Saturday, November 27, 2021

আরেকটা দিন

 আরেকটা দিন 

... ঋষি 


ডানা ঝাপটে শীত এসে বসে এই শহরে মাছরাঙার মতো 

শীতের দুপুরে রোদের অপেক্ষাতে নেমে ঘুমের কথা

আসলে কথা ফুরিয়ে গেলে 

মানুষের ঘুম পায় 

দুটো ক্লান্ত মানুষ উল্টো দিকে পথ হাঁটে বেঁচে থাকার ভয়ে

কিংবা একা থাকার । 

.

আমাদের শান্ত উঠোনে তখন বোমারু বিমানের চিৎকার 

ফায়ার ,হল্ট চিৎকারগুলো ভীষণ চেনা ,

সেই হত্যালীলার সাক্ষী আমি 

যেখানে মৃত্যুর পরেও মানুষকে বাঁচতে হয়  ,

তবে তফাৎ এটা 

মোটা চশমার পৃথিবীতে আমার পায়ের শব্দ পাওয়া যায়। 

.

অথচ এই একলা দুপুরে তুমি হাঁটতে থাকো অ্যালকোহলিক রাস্তায়

আর আমি শ্মশানের স্তব্ধতাগুনি আজকাল ঘড়ির কাঁটায় 

তারিখ ফেটে জন্ম নেয় এক একটা উৎসব 

অথচ বৃদ্ধ আমি 

পুরানো ছাদের কার্নিশে একলা দাঁড়ানো কবিতা ,

সময় আর  উত্তাপগুলো পরিবাহিত হয় না আর

স্তব্ধতা পাগল করে না আর 

আর বলি না আমি ভালো নেই 

শুধু প্রতিদিন রাত হলে বুঝি 

মুক্তি আরেকটু কাছে।  

 


পাখি


 

পাখি 

... ঋষি 

.

পাখির আকাশের সাথে  আমার ঢের মিল

স্যান্ডপাইপার পাখির মতো আমি চষে বেড়াই পৃথিবী

মিলনইচ্ছুক হৃদয়ের  মতো উড়ে বেড়াই এখানে-ওখানে তোমায়  খুঁজে 

আলাদা শহর তল্লাশি করি সহস্রবর্গমাইল।

.

সঙ্গীহীন একটা  বিকেলের গল্প এটা 

তুমি যাকে অবেলার গল্প বলে তুলে রাখো তোমার আলমারির উপর 

              আমি তাকে তোমার হৃদয়ের মাপ বলি 

আমি বলি বিশ্বাসের হাতে তোমাকে ছোঁয়াটা ঈশ্বর 

বাকিটুকু প্রতিহংসা। 

 .

ভালোবেসে যদি সময় ছুঁয়ে দিতো  

ও ঠোঁটে অযুতনিযুত বছর শুধু শুকিয়ে থাকা মরুভূমি ,

কে দেবে জিভ 

           কে দেবে চাহুনি 

আমাদের স্বতন্ত্র ভাবনায় ভগ্নাংশ সামাজিক একটা নিয়ম 

                 সর্বোপরি আমি অধিকারগ্রস্থ 

           তুমি চিন্তায়। .

.

দিন শেষের দিনলিপি 

                 জানি ,

                   ও তল্লাটে প্রেম শুধু খিদের মতো মাটি আঁকড়ে 

ও তল্লাটে এখন পুরোনো জমি ফিরে পাওয়ার লড়াই,

                    সময়ের হিসেবে, এখনো ঘড়ি শুধু একটা নিয়ম মাত্র 

 জানি ,

        সময়ের শেষে দলছুট ,আকাশছুট পাখির সংখ্যা খুব কম না। 


 

Friday, November 26, 2021

ভাবনার পাথর

 


ভাবনার পাথর 

... ঋষি 


রবীন্দ্ৰনাথ বুঝেছিলেন কাগজ আর কলমের সহবাস 

তারপরেও অনেকে বুঝলেন সেই কথা ,

রামকিঙ্কর বুঝলেন পাথরের শোক 

তিনি লিখে ফেললেন পাথরের ভাবনায় সময়ের আলাপচারিতা ,

আমরা কি বুঝলাম তার থেকে 

মূর্খ আগামীর অবলম্বনে শুধু সৃষ্টির প্রহসন ?

.

