Friday, December 21, 2018

পাললিক


পাললিক
............ ঋষি
============================================
গম্ভীর পলি
চোখের অন্তরায় সা রে গা মা পা নির্ভেজাল।
ছেলেবেলা
দ্রাঘিমাতে ধরা পড়া পেন্সিল স্কেচে অস্বচ্ছ কিছু যৌবন।
সময় ফুরিয়ে যাওয়ার হিসেবে জটায়ুর ধারালো ছুরি
যেটা শুধু আমার।
.
ছারখার উদযাপন
শহরের রাস্তায় সান্তাক্লস এখন বড় বাজারি।
বাজারি সময়
শহর ঢুকে আছে শহরের ভিতর  আলো জ্বালাবার প্রচেষ্টা
বড় কৃত্রিমতায়।
ঠিক এমন কথা ছিল না জোনাকি ধরার লোভে
পথ চলতি হারানো বেঁচে থাকা।
মৌলিক অঙ্গীকার
তোমার স্যান্ডেলে লেগে গঙ্গার মাটি আমি ছাড়া
দূরে ট্রেনের ভো
আমি ছাড়া আমার শহরে।
.
গম্ভীর পলি
শহরের নদীটা ক্রমশ জঞ্জাল পূর্ণ মানুষের জৈবিকতায়।
যৌবন
ক্যানভাসে ফুটে ওঠা অদৃশ্য প্রেমিকের ঠোঁট।
সময় ফুরিয়ে যাওয়ার হিসেবে প্রদোষ মিত্র
ছানবিন জীবনে। 

আন্তরিক

আন্তরিক
............... ঋষি
=============================================
অনন্তর আরো আ4ন্তরিক হোক শীতের স্পর্শে
গ্লিসারিন লাগানো ত্বকের বর্ণনার আরো সাবলীল হোক।
সাবলীল হোক সত্যি
কপাল পোড়া  কোনো কাপালিকের কাহিনী।
নিশি যাপন
গল্প থেকে বেড়িয়ে আরো নিদ্রাহীন হোক।
.
সম্ভার
গান্ধর্ব প্রথায় তুলে নেবো তোমায়।
বুকে ধামসা মাদল , যামিনী রায় লুকোনো রঙের আদর
সমস্ত আমোদ রঙিন যখন।
তুমি বললে কবিতা বদলাও ,বদলাও প্রেমিকা
আমি প্রেমিক কবি শুধু প্রেমের জপমালা বুনি।
জানলার বাইরে লাগানো আইসক্রিমের গাড়ি
শীত উপছে  নামা বরফ ঠোঁট।
বনলতা,নীরা ,সুরঞ্জনা ,চলন্তিকা কেউ রাস্তা হাঁটে নি
হেঁটে গেছে কবির বুকে শতাব্দী।
কোন যুক্তিবাদ, কোন বুদ্ধের বাগান, উপাসনা
প্রাচীন দিকভ্রষ্ট নষ্ট উদযাপন।
.
অনন্তদের বলা দরজা খোলা আছে যুগ
তুমি চলে এসো সম্পর্ক হয়ে।
তোমার মতে তোমাকে ছোঁয়াটা আমার স্পর্ধায় আগুন
মুখ পুড়ে যায় ,শরীরে জ্বালা ,সময়ের চিতাকাঠ।
দিন যাপন
গল্পের ভূমিকায় তোমার আমার বাঁচা। 

Wednesday, December 19, 2018

মহাকাল


মহাকাল 
.......... ঋষি
==============================================
তেমন করে কেউ ডাকে নি আমায়
কেউ মনে করে নি কোনো অন্ধকারে হাতড়ানো বাতিস্তম্ভে।
তবু ত্রিনয়নে জেগে ওঠে মহাকাল
অকালবৃদ্ধ সময়ের ওপারে দাঁড়িয়ে মনে আসতে থাকে।
এলোপাথারি শিহরিত শীতঘুমে সমান্তরাল কোনো এক পৃথিবীতে
তুমিও তো আমার কথা ভাবছো।
.
চোয়ালে চোয়ালে  চাপা উদ্বেগ অনবরত ছুটে চলা প্রতিক্ষণ
আর অসহ্য পলকে ভেসে উঠছো তুমি।
নীলাভ কৈশোর...
হাতছানি খুঁজে পাওয়া প্রেমিকার  ঝাপসা মুখ...
জাদুবিন্দুতে এগিয়ে চলা  রক্তের ঝনঝন শব্দ।
গা ছমছম  করে ,অথচ তুমি নেই।
অথচ তোমার স্পর্শগুলো  আমায় ছুঁয়ে যেন ছেলেখেলা।
দূরে কোথাও মাদলের শব্দ ছড়িয়ে পরে
সবুজ প্রান্তরে ঘাসের উপর সব ঝরা এক ফোঁটা স্বপ্ন ।
তুমিও হাসছো …
অবিকল অবিকল আমার স্বপ্নের  মতো শিহরণে।
.
জংলী পথ
মাইলফলকে তোমার পায়ের ছাপ, তোমার যাতায়াতের নির্দেশিকা।
শুধু মাঝে মাঝে, দু একটি প্রথাগত হত্যার মতো
আমার একেকটা দিন শুধু তোমায় ভেবে মৃতপ্রায়।
এলোপাথাড়ি শীতল হাওয়া আমার বার্তা নিয়ে হয়তো তোমার শহরে
দরজা খুলে যায়। 

