘরে
মানুষের হাঁড়িতে নিয়মিত ফোটে চোখের জল
আর কয়েক মুঠো আশা।
দিন বদলাবে , বদলাবে দিন মানুষের 
কলকারখানা , রাস্তা হবে, আলো, জল আসবে
আসবে শিক্ষা, উন্নত স্বাস্থ্য, মানুষের ঘরে দুমুঠো স্বপ্ন 
সত্যি হবে, সত্যি হবে কবি থেকে কবিতা
সৎ মানুষের পকেটে তখন সন্তানের ভবিষ্যৎ।

কবি বলেন রাজাকে আর না, অনেক হলো 
বিরিয়ানির ঘুষে কিনে নেওয়া মানুষের ঘুম 
এবার তুমি সত্যি হও 
এবার তুমি যোগ্য হও,
এবার তুমি কবর খুঁড়ে তুলে আনো সত্যির মৃতদেহ
ভীত মানুষ একটু সোচ্চারে বলুক আমরা বেঁচে,
এবার তুমি যোগ্যতার হাতে তুলে নেও সোনার বাংলা 
মানুষ আস্বস্ত হোক ওরা যোগ্য কেউ ভীখিরি নয় 
এবার তুমি শান্তির ঘুম দেও মানুষকে 
আগামীর সন্তানকে দেও সোনার বাংলা।
.
সোনার বাংলা 
... ঋষি 

Wednesday, April 29, 2026

বৃষ্টি ও তুমি



বৃষ্টি হলেই এ এক অদ্ভুত 

কেন যে পৃথিবীর সমস্ত কবিতারা এসে জমা হয় শহরের জমা জলে ,

জাগতিক ভাবনাগুলিকে পলিময় নদীতে ফেলে দিলেই মনে হয় তোমার কথা। 

সেই পেয়ারা গাছ, অশ্বত্থামা হত অথবা কুয়োর উপর পেতে রাখা মশারি

কেন যে হঠাৎ বৃষ্টিতে ভিজে ওঠে স্মৃতিগুলো 

স্বপ্নময় হয়ে ওঠো তুমি। 

.

 মনে পড়ে  তোমার কথা

তোমার স্পর্শগুলো ছুঁয়ে যায় কবিতা থেকে কলমের শব্দে 

শ্যামবাজার থেকে গড়িয়াহাট হয়ে রবীন্দ্রসদন মেট্রোর  সিঁড়িতে 

কাগজের ঠোঙায় বাদাম ,ফুটপাতে এক কাপ চায়ে , 

খুব অনাহুত এক বৃষ্টির সন্ধ্যায় গড়ের মাঠের ঘাসে 

আমি খুঁজে পাই তোমাকে ,আমাকে 

এক অনবদ্য কবিতায়। 

.

কিছুই তো হলো না আমাদের 

সেই সব ভাবনার মাঝে স্বপ্নের মতো তুমি 

 এক নিঃশ্বাসে সরোবরের নীচ থেকে তুলে আনা প্রবাল

এক স্মৃতির দৌড়ে পৌঁছে যাওয়া কাশবন,

অথবা ধুনী জ্বালিয়ে বসে থাকা সাধুর গল্প শুনতে শুনতে বিবাগী।  

কি যে হয় বৃষ্টি এলে ?

উথালপাথাল ক্লিন্ন শহরের উপকণ্ঠে এক প্রাচীন কবিতা 

তোমার কি  এমন হয় ?

তুমি সরীসৃপের মতো নির্মোক উন্মোচন করে বারবার জিতেন্দ্রিয় হয়ে ওঠো 

আমি কবিতার শব্দে বিভোর এক রাত্রি 

এক বুক শহরের রাস্তায় তোমার সাথে ভিজি 

ভেজে আমার কবিতারা  

বুকের শূন্যতায় একমুঠো বৃষ্টির জল ছটফট করে। 

.

বৃষ্টি ও তুমি

.... ঋষি 


 