সব উত্তর দেবো না কখনো 

বলেছি চলন্তিকাকে ,

সব কষ্ট যদি বলে দি তোমাকে 

তুমি ভাববে কাগজ ,কলম আর পাথর শুধুমাত্র পাথেয় 



পথিক যে 

সে ভাবে পৃথিবীটা মানুষের হোক। 

.

জন্ম যেখানে মিথ্যে কথা বলে 

সেখানে তোমার রাত জেগে কি লাভ চলন্তিকা ?

বরং তুমি 

রবীন্দ্রনাথ ভাবো 

ভাবো কোপাই নদীর  সামনে কাকে খুঁজছিলো সেদিন ?

কাকে খুঁজছিল মাঝ পদ্মার জ্যোৎস্ন্যায় ,

কিংবা তুমি ভাবতে পারো রামকিঙ্কর 

পাথরের ঈশ্বর 

কিভাবে পাথর ভেঙে তৈরী করেন হৃদয় 

কিভাবে তিনি পাথর দিয়ে সময় তৈরী করেন 

কারণ তুমি জানো 

পাথর দিয়ে মানুষ তৈরী হয় না 

সময় তৈরী হয় না 

কিন্তু ভাবনারা পাথর হয় বটে।  q

অনুভূতির পাথর

 


অনুভূতির পাথর 

... ঋষি 


পৃথিবীর সবথেকে দামি পাহাড়টা আমি ছুঁয়েছি 

পোশাকের ভিতর ,পোশাকের বাইরে সবটুকু ছুঁয়ে বুঝেছি  

সময় আসলে অস্থির পাঁজরের টুকরো 

যেখানে আঘাতের পর আঘাতে বেসামাল পাথর তৈরী হয় 

তৈরী করে  মৃত অনুভূতির পাহাড়। 

.

যখন সমস্ত চিঠিরা নিজের ঠিকানা মুছে ফেলে 

তখন মেইলবক্স বাউন্সব্যাক করে 

যখন সমস্ত ফ্রেম অদৃশ্য হতে থাকে 

তখন  নিজের অজান্তেই মৃত সম্পর্কেরা কথা বলে ,

অদৃশ্য মেরুতে সেই কথোপকথন সাক্ষী রাখে আগামীর 

আসলে পৃথিবী  মিথ্যা তখন। 

.

যখন পৃথিবী তার আশ্চর্য আবর্তনে স্পর্শ অকারণে করে 

ঠিক তখন দূরে কোথাও মানুষগুলো পাথর হয়ে যায় ,

তারপর পাথরের পর পাথর জমে 

শেষে কখন যেন পাহাড় 

সে যে অনুভূতির পাহাড়। 

তবে কি পাথর বীতশোক? নাকি এক পাথরের মতো লোক

ক্রমশঃ ডুবতে থাকে পাথরে পাথরে

কান্নার শব্দ 

হাহাকার 

নিরাকার 

অনুভূতিরা যে পাথর তখন। 

নীরবতা

 নীরবতা 

... ঋষি 


নীরবতা কোন সময়ের নাম নয় 

নির্জনতা নাগরিক অভ্যর্থনাপ্রাপ্ত একটা বেরসিক দিন ,

অসম্ভব নামের কোনো ভাবনা সময়ের বাতিস্তম্ভে অন্ধকার নেভায় 

প্রাম্ভিক নামের কোনো সফর ছায়া সঙ্গী,

আমি বলি চলন্তিকা 

তোমরা সময় বলতে পারো। 

.

আগুন নিভে যায় 

জীবন কোনো আগুনের দিকে শেষ অবধি মুখ করে দাঁড়ায় 

উত্তাপ বুকের ওমে মনে করায় 

ঋতুপরিবর্তন ,

দিন কাটে ঠিক এই শহরে প্রতিদিনকার ছলনায় ,

..

একটা ভূমিকা দিয়ে পরিচয় শুরু 

তারপর কাঁটা তার পেরিয়ে সময় গিয়ে দাঁড়ায় ভাবনার ঘরে ,

সকলে মাটি খোঁজে অকারণ 

কিন্তু ভাবনার মাটির তল ,সে কি আর পাওয়া যায় ?

আসলে সব অধ্যায় শেষ হয়ে গেলে 

সকলের উপন্যাসের শেষটুকু লিখতে হয় 

কিন্তু উপন্যাসের শেষে  সময় ছাড়া আর কি থাকে ?

