Tuesday, March 5, 2019

অনন্তকাল


অনন্তকাল
...................... ঋষি
==================================================
নদীর নাম জানতে চাই না কেউ
শুধু নিজেকে আবিষ্কারের নেশায় কিংবা উপলব্ধিতে ডুব লাগায়।
যদি ভেসে চলে অনন্তকাল
সময়ের ক্ষত বুকে।
হাজারো রোমন্থনের শোক ,হাজারো সামুদ্রিক ঢেউ
স্বপ্ন দেখে যদি সমুদ্র।
.
ভিজে মাটি
চারিপাশে  থাকা বাসস্থান।,নদীর অলৌকিকতা।
সকলে পুজো করে
কেউ বা আদর করে মিষ্টি জলে ঠোঁট ভেজায়
কিন্তু জানতে চায় না কেউ।
নদী বয়ে চলে কালের ক্ষয়ে ,বুকে লেগে তৃষ্ণা,
যদি একবার মোহনায় দেখা হয়।
দেখা হয় সত্যি ,সত্যি সমুদ্রের সাথে
সমুদ্র চিনতে পারে না।
তবু যদি মিশে যায় ,সমুদ্রের বুকে মাথা রেখে স্বপ্ন বোনে
একবার যদি সত্যি হতে পারতাম।
.
নদীর নাম কেউ জানে না
শুধু অকাল সময়ের বিষন্নতা বুকে বয়স বেড়ে যায়।
পার ভাঙে।গভীরতায় জমে মাটি
যদি ক্লান্ত।
একদিন ভাসিয়ে দেয় দুইপারের অসংখ্য জনপদ
চিৎকার করে কাঁদে ,আর না সমুদ্র। 

বৃষ্টি এলো


বৃষ্টি এলো
.............. ঋষি
==============================================
শব্দরা সব যেন সারি দেওয়া পিঁপড়ে
মস্তিষ্কের নিউরনে অসংখ্য আসা যাওয়া।
অপ্রিয় সত্য
নিজের বুকে ছুরি মারার মতো কিছু আংশিক।
তবু আকাশে সারি দেওয়া মেঘ
এখন বৃষ্টি আমার শহরে।
.
সাদা পাতায় পায়ের ছাপ
কেমন যেন ধূসর হতে থাকা আলো এই সময়।
বৃষ্টি এলো
জানলার ধারে লেখার ডেস্কটপে পুরোনো ডাইরির তুই।
সময়ের মতো শব্দ বদলাচ্ছে
বিদ্রোহ কিংবা আদরের আদলে জীবনের ভূমিকা।
আজকাল বুঝে উঠতে পারি না
কেন লিখি ?
কি লিখি ?
শুধু সাদা পাতায় সারি দেওয়া পিঁপড়েরা ইচ্ছে লেখে
অসময়ের বাঁচার।
.
শব্দরা জব্দ হলে মুখবন্ধ ,মনখারাপ
মস্তিষ্কে জমে থাকা অসংখ্য চিরন্তন পায়ের ছাপ।
অপ্রিয় সত্য
সারা আকাশ জুড়ে চাপা মেঘ ,সারি দেওয়া ভাবনা।
এখন বৃষ্টি আমার শহরে
হয়তো পিঁপড়েরা ঘর গোছাতে ব্যস্ত।  

শেষের শুরু

শেষের শুরু
.................. ঋষি
==============================================
অতিক্রান্ত অলিগলি
বয়স পেরিয়ে দৌড়োবার ঝোঁক মানুষের।
নিঃশ্বাসে বিষ
বিশ্বাসে লেগে থাকা শেওলা কবিতা।
শেষের  শুরু
কিংবা ভাবনার শেষের কবিতা।
.
শুয়ে থাকা শরীর জলের তলায়
ঠুকরে যাওয়া ইচ্ছা বুকের ভাঁজে জমানো বাঁচা।
অন্ধকারের পথ চলা
স্বপ্নের সিঁড়ি
কিংবা ক্রমশ গুটিয়ে যাওয়া তোর মত শামুকের জীবন।
ইচ্ছারা ক্রমশ জংলী ঘোড়া
আকাশ ,পাতাল ছিটিয়ে ঘুমের ঘোড়া অনবরত টগবগ।
শেওলা লাগা শরীরের কবিতা
উঠে আসা নোনতা স্বাদ ,আঁশটে গন্ধ।
কবিতার মতো সময় যদি সত্যি হয়
কিংবা মিথ্যা
বাঁচার মত।
.
অতিক্রান্ত দূরত্ব
বয়সের চামড়ার ভাঁজে বালিঘর।
ডুবে যায় সারি দেওয়া সকাল থেকে সন্ধ্যে
অনবরত রক্ত ক্ষরণে।
জন্মের আমন্ত্রণ
আর নিয়ন্ত্রণের ঘরে শুধুই কবিতা।

