Saturday, April 1, 2017

বাউলের সুর

বাউলের সুর
........... ঋষি
===============================================
তোর ব্রার শেষ হুকটা খুলে গেলো
অমনি দূরে কথা থেকে শুনতে পেলাম হৃদয়ের মাঝখানে বাউলের সুর ।
" লোকে বলে বলেরে ঘর-বাড়ি ভালা নাই আমার "
আমি চেয়ে আছি উপত্যকায়।
তোর নাভিমূল বেয়ে বাড়তে থাকা ইচ্ছেগুলো সব অপারক
আর আমার আকাশের পাখি তখন ঈশ্বর স্পর্শ করছে।

আচ্ছা মাটি লেপে যদি ইচ্ছে বানানো যায়
তবে তোর ভিতর কেন আমি একটা আস্ত বাড়ি বানাতে পারবো না।
তোর স্তনের সোনালী বৃন্তগুলোকে
আমি কেন পিরামিড বলতে পারবো না।
কেন আমি পাহাড়ে বারংবার হাঁপিয়ে গিয়ে লটকে পড়ি প্রবল বাসনায়
কেন আমি উঠতে পারবো না তোর ভিতরে একটা আদরের ঢেউ হয়ে।
সকলে সমুদ্র দেখে
আর আমি লিখি কবিতা মাস্তুল ছাড়া কোনো ঠিকানাহীন জাহাজ।
তার চোখের কাজলে কালিতে
কেন আমি আদর লিখতে পারবো না।

তোর ব্রার শেষ হুকটা খুলে গেলো
সমস্ত অস্তিত্ব জুড়ে যেন কোনো রোমান নারী নিজস্ব ভঙ্গিমায়।
আচ্ছা ঈশ্বর কি শুধু দর্শনের মাঝে থাকে
নাকি শুধু লেখা হয় একটা সিস্টেম ,একটা আদপ নিরাপদ ভঙ্গিমায়।
এই মুহূর্তে আমি তোর বুকে ঈশ্বর খুঁজতে পারি
কিন্তু আবার শুনতে পেলাম " কি ঘর বানাইমু আমি শূণ্যের মাঝার " ।

আর কতদিন

আর কতদিন
........... ঋষি
===================================================
কাটছে ক্রমশ বর্তমান আরো অতীতে
আরো অন্ধকার থেকে উঠে আসছে অনির্ণীত ভবিষ্যৎ তার আপন তালে।
আর কতদিন
এবার আমার সংরক্ষণ দরকার।
বিপন্ন ফসিল  ভেবে না হয় সাজিয়ে রাখো সময় কোনো অভিজাত জাদুঘরে।
কিংবা নিকেশ করো  শত্রু সেজে মৃত্যুবোমা।

নাগরিক সমস্ত আলোড়ন ভুলে গিয়ে  বাণপ্রস্থে যাব,
অন্তত ইচ্ছে স্বরূপ না হয় বার্ধক্য দরজায়।
মধ্য চল্লিশের পরিচিত যুবল লম্বা লম্বা পা ফেলে হেঁটে চলে যাবে
বাঁধিয়ে রেখেছি দাঁত, ঠোঁট, লালা, লালসা।
না হয় একবার তোমার জন্য শুধু রূপকথায় যাবো
লিলিপুট দেশে তুমি কোন গ্যলিভার।
আমাদের ছোট নদী। চলে আঁকে বাঁকে , ছোট তার সাঁকো
সেই দেশে কোনো সদ্য প্রেম।
জোয়ারে ভাটায় আরো  ছোট সেই পৃথিবীতে আমি স্থির ঈশ্বরের চোখ।
কোনো জন্ম নয়,নয় কোনো মৃত্যু
শুধু অবধারিত এক ক্ষনিকের সফর নিজের ইশারায়।

কাটছে ক্রমশ বর্তমান আরো অতীতে
আরো অন্ধকারের মুখগুলো ভীষণ যেন চেনা মনে হয় বেলাশেষে।
আর কতদিন
এবার একটা ইন্তেকাল দরকার।
বিপন্ন হারিয়ে যাওয়া কোনো রূপকথার মতো জমতে থাকা ইচ্ছেগুলো
এইবার ছাপাবার সময় হলো। 

শাশ্বত,আমি আর চলন্তিকা

শাশ্বত,আমি আর চলন্তিকা
........ ঋষি
====================================================
চলন্তিকা মাঝে মাঝে আমাকে পাগল বলে
যখন কোনো অশ্রাব্য কবিতায় আমি বন্য আদর।
কিন্তু আমি জানি আমি কখনো শ্বাশত হতে পারবো না
কারণ শাশ্বত একজন ম্যাচো ম্যান।
আর আমি একটা আরশোলার মতো বাড়তে থাকা আরব্য রজনী
তাই বলে চলন্তিকা আমাকে একলা করে না তা না।