উত্তরটা ঈশ্বর লিখেছেন ইতিহাসে 

     তু 

          ন

পাতা। 

ঠিকানাহীন

 ঠিকানাহীন 

... ঋষি 


ঠিকানাহীনকে উৎসর্গ করলাম এই পৃথিবী 

তোমার ঠিকানায় নিজেকে রেখে দিল গোপন একটা গল্পে ,

সবাই বলে আলপিন ফুটিয়ে জীবন আটকানো যায় না 

অথচ তোমার গল্পে অচিনপুর ছুঁয়ে থাকে। 

.

এখন প্রশ্ন হলো, কেন?

তোমার ঘর কেন  নিশ্চিন্তপুর  নয়

তোমার ঘর নিশ্চিন্ত না হলেও আমার মতো অশান্ত নয় 

আসলে মানুষ একটি বাঁশির জন্য কাটাতে পারে একটা জীবন 

আর বাঁশির শব্দে শুনতে পায় 

বেঁচে থাকা। 

.

ঠিকানাহীনকে উৎসর্গ করলাম আমার এই উপস্থিতি 

এই পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে আমি 

আর আমার গল্পে 

              আগুনের যন্ত্রনায় চলন্তিকা। 

এখন প্রশ্ন হলো, কেন?

যে কোনও নামেই হোক, স্মৃতিভ্রষ্ট মানুষের অতীতের  চারণভূমি 

ভবিষ্যৎ তৈরী করে 

অথচ আমার ঠিকানায় ভবিষ্যৎ একটা পন্থা। 


Wednesday, November 24, 2021

আমি শক্তি চট্টোপাধ্যায়



 আমি শক্তি চট্টোপাধ্যায় 

/// ঋষি 


আলাদিনে চাঁদ আমি 

হ্যা হ্যা আমি শক্তি চট্টোপাধ্যায় 

There's a fine line between genius and insanity

আমাকে দেখো বুঝবে ,

হ্যা আমি ঈশ্বর ,আমি ভাবনা ,আমি প্রগতি 

আমি বারোয়ানার সংস্কৃতি দিয়ে বাংলা জলে নেশা করি। 

.

আমি হাংরি আন্দোলন 

আমি আগুনের  কলম অবনীর বন্ধু

আমি মানে মীনাক্ষী,আমি মানে তিতি 

আমি মানে যুদ্ধ ,আমি মানে সংসার 

আমি মানে ধ্বংস ,আমি মানে বন্ধু  

হ্যা আমি 

হ্যা হ্যা  আমি শক্তি চট্টোপাধ্যায় 

আমি মানে কবিতা। 

.

 নিরুত্তরের উত্তর 

ভাবনার দাবানল 

হ্যা আমি 

 " মনে মনে বহুদূর চলে গেছি – যেখান থেকে ফিরতে হলে আরো একবার জন্মাতে হয়

জন্মেই হাঁটতে হয়

হাঁটতে-হাঁটতে হাঁটতে-হাঁটতে "

.

হ্যা আমি ভাবতে পারি ,আমার কলমে বিষ 

আমার কলমে প্রেম ,সময় ,

আমি জানি  "তুমি ধর্মে  আছো জিরাফেও আছো "

আমিই সে যে  তোমার  "সোণার মাছি খুন করেছি "

হ্যা হ্যা আমি "অন্ধকার নক্ষত্রবীথি তুমি অন্ধকার " 

আমার বাড়ি  "পাড়ের কাঁথা মাটির বাড়ি  "

আমি চাই "প্রভু নষ্ট হয়ে যাই " 

তবু "সুখে আছি "

আমি আছি 

হ্যা আমি শক্তি চট্টোপাধ্যায় 

আজ তোমাদের বলতেই হবে আমাকে 

শুভ জন্মদিন।   


.

( আমার প্রিয় কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের জন্মদিনে আমার কবিতার শ্রদ্ধার্ঘ্য )


শুঁয়োপোকা

 রিংটোনে যা বাজে  তা আসলে মাথার ভিতর শুঁয়োপোকার লিখে চলা কবিতা  শুনলাম, বেশ কিছু জোঁক নাকি আবেদন জানিয়েছে প্রজাপতি হতে চেয়ে ওদের আবেদনপত্রগু...