ছায়া (৪)

ছায়া (৪)
............ ঋষি
=============================================
লম্বা হতে হতে ছায়াটা ক্রমশ চোখের আড়ালে
গতকাল কথোপকথন ,
নির্বাক বোধ ,ছলছলে চাহুনি,অসময়ের বৃষ্টি,অদ্ভুত তৃষ্ণা ।
সময় আজকাল শুধু আগামীতে থমকে আছে।
আর ভালো থাকাটা একটা অদ্ভুত যন্ত্রনা
জীবনটা কেমন ছোট হতে ,হতে বৃত্ত আবৃত অনাবৃত সময়।
.
নরম তুলোর বালিশ,লেপ ,তোষক সোহাগী আদর ।
ঘুম ভেঙে যায়।
বিছানায় উঠে বসি কোনো অনাবিষ্কৃত ছায়া
চরাচরে অজস্র মুখোশ থেকে উঠে আসে গোঙানির শব্দ।
মন খারাপ সামনে এসে দাঁড়ায়
তবু আগামীর আবিষ্কারগুলো কর্ণের জন্ম কাহিনী।
নিজের সাথে মানুষের সম্পর্ক
একই গুহার বাস করে একটা মানুষ আর তার ছায়া।
অজুহাত ছাড়াই যারা পাপ করে একে ,ওপরে
আর একটা ব্রিলিয়ার্ড খেলার টেবিলে  বলগুলো সব গড়িয়ে নামে নিচে 
সময় জিতে যায় কখনো ,আর কখনো বা মুখ কালো করে।
.
লম্বা হতে হতে ছায়াটা ক্রমশ হারাতে থাকে
বুকের ভিতর একটা ভয় আঁতকে ওঠে ,,,যদি ........
অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাও তুমি।
পাথর ছুঁড়ে মারি, মাপতে চাই ছায়াটা তারপর হয়তো ছবিটা।
যাতে মৃত্যুর আগে আমার মতো কেউ
নিঃশব্দে একদিন চিঠি আর ছবি দিয়ে যায় তোমাকে।




মুক্তি

মুক্তি
................ ঋষি
===================================================
দ্বাদশ শতাব্দীর কোনো সাহসী প্রেমিক প্রশ্ন তোলে
ভালোবাসা কি ?
উত্তরটা আকাশ বাতাস হাতড়াতে হাতড়াতে একরাশ ধোঁয়ার মতো
সময় আঁকড়ে জুলুজুলু চায়।
ভালোবাসা !
সময়ের অনুভবে বারংবার বদলানো শব্দ।
.
সে যুবক তার প্রেমিকার ঠোঁট আঁকড়ে বলে
ভালোবাসি। প্রশ্ন করে প্রেমিকাকে।
প্রেমিকা হাসে ,আর হাসে ,শেষে বলে এই যে তুমি ভালোবাসা।
ছেলেটা বুঝতে পারে না
কোনো মন্দিরে দাঁড়িয়ে ঈশ্বরের চোখের দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করে
উত্তরে ঈশ্বর পাথর হয়ে যায়।
বোরো বিরক্তিকর
সে সময়কে প্রশ্ন করে একই। কিন্তু উত্তর আসে না
শুধু সময়ের ফলাফলে উঠে আসে বিষ ,
ভালোবাসা সময়ের সুখ ,শরীরের সুখ ,বলতে সুখ।
ছেলেটা যন্ত্রনায় কুঁকড়ে ওঠে
আকাশের দিকে চায় ,কতো গভীর ,
কতো  পথ ছেলেটা একলাহাঁটে  ভালোবাসার মানে খুঁজতে।
.
সমস্ত শতাব্দীর ইতিহাস ঘেটে উঠে আসে
ভালোবাসার মৃত্যু গাঁথা।
কিন্তু কি ভালোবাসা ,আকর্ষণ,একসাথে থাকা ,দায়িত্ব ,বিশ্বাস
অজস্র শব্দ গুলিয়ে যায় মাথা।
জানলার গ্রিলে একটা পাখি এসে বসে ,ছেলেটা প্রশ্ন করে
পাখিটা উড়ে যায় , ছেলেটা হেসে ওঠে। মুক্তি !