শ্বাশত সময়ের পুরুষ
তার অজস্র প্রেমিকা। বুকের লোমশ জঙ্গলের আদলে কোনো বাঘ অপেক্ষা করে।
আর আমি একঘেয়ে কনসার্টে বাজতে থাকা দুঃখের নদী
শুধু বয়ে চলি  ,চলন্তিকাকে স্পর্শ করি আর কাঁদতে থাকি।
আদম সুমারী কাছে এসে পরে ,আমি ভীত হই
আবার তো বাড়তে থাকবে শ্বাসতের দল,আমি একা,আরো একা
পাখির্ ঠোঁট থেকে যেমন অজান্তে  বীজ পরে যায়
 তারপর  বীজের কোটর থেকে চারা, সেইভাবে বংশ বৃদ্ধি হচ্ছে  শ্বাশতদের
প্রতিবেশী বাড়ছে ক্রমশ আশেপাশে?
বর্তমান মানেই আমার কাছে একটা অতীত ,শ্বাসতদের কাছে সময়ের পরিবর্তন।
তবুও
অতীতের কাছে ফিরে আসতে চেয়ে,আমি  ক্রমে শূন্যতার কাছে এসে পড়ে
 আর শ্বাশতরা আরো এগিয়ে যায় সময়ের নায়ক।

চলন্তিকা মাঝে মাঝে আমাকে পাগল বলে
প্লাটফর্মে দাঁড়িয়ে থাকা আমি নিজের ভিতর আরো অস্থির হয়ে পরি।
আসবে তো চলন্তিকা
অসহ্য লাগে, বিকেলের রোদ নিয়ে ডাউন  লোকাল এলে লোক নামে, লোক ওঠে।
ওইতো চলন্তিকা  জানলার পাশে রোদ পড়া মুখ ভীষণ  চেনা লাগে। চলন্তিকার মুখে চশমা
আর চশমার কাঁচে আমি আমি শ্বাসতদের দেখতে পাই

..

সত্যি মিথ্যে

সত্যি মিথ্যে
.......... ঋষি
================================================
অনেকগুলো কথা আটকে আছে গলার কাছে
নিত্য এই অশান্তি জীবনের সত্যিগুলো সব নিজস্ব ভঙ্গীমায় নিদ্রায়।
আর মিথ্যাগুলো শুধু  গায়ে আটকে থাকে
কেউ অফিস ফেরত টিভির পর্দায়।
কেউ সংসার করে ,কেউ বাজারে যায় ,কেউ ভাত খায়
কিন্তু সত্যিগুলো আকাশে উড়তে থাকে।

হঠাৎ আনমনে মুখথুবড়ে পরে
হঠাৎ মাঝে মাঝে ঘুম ভেঙে যায় মাঝরাস্তায় এক অসস্ত্বি।
এই নাগরিক জীবনে আয়নায় দেখা চেনা মুখ
দশটা,পাঁচটা ,মোহনমাগন ,ইস্টবেঙ্গল ,ইন্ডিয়া কে তোহার আইপিএল
সব মিথ্যা লাগে ,ভীষণ মিথ্যে।
উড়তে উড়তে আকাশে সত্যিগুলো হাতছানি দেয়
কেউ কেউ নীল আর্মস্ট্রং হয়ে চাঁদে পা রাখে।
চাঁদের বুড়ি চরকা কাটতে কাটতে রূপকথা হয়ে যায়
কখনো চাঁদের গায়ে কলঙ্ক।
বড়ো একা লাগে
রূপকথাগুলো নিজের কাছে স্বপ্ন মনে হয়।
আর মিথ্যেগুলো সব যাপন
অনেকগুলো সত্যি দমবন্ধ করে ফুঁপিয়ে কাঁদে।

অনেকগুলো কথা গলার কাছে টুটি চিপে ধরে
বলতে বলতে আনমনে হঠাৎ কোথা থেকে চলন্তিকা চেনা কবিতায়।
মুখ টিপে হাসে ,চেনা আমন্ত্রণ ,খুব সত্যি
তারপর মারাত্নক ঝড় ,দুর্যোগ  ,সব মিলেমিশে অন্ধকার রাত।
হাতড়াতে থাকে সত্যিগুলো নাভিশ্বাসের মতো
আর মিথ্যাগুলো আসলে জীবন থেকে যায়। 

আর একবার

আর একবার
........... ঋষি
==============================================
দুজনে কখন কাছাকাছি আসে  ,কিংবা আসতে চায় ?
প্রশ্ন করেছিল চলন্তিকা আমাকে।
উত্তর খুঁজেছি ,কিন্তু ঠিক বুঝি নি
এই মহানাগরিক ভূমিকায় দুটো মানুষ একসাথে কি চায়।
বেঁচে থাকার কিনারায় একটা আস্ত নদী
শুধু জীবন আর আমি একসাথে নদীর জল।

নদী বইছে
যেন জীবন কোনো তিরতির বয়ে চলা কাব্য।
নিশ্চিন্ত ,নিদ্রাহীন একটা স্পর্শের গভীরতা ছুঁয়ে
বারংবার মিশতে চাইছে ,মিশে যেতে চাইছে কোনো আকুলতায়।
অথচ মোহনা একটাই
বারংবার কাটাকুটি অজস্র শিরা ,উপশিরা ,নিয়মিত যাপন।
হাজারো মুখ ,হাজারো কাব্য ,হাজারো অধিকার
কিন্তু মোহনা একটা
আর একবার।

