যারা ঘুমোতে চায় তারা ঘুমিয়ে পড়ে
যারা বাঁচতে চায় ,তারা ভিড় করে
মাংসের দোকানে।
আসলে মানুষ—
এই শব্দটিও একদিন সৌখিন আলমারির ভিতর
সাজানো শোপিস হয়ে যাবে।
আমরা ভাবি
আমরা বেঁচে আছি।
অথচ বুকের ভিতর থেকে রক্ত, মাংস, স্বপ্ন
এক এক করে খুবলে নিয়ে
আমরাই ঝুলে থাকি
লোহার হুকে মাংসের দোকানে।
রাত পৌনে দুটো কয়েক পেগের পর
মশারা ঘরের ভিতর
নিজেদের স্বাধীনতা ঘোষণা করে।
ঘুমন্ত শরীরটির দিকে তাকিয়ে
কোনও নেশা আসে না আর।
নেশা—
যা ছিল,
তা ফুরিয়েছে বহুদিন।
এখন AI-এর যুগ।
সবকিছুই
আরও নিখুঁত,
আরও পরিচ্ছন্ন,
আরও সফিস্টিকেটেড।
শুধু মানুষ শব্দটা ক্রমশ শরীর হয়ে যাচ্ছে।
চাহিদা অনুযায়ী
কাটা, ছাঁটা, সাজানো—
মাংসের দোকানের ভিতর একটি নিখুঁত প্রদর্শনী।
আমরা নিজেদের মিথ্যে বলি।
বলি—
আমরা ভালোবাসি।
কিন্তু ভালোবাসা কোথায়?
সে তো মাংসের দোকানে
লোহার হুকে গাঁথা
একটি দীর্ঘ অপেক্ষা।
তারপর—
কুকারে জল।
হলুদ।
নুন।
লঙ্কা।
তেল।
আগুন।
তারপর
সিদ্ধ হতে হতে
একটি রক্ত মাংসের শরীর
তার নাম হারায়।
তারপর রিসাইকেল।
তারপর পরিবেশন।
তারপর
কারও ক্ষুধা।
কী অদ্ভুত—
এটা মানুষের কবিতা নয়।
শহর থেকে মফস্বল,
মফস্বল থেকে ঘর,
ঘর থেকে রান্নাঘর—
সকল রক্ত-মাংসের শরীরে
একই অপেক্ষা।
কেউ ভালোবাসার জন্য অপেক্ষা করে,
কেউ মৃত্যুর,
কেউ স্পর্শের,
কেউ ক্ষুধার।
অথচ শেষ পর্যন্ত
উদ্যাপনের আরেক নামই—
আমার বাড়িতে মাংস রান্না হচ্ছে।
মাংসের দোকান
ঋষি