Wednesday, April 15, 2026

শুভেচ্ছাবার্তা

বছরের প্রথম দিনে তোমার স্বপ্নে 
তোমার ঘুমের ভিতর এই প্রথম  আমি ছিলাম না 
ছিল এক সোনালী পরিকল্পনার সংসার ,ছিল ঠাকুরঘর ,
ছিল তোমার আঙিনায় ভরা নতুন সোনালী ধান  
শুধু এই প্রথমবার একমাত্র আমি ছিলাম না ।  
.
বিশ্বাস করো তোমার এই ভালো থাকায় 
আমার আর দুঃখ নেই 
বিশ্বাস করো তোমার এই সরতে থাকায় 
আমার দুঃখ নেই 
দুঃখ শুধু কবিতার শব্দে সময়ের দলিলে হারানো দিনের
দুঃখ শুধু বদলানো কবিতার পাতায় বানান ভূলের।
আজ তোমার রান্না ঘরে হাঁড়িতে আগামীর স্বপ্ন 
তোমার কড়াতে আজ নতুনের রান্নার নিমন্ত্রণ  
এতেও আমার দুঃখ হওয়ার কিছু নেই 
কারণ দুঃখ একটা শব্দ 
বড্ড অবহেলার।
.
জানি এই কবিতার কখনো সূর্য উঠবে না
জানি এই কবিতা কখনো কেউ ছাপবে না কোনো পত্রিকায় 
তবুও এই কবিতা শুভেচ্ছাবার্তার 
তোমার নতুন জন্মের ,তোমার ভালো থাকার 
এক নতুন তোমাকে আবিষ্কারের ।
.
তা 
ই 
তো
      জানানো 
ভালো থেকো তুমি,ভালো থাকুক তোমার আপনজন 
ভালো থাকুক এই পৃথিবীর সমস্ত পাখি, নদী, ফুল 
শুধু একটা কথা ভুলো না যেন 
আমার মৃত্যুর স্মরণ যাত্রায় তুমি একটু সময় করে 
এসো কিন্তু 
না হলে যে মরেও যে আমি দুঃখী হবো ।
.
শুভেচ্ছাবার্তা 
... ঋষি 

Saturday, March 7, 2026

ব্যক্তিগত

ক্রমশঃ পিছিয়ে যাচ্ছে টুকরো টুকরো বাঁক
বাঁক পেরিয়ে ইদানীং  দেখার কিছু পরিবর্তন হয়েছে
ডাইমেনশনে ভেঙে যাচ্ছে সময়
রাত হলেই ইদানীং দরজায় ডোরবেল বাজে
এক সময় জোয়ার ভাঁটা- একটি নারী একটি পুরুষ
অসামান্য গল্পটা
তবে সময়ের গল্পে তারাও যে নাগরিক। 
.
কিছু পুরোনো দৃশ্য নোট করছিলাম
ফোকাসের বাইরে চলে যাচ্ছে ক্রমশ চেনা হাসি
ফলত পাঁচমিশেল এপ্রিলের  মাইক্রো সিস্টেমে
গলা শুকিয়ে ওঠে বারংবার
ওথেলো থেকে কে যেন ষড়যন্ত্র করছে, বোকা ভাবছে
অথচ একটা সত্যির দরকার ছিল
সবাইকেতো আর ডেসডিমোনা ভাবা যায় না। 
.
সীমানার  বাইরে পৌঁছে যাওযা
বিরল জ্যামিতির মত গোপন তার তথ্যপ্রমান
লুকিয়ে ফেলা অনবদ্য স্বপ্নের উপর দাঁড়িয়ে 
নিজেকে চিনতে পারার সিম্বলগুলো বড্ড সাধারণ। 
একটা রুল টানা খাতা
তার উপর লেখা আমি না সন্ন্যাসী না সংসারী
অতচ তোমার অহংকার জুড়ে মিথ্যে সংসার
যেখানে সাজানো কার্নিভালের মতো জোকারের হাসি
জানি সত্যি সবাই বলতে পারে না। 
নিঃসংগতায় ল্যাম্পপোস্ট হানা দিলেই ত্রিকোনমিতি 
ঘন ও চকচকে সত্যির মতো সাজানো নেশা
স্বপ্নে পুরু হয়ে যাচ্ছে আলোর বিম
শুনতে পাচ্ছি, বুঝতে পারছি, কষ্ট হছে না আর
তবে বাঁচার কি দরকার ? 
জানি পুরোটাই ব্যক্তিগত অথচ সাজানো।
.
ব্যক্তিগত
... ঋষি 

Tuesday, February 3, 2026

প্রবণতা

অন্ধকার জুড়ে অদ্ভুত ভাবে দীর্ঘ আলো পড়ছিল কুয়াশায় আলো পড়লে রাস্তা মনে হয়
এই রাস্তা ধরে বেশ কিছুদিন আগেও আমি হেঁটেছি
হেঁটেছি একা, তারপর গান হয়ে গেছি।
তারপর কখন যেন নারী শরীরের সর্বত্র ঘেঁটে
নিজেকে মনে হলো অসহায়
তারপর আমি কুয়াশার ফাঁকে এঁকে দিয়েছি বিষন্নতা
আলো এখানে সরলরেখা
আমিও তো একা। 
 
সমস্ত আলোচনার বিষয় নিয়ে সময়ের কৃপনতা
মানুষ তো – অর্থবিদ্যা পড়েছে
মানুষ তো - মাথার ঘিলুতে বিশ্বাস করে না
মানুষ তো - রম্য রচনা পড়ে
এবং
অথবা এবং
মানুষ তো- স্বার্থপর ঈশ্বর। 