Saturday, March 2, 2019

আজকাল পাও জমিপে

আজকাল পাও জমিপে
.... ঋষি
======================================================
সময়ের আঁচলে লুকোনো মুখ
তুমি আমি ব্রাত্য বড়।
শব্দের জাগলিং ,ওঠা ,পড়া ,ভাঙা  ,গড়া আমি বুঝি
তুমি বোঝো জীবনের দিনলিপি।
কাটানো সময় ,দুর্বলতা ,মুহূর্ত ,অনবরত ক্ষরণ বুকের ভাঁজে
সময়ের মেদুরতা।
.
চলন্তিকা আমি ডাইরি লেখা ছেড়ে দিয়েছি
আমার ভাবনারা বদলাতে বদলাতে আজ বস্তাপচা এই শহরের কাহিনী।
যেখানে পলিউশন আছে ,আছে ট্রাফিক
আছে ১০-৫ অজস্র ক্লান্ত মুখ ,সংসার ,সঞ্চয় ,ভবিষ্যৎ
কিন্তু স্বপ্নগুলো ব্রাত্য বড় সেখানে।
সেই গানটা "আজকাল পাও জমিপে নেহি পরতে মেরে
অদ্ভুত এই সময়ের দর্পনে ,তাও সম্ভব।
কেন যে আজকাল রাতে ঘুম আসে না
কেন যে আজকাল শুধু সময়ের অবান্তরতা পান্তাভাত আর নুন
বুঝে উঠতে পারি না।
আজ কোনো স্বপ্ন আসে না আর
কতদিন হয়ে গেছে আমি স্বপ্ন লিখিনি
লিখিনি কবিতা।
.
সময়ের আঁচলে লুকোনো মুখ
আমি ,তুমি শুধু বাঁচা।
আমি সেই বাঁচার গভীরে কোনো স্বপ্ন খুঁজে পাই না
পাই শুধু তোমার ক্লান্ত মুখ।
তুমি হাসো চলন্তিকা ,যেমন সর্বদা আমার কানের ভিতর সময়ের হাসি
আর সময়ের ব্যস্ততা।

অচেনা (২)

অচেনা (২)
....................... ঋষি
=====================================================
খুঁজছিলাম তোমার ঘর
একলা পথের ধরে দাঁড়িয়ে দেখা যেন বিশাল সমুদ্র।
আজকাল তোমার মুখটা ক্যামোফ্লেজ করে
কেমন যেন বদলে যায় পৃথিবীর মতো।
পৃথিবীর কথা যখন বলতে হলো চলন্তিকা
আজকাল আমার আর নিজেকে মানুষ বলে মনে হয় না।
.
সাতসমুদ্রের পাড়ে
শ্বাশত কোনো আগুনের ভিতর বড়ো বেশি অভ্যস্ত আমি তোমাকে দেখায়।
বুকে ঝড় ওঠে ,গলার কাছে আটকে থাকে শব্দগুলো
যত গন্ডগোল ,কিছুতেই সত্যি বলা হয় না।
অভ্যস্ত কথোপকথন ,অভ্যস্ত ঝোড়ো হাওয়া
অভ্যস্ত প্রাচীন মন্দিরের গায়ে জমতে থাকা শেওলা।
সময় জামা বদলায়
আমি কোনো ছেঁড়া পাঞ্জাবির পকেটে হাত দিয়ে তোমাকে খুঁজি।
কখনো স্বপ্নে সেই ভাঙা ঘর ,ভাঙা দরজার ওপারে তুমি
আমি চোখ রগড়ায় বড় চেনা অথচ অচেনা তুমি।
সময় পেরোয় ক্রমাগত ধৃষ্টতায় আমি মুখ লুকোয় তোমার বুকে
খুঁজে পায় দুটো হলুদ পাখি ,বড় আদরের।
.
খুঁজছিলাম তোমার ঘর
একলা সমুদ্রের ওপারে তখন অনবরত গম্ভীর আহবান।
আজকাল আমার সমুদ্রকেও বড় অচেনা লাগে
কেমন দূরে সরতে থাকে।
শুধু পৃথিবীর পথে হাঁটতে ,হাঁটতে চলন্তিকা
আজকাল কেন যেন নিজেকে বড় এক মনে হয়।

.