দুজনে কখন মিশে যেতে চায় কিংবা একসাথে বাঁচতে
চলন্তিকার প্রশ্নে চমকে উঠেছিলাম সেদিন।
পথ চলতি একটা ট্যাক্সিতে লুকোনো কাঁচের আড়ালে চলন্তিকার চোখ
কোনো কাজল লাগানো অনন্ত সমুদ্র।
আমি বলেছিলাম মিশে যেতে চায় প্রতিদিন ,বারংবার ও চোখে
কিন্তু সময় ,সে কি কখনো আমাদের কোনোদিন ?

বদলে দেবো

বদলে দেবো
.......... ঋষি
========================================
ভিখারীর মতো তোমার দুয়ারে
দুচার খান স্পর্শ যদি আদর হয়ে নামে।
দিব্যি করে বলছি বদলে দেব আবর্তনের নতুন নিয়ম কাঠি
হৃদয় বলে জড়িয়ে নেবো আকাশের মেঘ।
সেদিনও বৃষ্টি হবে
সময়ের ফাঁকে সময় ,শুধু বদলে দেবো।

এই এত আলো ,এত আকাশ আগে দেখি নি
সোজা একটা নীল  রং  বুক চিরে বিদ্যুৎ  এপারওপার হৃদয়।
কাঁচের হৃদয়ে শুধু গেঁথে দেব
আলোকের সুর।
কই চোখে পড়েনি কোনোদিন এর আগে এমনতর রূপ
ঝর্ণার মতো ঝরতে থাকা কোনো অবিশ্রান্ত ধারা।
এই মন তো কখনও কাউকে এত আপন করেনি
শুধু আরো গভীরে আরো গভীরে
মিশে যাওয়া।
বিশ্বাস করো
দুঃসাহসের ডানা মেলে তাই, দূরে দূরে যাই
হারিয়ে যাওয়ার লগ্ন এলো, হারিয়ে যেতে চাই।

ভিখারীর মতো তোমার দুয়ারে
হাত বাড়িয়ে আকাশের মুঠোয় নীলচে রঙের সুখ।
তোর চোখের কাজল ,বুকের তিলে নিরিবিলি লিখে যায়
সারা জীবন পাওয়ার আশায় দু হাত পেতেছি।
এবার আমি অজানা এক নেশায় মেতেছি
যদি  দুচার খান স্পর্শ আদর হয়ে নামে। 

ফুচকা ওয়ালা

ফুচকা ওয়ালা
,,,,,,,ঋষি
===============================================
মাঝে মাঝেই একটা স্বপ্ন দেখি
একটা ফুচকার  ঝুড়ি  আর অনেক ফুচকা একসাথে।
আমিও আছি সেখানে
খাদ্য ,খাদকের মানসিকতায় আমিও মিশে আছি সেখানে।
ফুচকা ওয়ালা টক জল গুলচে তেঁতুলদিয়ে ,প্রশ্ন করছে আরেকটু টক হবে দিদি
আমি অবাক হয়ে অপেক্ষা করছি এই বোধহয় আমিও।

এই শহরের নাগরিকত্বে
চারি পাশে  অসংখ্য ফুচকাওয়ালা আর অসংখ্য ক্রেতা তার।
ভীষণ সুস্বাদু স্বাদকোরকে  প্রচুর আদর
জিভে জল আসা।
কিন্তু ততক্ষন ,যতক্ষণ ক্রেতার পকেট পারমিট করে
কে একজন মেয়েলি গলায় বলে উঠলো আরেকটু মশলা  দিলে ভালো হয়
ফুচকাওয়ালা তার ব্যস্ত হাতে আরেকটু লংকার গুঁড়ো।
চারিদিকে ফুচকার দোকান
আমি ,তুমি সবাই নাগরিক অপেক্ষায় এই বোধ আমি কিংবা তুমি
তবে নম্বর তো আসবেই ,না হলে ক্রেতারা খুশি হবে কি করে।

মাঝে মাঝে একটা স্বপ্ন দেখি
ফুচকা ওয়ালা স্কুলের গেটে তার চলতি পসরা লাগালো।
ঢং ঢং করে টিফিনের ঘন্টা ,অনেক স্বপ্ন ছুটে আসছে
ফুচকার দোকানে ভিড়।
আমাকে ফুটো করে আমার নাড়ি ,ভুঁড়ি বের করে কি সব মশলা
ঘুম ভেঙে যায় প্রতিবারে।


  

শুঁয়োপোকা

 রিংটোনে যা বাজে  তা আসলে মাথার ভিতর শুঁয়োপোকার লিখে চলা কবিতা  শুনলাম, বেশ কিছু জোঁক নাকি আবেদন জানিয়েছে প্রজাপতি হতে চেয়ে ওদের আবেদনপত্রগু...