২০২৩ মে মাস পর্যন্ত আমি একজন নারীকে  চিনতাম সে নীল রঙ  ভালোবাসতো
অথচ তার  সমস্ত পাঠ্যবইতে ছিল অন্ধকার
আজ সে এক অন্য বাঁচার প্রবণতা।
এরপরও অন্ধকারে আলো পড়ছে
আলো নেমে আসছে - পথ
জল-ডিঙি-  ডিঙি-বাঘ - ডাঙা - কুমীর
জলের রাস্তা। 

হয়তো সময়ের জন্য দরজা খোলা ছিল - ভ্রম
হয়তো সংসার কাব্যের পাতাগুলো - ভ্রম
হয়তো ভালোবাসা  সূত্র মেনে নেমে আসে চুমু - ভ্রম
হয়তো কাছে থাকা, ভালো রাখা - ভ্রম।
হয়তো
হয়তো 
হয়তো
একলা ছেলেটা অন্ধকারে আলোর রাস্তায় হারালো
.
হয়তো….......…..
.
প্রবণতা
... ঋষি 

Thursday, January 29, 2026

বইমেলা

একটার পর একটা সিগারেট জ্বলতে থাকে
বেআইনি কিছু আফসোস বইমেলার মাঠে
ধুলোর পাহাড় থেকে কুড়িয়ে নি জ্ঞানের শব্দকোষ
নতুন পাতার গন্ধ, নতুন ভবিষ্যত
হঠাৎ ক্লান্ত লাগে ভীষণ 
হঠাৎ বইয়ের পাতাগুলো জ্বলতে থাকে 
আগুন দামে। 
.
হিরোশিমা থেকে এগিয়ে আসে জ্বলন্ত রোগ
তুমি মুখ ফিরিয়ে নেও
সমুদ্র শাসন করার দক্ষতা নিয়ে তুমি গৃহস্থ
আমি নিতান্ত সাধারণ, 
বুকের বাদিকে হৃদপিন্ডে
লেগে থাকা রোগ, ক্লান্ত হয়ে যাই বারংবার  
ফিরে আসি কিছু কবিতার পাতা বুকে নিয়ে 
শুধুই তোমার কাছে। 
.
খিদে পায় অকারণ 
খেতে গেলে খাওয়া ফুরিয়ে যায় 
গত বইমেলায় যখন আমি মিথ্যে হয়ে গেছি
পুঁতে এসেছি নিজেকে পুরনো অভ্যাসে
কিছু কথা, কিছু প্রতিশ্রুতি। 
একটার পর একটা সিগারেট জ্বলতে থাকে
বেআইনি কিছু আফসোস বইমেলার মাঠে
কবিতার শব্দে তুমি সত্যি হয়ে বাঁচো
আর কবিতার শহরে তুমি শরীর হয়ে যাও
তারপর সাধারণ কিছু গুলিগোলা,বোমা বর্ষন 
তুমি ফুরিয়ে যাও বইমেলা,
আমি ক্লান্ত বিকেল টেনে ফিরে আসি নিজের কাছে
তারপর আবার সেই পুরনো গল্প
বইমেলা গেছিলাম 
কিন্তু কবিতা আর যুদ্ধ দুজনেই বর্তমান। 
.
বইমেলা
... ঋষি 

Tuesday, January 27, 2026

মানুষ ফুরোয়

অনবদ্যতা আহরণ করে চলেছি 
করে চলেছি নিজের ভিতর নিজেকেই ঘৃণা ক্রমশ 
সারা পৃথিবী চায়ের কাপের অপেক্ষা করে 
তখন আমার কফি কাপে আমি একা 
এ যেন স্মরণীয় প্রেম নিজের ভিতর। 
.
শক্তি বাবু যখন অন্ধকার ,অন্ধকার বলে চিৎকার করেছেন 
তখনও এই শহরের সরণীগুলোতে আলোর বৃষ্টি ছিল 
প্রেম ফুরোয় না বলে 
মাছের শরীরের প্রেম ধান সিঁড়ি পেরিয়ে শুধু কবিতাতে 
তখনও কি জীবনানন্দ জানতো 
প্রেম ফুরোয় না 
মানুষ ফুরোয়। 
.
কর্তব্য দায়িত্ব নিষ্ঠা এক কথায় ওয়াডকলারের শহরবাসী প্রত্যেকে 
নিজের ছায়ার সাথে নিজেরাই সন্ধি করে 
বন্দি করে নিজেকে অদৃশ্য এক মায়ায় 
অনবরত মৃত্যুতে। 
আমি মৃত্যুর কবিতা লিখবো না 
আজ শুধু কলমের নিবে কলঙ্কিত ভালোবাসা লেখা হোক। 
.
মানুষ ফুরোয় 
... ঋষি

দুর্গোৎসব ২০২৬

সময় এসে পড়েছে  নিরুত্তর যন্ত্রণার দাগগুলো ক্লোরোফিল শুন্য ফ্ল্যাশব্যাক । সময়ের শুকনো ঝরাপাতায় অসংখ্য বাতানুবাদ  সময়ের ঝলমলে তেল রঙ, মায...