অন্য হাওয়া

অন্য হাওয়া
................ ঋষি
==============================================
কথা দিয়েছিলাম ঠিক দেখা হবে
হয়তো বছর কুড়ি কিংবা আরো পরে কোনো একদিন।
তোকে বলার আছে অনেককিছু
হয়তো তার থেকে অনেক বেশি শোনার।
সময়ের কোলাহলে আজকাল বাঁচাটা বড় যান্ত্রিক
শুধু যান্ত্রিক নয় হৃদয়ের হঠাৎ ছোঁয়া অন্য হাওয়া।
.
কথা দিয়েছিলাম
হয়তো আমাদের ফুরোনো চুমুটার আবার পুনুরাবর্তন হবে।
কোনো বড়ো রাস্তার ব্রিজের উপর দাঁড়িয়ে
হঠাৎ করে জড়িয়ে ধরবি তুই।
বলবি
আচ্ছা আমি যদি হঠাৎ হারায় কি করবি  ?
আমি আমার ছন্দে একরাশ আকাশে ধোঁয়া ছেড়ে বললাম
কবিতা লিখবো।
তখন তুই আমাকে আগলে ধরে বলবি
আর যদি কোনো দিন হঠাৎ করে হারিয়ে গিয়ে  ফিরে আসি
আমি হাসলাম বললাম চুমু খাবো ।
তুই হাসলি  মুখ বেঁকিয়ে
বলবি  শুধু চুমু ,জড়িয়ে ধরবি না আমায়।
.
কথা দিয়েছিলাম ঠিক দেখা হবে
আজ অনেক বছর পর তুই হেঁটে গেলি আমার পাশ দিয়ে।
আমার বুকের গভীরে পুড়ে গেলো অনেক পুরোনো কথা
শুধু কথা হলো না আর শোনাও না।
আসলে সময় কখনো কথা রাখে নি আর তুই তো সময়
চলে গেলি কিন্তু রেখে গেলি  অন্য হাওয়া।


চালশে

চালশে
..... ঋষি
===================================
সময় ফুরোতে থাকে
অথচ চলন্তিকা তোকে ফুরোতে চায় না মন।
সকালে আলোতে নতুন কোনো উৎসব
উৎসর্গ জীবন শুধু তোতে।
.
আচমকা ঘুম ভেঙে যায়
মুখের উপর সকালের আলো জানলা ভাঙা উৎসব।
উৎসব প্রতিদিন আমার শহরে
বদলানো ইতিহাসের দিশা লিখতে চাওয়া সময়ে।
চৌরাস্তায় দাঁড়ানো বিপ্লবী পাষান
দিক দর্শন করে ভূমিকা বদলাবার পায়রারা  আকাশে।
.
আজকাল কবিতা আসে না
পথ চলতে পথ দূরে সরতে থাকে রাজনৈতিক মঞ্চে।
শব্দের জাগলিং করা এই জোকারটা
রাজ্ কাপুরের লিপে গান করে জিনা ইহা মরনা ইহা।
শুধু চারিপাশে ঋতুরা বদলাতে থাকে
চোখে চালশে।
.
সময় ফুরোতে থাকে
অথচ চলন্তিকা তোর বয়স বাড়ে না।
বাড়ে না আমার মনের বয়স
শুধু একান্ত আপন এই সময়ের বয়স বেড়ে যায়। 

শুঁয়োপোকা

 রিংটোনে যা বাজে  তা আসলে মাথার ভিতর শুঁয়োপোকার লিখে চলা কবিতা  শুনলাম, বেশ কিছু জোঁক নাকি আবেদন জানিয়েছে প্রজাপতি হতে চেয়ে ওদের আবেদনপত্রগু...