Tuesday, December 18, 2018

নির্যাতিত

নির্যাতিত
.......ঋষি
===================================================
এ এক নির্যাতক রাত
জন্মের ক্যামেরার লেন্সে ধরা পরে জন্মের মুহূর্ত
অনন্ত কোনো জন্ম  নিষ্প্রভ কান্না।
সে যেন বাইচুং ভুটিয়ার পায়ে অসামান্য ড্রিবলিং
অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাস তুই
আর আমি না হয় ক্রস ফায়ারে আকাশের চাঁদে।
.
ফেনা শুকিয়ে অস্থি-নুন পড়ে থাকে
নুন গড়িয়ে নামে সময়ের ঘামে।
ঢেউ মিশে আছে
একটা আস্ত সমুদ্র, অথবা একটা মহাসাগরই বটে ।
মহাসংক্রমণের  হাসি,
হত্যা মহা পাপ ,অথচ আমি দৈনন্দিন নিহত অনন্ত যাত্রায়।
চকোলেটের  পুতুলের মতো মহাসাগরে গলে যেতে যেতে মনে হয়
সমুদ্রের লোনা  ঝাউবনের গন্ধ উষ্ণতায়।
নেমে আসছে আচ্ছন্ন ঘাম
বুকের কাপড়ে সুর্য আঁটোসাটো অন্তর্বাসের পালিত প্রসন্নতা। 
চামড়ার গঠনে চোখের রূপ  খুব গভীরে
বলতে ইচ্ছে করে এমন করে তাকাস না রাক্ষসী।
.
এ এক নির্যাতক রাত
বুকের স্যাকারিন বাড়তে থাকা সুগার লেভেল মধ্যস্থতায়।
 কফিমগের তলদেশে চামচের বেগ
ধোঁয়া ওঠে শরীর ,রোমকূপে লেগে থাকে প্রকট উচাটন।
অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাস তুই
জড় আমি হঠাৎ উঠে বসি মাঝরাতে হাতড়ানো কালোতে।

কবিতার স্যিগনেচার

কবিতার  স্যিগনেচার
.... ঋষি
==============================================
শব্দগুলো সব কিলবিল করছে
পার্ক, গাছ, ছাতা, কুলফি,বড়রাস্তা ,চুমু ,নির্ভরশীলতা
শ্রেণীবদ্ধ শীতল বৃষ্টি , সব উথালপাথাল ঢেউ।
মেনু কার্ড, রোমান্সের দুপুর,কান ঢাকা টুপি
 ডেবিট   অভাব ,ক্রেডিট বাঁচা
পেট চুক্তি, নিরিবিলি ক্ষুদার্থতা  । 
.
শব্দ জুড়ে ক্রমাগত জাগলিং প্রেমিকার ঠোঁট ,উষ্ণ কফিকাপ
মাঝে মাঝে দূরে পথের দিকে তাকাই
রৌদ্রোহীন স্যাতস্যাতে একটা অনুভব শিরদাঁড়ায় ।
ছেঁড়া সিনেমার টিকিট, আইসক্রীমের কাঠি, আধাখাওয়া চুমু
সব পড়ে আছে, একইরকম।
সেলিব্রেশন, রেস্তোরাঁ, ইন্টারকলেজ   কম্পিটিশন
কন্ডোমের মতো পরিত্যক্ত প্ৰাক্তন।
স্নানঘরে বাস্পে ভাসা আবছা চোখ 
আর বোকার মতো চেয়ে থাকা , ঠকে যাওয়া এঁটো মাটির ভাঁড়।
.
শব্দগুলো সব কিলবিল করছে
আমরা যেমনই থাকি, টলমল পায়ে আন্তরিক দৈনতা।
নিতান্ত অভ্যেসেই, আমাদের দুর্বলতা
কবিতার প্রেমের পাতা । বইটা তোমারি 
আর আমার শুধু অনবরত স্খলনে নতুন জন্ম
তোমার কবিতার  স্যিগনেচার ।

শুঁয়োপোকা

 রিংটোনে যা বাজে  তা আসলে মাথার ভিতর শুঁয়োপোকার লিখে চলা কবিতা  শুনলাম, বেশ কিছু জোঁক নাকি আবেদন জানিয়েছে প্রজাপতি হতে চেয়ে ওদের আবেদনপত্রগু...